kalerkantho


ঢাকার ছাদকৃষি

অপরিকল্পিত নগরকৃষি ভবিষ্যৎ নাগরিক জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৪:০৯



অপরিকল্পিত নগরকৃষি ভবিষ্যৎ নাগরিক জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

সম্ভাবনা, উদ্যোগ, উদ্ভাবনা আর সাফল্যের দেশ বাংলাদেশ। বন্যা, খড়া এবং ঘূর্ণিঝড়ের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের অগ্রযাত্রাকে মাঝে মাঝে ব্যাহত করে । শক্তিশালী, কার্যকর এবং সুযোগ্য নেতৃত্ব আর দেশের বিশাল জনসংখ্যার কর্মমুখী শ্রমশক্তি, বিশাল জনগোষ্ঠীর মেধা এবং শ্রম দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি, মানুষের-সৃষ্ট বিপর্যয়ের ফলে অতীতে দেশের মানুষের জীবন সহ সহায় সম্পত্তির ধ্বংস, আর্থিক দুর্দশা  অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে দেখা যায়। কখনও কখনও মানুষের-সৃষ্ট বিপর্যয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়ে আরও বেশি ভয়াবহ হতে দেখা যায়। সামাজিক অজ্ঞতা, অসাবধনতা, অনুপযুক্ত কৌশল এবং সঠিক কারিগরী দক্ষতার অভাবে দেশকে গত কয়েক দশকে বেশ কিছু জাতীয় দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়েছে; যা যথাযথ সঠিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যেত। ছাদ থেকে পানি নিষ্কাশন পথটি বন্ধ হয়ে গিয়ে বৃষ্টির পানি ছাদে জমার কারণে, ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের টিভি কক্ষের ছাদ ধ্বসের ঘটনায় ৩৯ জনের প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছিল। অপর্যাপ্ত নিরাপত্তার কারণে, ২০১২ সালে তাজরিন ফ্যাশান গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১১৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৩ সালে, অনুপযুক্ত নকশা ও নির্মাণকৌশলের ফলে রানা প্লাজা ধ্বসে গিয়ে ১১৩৪ জনের প্রাণহানির মত মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এগুলো আমাদের দেশের জীবনের কয়েকটি অতীব দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনামাত্র। সময়াপোযোগী সতর্কবাণী, সঠিক ও অভিজ্ঞ কারিগরী দক্ষতায় ভবন নির্মাণ এবং যথাপোযোগী ব্যবহার দালান কাঠামোতে দুর্ঘটনা রোধ হতে পারে। 

বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে মানুষের-সৃষ্ট বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই অন্যন্য সম্ভাব্য মানুষের-সৃষ্ট বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে সাবধানতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন অপরিহার্য। সামাজিক সচেতনতা, প্রযুক্তিগত পেশাজীবী এবং তাদের সহয়াতার মাধ্যমে নকশা এবং নির্মাণ শিল্প সমগ্র জনগোষ্ঠীর দৃষ্টি এবং মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে, ছাদ কৃষি একটি জনপ্রিয় কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে এবং খুবই দ্রুতগতিতে ব্যাপকহারে ঢাকা শহরসহ বাংলাদেশের অন্যান্য ছোট ছোট শহরগুলোতেও এই ছাদ কৃষির সম্প্রসারণ হচ্ছে।   যদিও ছাদ কৃষির উদ্দেশ্য ইতিবাচক এবং এর অনেক সহায়ক গুণাবলী রয়েছে, তবে ছাদ কৃষি প্রক্রিয়ার মধ্যে বহু ত্রুটি আছে যেগুলো ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বিপর্যয় প্রতিরোধ করার জন্য চিহ্নিত করতে হবে।  

বাংলাদেশের পল্লীঅঞ্চল এবং গ্রামাঞ্চালে  ঋতুভিত্তিক সব্জি, বছরব্যাপী ফল এবং ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ করা হয়। ঐসকল চাষাবাদের জমি গুলো বাসস্থান থেকে দূরে এবং বাসিন্দাদের থেকে পৃথক হয়। শহরের নিকটবর্তী বসতি এলাকাগুলোতে এবং ছোট শহরগুলোতে খুব অল্প পরিসরে ঋতুভিত্তিক সব্জি, ফল এবং ফুলের চাষাবাদ করা হয়। বর্তমান সময়ে ছাদ কৃষি দেখা যাচ্ছে ঐ ছোট শহরগুলো সহ ঢাকা শহরে, পাশাপাশি সরকারি ভবনগুলোর ছাদে, স্কুলে, গার্মেন্টস কারখানা এমনকি হাসপাতাল ভবনে। এই ছাদ কৃষির প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে ফরমালিনমুক্ত ঋতুভিত্তিক সব্জি, বছরব্যাপী ফল পাওয়া।  

