kalerkantho

চার মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি

সাভারে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ১৬:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাভারে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অনশন

চার মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাভারে বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সাভারের রাজাশন এলাকার সিগনেচার ইন স্টিচ অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের কারখানাটির শতাধিক শ্রমিক সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া একাধিক শ্রমিক জানান, তাদের কারখানার ২৭০ জন শ্রমিকের ২০১৮ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর ও চলিত বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন প্রদান না করে হঠাৎ গত ২০ ফেব্রুয়ারি কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করেন কারখানা মালিক অহেদুল ইসলাম। প্রতিদিনের মত শ্রমিকরা গত ২০ ফেব্রুয়ারি কাজ করতে গেলে কারখানার গেটে তালা ঝুলতে দেখতে পায় শ্রমিকরা। পরে তারা কারখানাটির মালিক ও ম্যানেরজারের সঙ্গে নানা ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁদের সঙ্গে দেখা মিলেনি।

কারখানাটির অপারেটর রিনা বলেন, ‘আমরা কয়েকবার আমাদের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো ভাবে যোগাযোগ করতে পারিনি। এছাড়া এর আগেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্মারকলিপির মাধ্যমে আমারদের এ সমস্যার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়েনি। তাই নিরুপায় হয়ে আজ আমরা সবাই উপজেলা চত্ত্বরের ভিতরে অনশনে বসেছি। আমাদের কোনো ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে যাবো না।’ 

কারখানাটির ফিনিশিং ইন্চার্জ ছগির হোসেন বলেন, ‘বেতন না দিয়ে মালিক শুধু আমাদের আশ্বাস দিতো। আমরা কেউ যদি চাকরি ছেড়ে দিতে চাইতাম তাহলে তিনি চাকরি ছাড়তে নিশেধ করতেন। আমরা আমাদের কাজ করার টাকাই তো চাইছি। বাড়িওয়ালারা আমাদের আর তাদের বাড়িতে রাখতে চায়না। বাসায় খাবারও কিছু নেই। দোকানে বকেয়া পড়ায় তোকানী আর বাকিতে কোনো সদাই দিচ্ছে না। কিভাবে চলবো? কি খাবো বুঝতে পারছিনা। কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে যাবো না।’ 

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমারা সবাই মিলে কয়েকবার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মালিক পক্ষের কারো সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। এই কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোক করার জন্য শ্রমিকরা থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিল্প পুলিশের এসপির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু এতেও কোনো কাজ হয়নি। তাই শ্রমিকরা মালিকের নামে সাভার থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছে। কিন্তু প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা আশা করছি সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অচিরেই শ্রমিকদের এ সমস্যা সমাধান করবেন।

সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ রাসেল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, উপজেলা প্রশাসন সাধারণত আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে বা পরিবেশ দূষনের মতো ঘটনা ঘটলে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারে। পোশাক কারখানাটির ব্যাপারে কলকারখানা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তদারকি করছেন। তাঁদের সাথে মালিক পক্ষের বসার কথা রয়েছে। তারপরও তিনি বিষয়টি তিনি তদন্ত করে দেখবেন।

মন্তব্য