kalerkantho

ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তিদের মূলধারার জনগোষ্ঠির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা জরুরি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৯ ১৮:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তিদের মূলধারার জনগোষ্ঠির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা জরুরি

দেহের প্রত্যেকটি কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ৪৬টি। এর মধ্যে ২৩টি ক্রোমোজোম বাবা এবং অন্য ২৩টি ক্রোমোজোম মায়ের কাছ থেকে আসে, যা জোড়ায় জোড়ায় দেহকোষ তৈরি করে। ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি দেহকোষে ২১তম ক্রোমোজোমে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম পাওয়া যায়। অর্থাৎ ২১তম ক্রোমোজোমে তিনটি ক্রোমোজোম থাকে, যাকে ‘ট্রাইজমি ২১’ বলা হয়। ফলে তাঁদের শরীরের প্রত্যেকটি কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা দাড়ায় ৪৭টি। ক্রোমোজোম জনিত জেনেটিক ভিন্নতায় জন্ম নেওয়া এসব শিশুরাই ডাউন সিনড্রোম শিশু।

কিন্তু ডাউন সিনড্রোম মানে অক্ষমতা নয়, এটা কোন রোগও নয়। এই ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয় বরং সমাজেরই অংশ। তাদেরকে মূলধারার জনগোষ্ঠির সঙ্গে সম্পৃক্ত করাটা জরুরি। এজন্য দরকার যথাযথ শিক্ষা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা। এ চাহিদাগুলো সমাজের আর দশজন মানুষের মতই। তাদের বিশেষ কোনো চাহিদা নেই। শুধু প্রয়োজন বাড়তি একটু যত্নের।

১৪ তম বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ, ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ও আমদা বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সরদার এ. নাঈম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জোনাইদ শফিক, কাফকোর চিফ করপোরেট অফিসার মো. রবিউল হক চৌধুরী, টিএমএসএস এর নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম, ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সরদার. এ রাজ্জাক প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে ডাউন সিনড্রোম বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এমন ৭ জন ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট সম্পন্ন কিশোর-কিশোরীদের অভিনীত কাব্য নাট্য ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ প্রদর্শন, এ সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক অধিবেশন, ফ্রি ডেন্টাল ক্যাম্প, র‍্যাম্প শো, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি। অনুষ্ঠানে ‘দ্য ডাউন সিনড্রোম ভয়েস’ নামে একটি নিয়মিত ম্যাগাজিনের ৪র্থ সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এর আগে শিশু ও অভিভাবকদের নিয়ে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মানবিক মূল্যবোধ ও চেতনার বিকাশ ঘটাতে তথা একটি মানবতাবাদী সমাজ বিনির্মাণে ‘বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস’ উদযাপন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বাঙালি জাতির মহান নেতা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ স্বপ্নই দেখতেন। আমাদের সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের একটি অংশগ্রহণমূলক সার্বজনীন সমাজ বিনির্মাণের প্রয়াসে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হাকিম আরিফ বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে ডাউন সিনড্রোম শিশু ও ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা, গ্রহণযোগ্যতা, অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এই মুহূর্তে জরুরি।’

ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান সরদার. এ রাজ্জাক বলেন, ‘ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা প্রয়াস। এদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। বিশ্বমানের প্রশিক্ষিত যোগ্য ফেসিলিটেটর তৈরি করার মধ্য দিয়ে ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট সম্পন্ন ব্যক্তিদের সেলফ এডভোকেট হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব।’

মন্তব্য