বর্তমানে, ছাদ কৃষির জন্য কোন আইন বা কোনোরকম নিয়ম-নীতি নেই। এটি ঢাকায় দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সমগ্র দেশে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন অনেকগুলো মৌলিক কারণ রয়েছে যেগুলো এখনও বিবেচিত হয়নি যেগুলো অন্তর্ভূক্ত কিন্তু সীমাবদ্ধ নয়: ছাদের কাঠামোগত দুর্বলতা, ভবনের কাঠামো,  বাড়তি ভার গ্রহণের জন্য ভিত্তি প্রস্তরের ধারণ ক্ষমতা, চাষের স্থান থেকে রাস্তাতে বর্জ্য ও জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন পদ্ধতি, চাষাবাদের জন্য ওয়াসা থেকে ব্যবহৃত পানি,  কৃষি শিল্প এবং এর শ্রমিকদের উপর অর্থনৈতিক প্রভাব ইত্যাদি। ছাদ কৃষির নেতিবাচক এবং ক্ষতিকারক প্রভাব গুলো বিস্তারের আগেই এই কারণগুলো দ্রুতভিত্তিতে চিহ্নিত করতে হবে। যদি এগুলো বিবেচনা না করা হয়, এটার কারণে ভবন ধ্বস, সম্পত্তির ক্ষতিসহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানব জীবন নাশ হতে পারে। 

এই ছাদ কৃষি পরিবেশ,  ভবন এবং আশেপাশে বসবাসকৃত বাসিন্দাদের উপর কীভাবে প্রভাব বিস্তার করছে তা এখানে বর্ণনা করা হচ্ছে।  এটি সামাজিক পরিবেশ এবং অর্থনীতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলবে,  বিশেষ করে যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জীবিকার জন্য কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল, এবং ভোগকারী যাদের বিলাসিতা করে ছাদ কৃষি করার মত ঢাকা বা অন্যান্য শহরে নিজেদের ভবন নেই।

১) কাঠামোগত দুর্বলতা- ছাদ কৃষির কারণে ছাদে যেসকল বাড়তি ভার সংযোজন করা হয় তা হলো, ভবনের নকশা যেমন পিলার, কলাম ও ফ্রেম এবং ভিত্তি। এই ভার গুলো চাষের মাটি, কম্পোস্ট, গাছ, ঝোপ, ফুল, সব্জির বেড, ফলের গাছ, এবং বাগানের সব্জি, ফল ইত্যাদির জন্য তৈরী অস্থায়ী কাঠ, বাঁশ ও ইস্পাত কাঠামো থেকে, যেগুলো এসব ভবনে স্থাপিত করা হয়। যদিও কাঠামোগত দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি অনিষ্টকর সংযোজন বলে মনে হতে পারে, এই ছাদগুলো এই অতিরিক্ত ভার বহনের জন্য   তৈরী করা হয়নি। উপরন্তু, আরও ভার এখানে সংযোজিত হয় যখন এখানে বাগানের জন্য কংক্রিটের বক্স, জালের জন্য অস্থায়ী স্থাপনা, সব্জি চাষের জন্য পোস্ট ও ফ্রেমের স্থাপন, এবং মৎস্য ও হাঁস-মুরগি পালনের জন্য অন্যান্য স্থাপনা সংযোজন। যখন অতিরিক্ত ভার একটি ভবনে স্থাপন করা হয় যা ভবনের নকশাতে ছিল না, তখন ভবনটির ভার ধারণ ক্ষমতার চাইতে বেশী হতে পারে যার কারণে মানব-সৃষ্ট দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটির কারণে ছাদ ধ্বস, ভবনের স্থাপনা এবং ফাউন্ডেশন ধ্বস নামতে পারে। এর কারণে ভবনের সামগ্রিক কাঠামোতে ধ্বসের ফলে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ভবনগুলোও গুরুতর হুমকির মুখে পরতে পারে। বিদ্যমান ভবনগুলো অতিরিক্ত ভার বহনের জন্য ডিজাইন করা হয়নি কারণ বিএনবিসি তে এই ধরনের অতিরিক্ত ভার বহন নিয়ে কোনো বিধান নেই যা নকশা পেশাদারের মাধ্যমে বিবেচিত হয়। 

