kalerkantho

প্রশ্নফাঁসে জড়িত নয় ফ্রিল্যান্স কোচিং সেন্টারগুলো, তারপরও কেন বন্ধ?

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৯ ১৮:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রশ্নফাঁসে জড়িত নয় ফ্রিল্যান্স কোচিং সেন্টারগুলো, তারপরও কেন বন্ধ?

২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সারের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ১৯০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের কেউই ফ্রিল্যান্স কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত নন। তাহলে কেন পাবলিক পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখা হয়?

আজ বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটে অ্যাসোসিয়েশন অব শ্যাডো এডুকেশন বাংলাদেশ এর সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্ন রাখেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। তারা পাবলিক পরীক্ষার সময় ফ্রিল্যান্স কোচিং সেন্টার খোলা রাখার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ প্রশ্নফাঁসের শেকড় অনুসন্ধানের সঙ্গে সঙ্গে কোচিং সেন্টারগুলোকে নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমাদুল হক (ই. হক স্যার)। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান সোহাগ, শামসেয়ারা খান ডলি ও মো. কামাল উদ্দিন পাটোয়ারি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আরেফিন, আকমল হোসাইন, পলাশ সরকার প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে ইমাদুল হক বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের মূলমন্ত্র শিক্ষা। কিন্তু মাঝে মাঝে শিক্ষার গলা চেপে ধরে দেশকে পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার সময় অধিকাংশ স্কুল কলেজের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকে। একইসঙ্গে কোচিংগুলোও বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। এতে পড়ালেখা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় ছাত্রছাত্রীরা। দিশেহারা হয়ে পড়েন অভিভাবক মহল। এই সমস্যা থেকে দ্রুতই আমাদের উত্তরন দরকার।’

নেতৃবৃন্দ বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সময় ঢালাওভাবে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ফলে উচ্চমাধ্যমিক, জেএসসি, প্রাথমিক সমাপনী ও ইংরেজি শেখানোর কোচিংয়ের শিক্ষার্থীসহ অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা কাম্য নয়। 
পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে মডারেশন, টাইপ করা, ছাপানো, কেন্দ্রে পাঠানো এর কোনও কিছুতেই কোচিং সেন্টারের সংশ্লিষ্টতা নেই। এছাড়া পরীক্ষার খাতা পরীক্ষকদের মধ্যে বিতরণ নম্বর প্রদানসহ যত কাজ আছে তাতেও কোচিং সেন্টারের কোনও ভূমিকা নেই।

সংগঠনটির মুখপাত্র ও উদ্ভাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল হাসান সোহাগ বলেন, আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। বহুবার চিঠিও দিয়েছি। প্রত্যেক চিঠিতে একটাই দাবি, দেশের সব কোচিং সেন্টার একটি নীতিমালার অধীনে আনা হোক। তাহলে কোচিং সেন্টারগুলোও একটি প্ল্যাটফর্মে আসতে বাধ্য হতো।

কোচিং সেন্টারের ফি এর বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের মতো শিক্ষাও একটি সেবা। আর সেবার মূল্য আছে। এর মূল্যমানও বিভিন্ন রকমের হবে। আমরা দোষী হব তখনই যখন দেখব, যে টাকা নিচ্ছি তার বিনিময়ে করা অঙ্গীকার পালন করছি না।

বক্তরা বলেন, কোচিং সম্পর্কিত সরকারের জারি করা নীতিমালা সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য, ফ্রিল্যান্স কোচিং সেন্টারের জন্য নয়, যা হাইকোর্ট  সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। এরপরও প্রশ্নফাঁস  ঠেকানোর অজুহাতে ঢালাওভাবে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা যুক্তিযুক্ত হবে না। 

নেতৃবৃন্দ জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্ত ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকায় কোনও ফ্রিল্যান্স কোচিং সেন্টারের কেউ নেই। তাই আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার সময় সকল ফ্রিল্যান্স কোচিং সেন্টার খোলা রাখার দাবি জানান তারা।

মন্তব্য