২) ওয়াসা পরিচালিত সরবরাহকৃত পানি এবং বর্জ্যপানি নিষ্কাশনের উপর প্রভাবঃ ছাদ কৃষিতে সরবাহকৃত অতিরিক্ত পানি এবং নিষ্কাশিত বর্জ্যপানি ব্যবস্থা অবকাঠামো তৈরীর আগেই গুরুত্ব সহকারে মূল্যায়ন করতে হবে। ঢাকায় পানি সরবরাহ, নিষ্কাশন ও স্যানিটেশন/স্বাস্থ্যব্যবস্থা পরিচালনা করার প্রধান সংস্থা হচ্ছে ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড সিউয়ারেজ অথোরেটি (ডঅঝঅ. ডধঃবৎ ঝঁঢ়ঢ়ষু ধহফ ঝববিৎধমব অঁঃযড়ৎরঃু)। ছাদ কৃষিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত পানি অন্য কোন বিকল্প সরবরাহ মাধ্যম না পাওয়া পর্যন্ত ওয়াসা কর্তৃক সরবাহিত করতে হবে। এটি ওয়াসা দ্বারা সরবাহকৃত পানির চাহিদার উপর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি করবে যার ফলে  ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমান্বয়ে নীচে নেমে যাবে এবং ফলশ্রুতিতে নির্বিশেষে সকল বাসিন্দাদের জন্য  পানির দাম বেড়ে যাবে। এটি ঢাকার নিম্ন আয়, মধ্যম আয় এবং অন্যান্য সীমিত আয়ের জনসংখার উপর বহুলাংশে প্রভাব ফেলবে। অর্থনৈতিকভাবে, তারা এই ছাদ কৃষির সুবিধাভোগী না হওয়া সত্বেও তাদেরকে এই অতিরিক্ত প্রতি গ্যালন পানির খরচ বহন করতে হবে। উপরন্তু, ছাদ থেকে বর্জ্য পানি ছাদের পানি নিষ্কাশন পথের মাধ্যমে বাহির হয়ে যাবে, যেটা কিনা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরী, বর্জ্য পানির জন্য নয়। এই বর্জ্য পানির সাথে কীটনাশক (স্প্রে থেকে পাওয়া), সারযুক্ত মাটি, এবং হাঁস-মুরগীর বর্জ্য, মাছের বর্জ মিশ্রিত দূষিত পানি বহন করে আনে। এই বর্জ্য সহ নিষ্কাশিত পানি প্রথমে রাস্তাতেই পড়ছে এবং পড়ে হয়ত ওয়াসার নর্দমা দিয়ে চলে যাচ্ছে।রাস্তায় পড়া এই বিষাক্ত বর্জ্য পানি ঢাকাবাসীর জন্য বিভিন্ন অসুখের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

৩)  “গ্রিন এনার্জির” প্রয়োজনীয়তার উপর প্রভাবঃ  এই ছাদ কৃষি সৌর প্যানেলের উপর প্রভাব ফেলবে, যা “গ্রিন এনার্জির” আওতায় সরকারী নির্দেশনায় বহুতল ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপিত করা হয়েছে। এছাড়া ছাদ কৃষির ফলে ছাদের সৌর প্যানেল ব্যবহার  ক্রমান্বয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। যদি কোন বহুতল ভবনের একটি মাত্র সাধারণ ছাদ থাকে, এবং সেটি যদি ছাদ কৃষির জন্য ব্যবহৃত হয় তাহলে এটি অন্যান্য ব্যবহার এবং বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে যাবে।   

৪) পরিবেশের উপর প্রভাবঃ যদিও ছাদ কৃষি অনেক কৃষিজ সামগ্রী সরবরাহ করবে, তবে খামার ও মৎস্যচাষ  প্রতিবেশী ভবনের বাসিন্দাদের উপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে। শাকসব্জি, গাছপালা, পশুপাখি ও মাছ রোগ জীবাণু বহন করবে। ঢাকা শহরের মত একটি ঘন বসতিপূর্ণ আটকা এলাকায় রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পরবে। জৈব ও অন্যান্য সারের ব্যবহার, পাখির বিষ্ঠা এবং মাছের বর্জ্য ঘন বসতিপূর্ণ আটকা এলাকা যেখানে প্রাকৃতিক বায়ুর সঞ্চালন সীমাবদ্ধ সেখানকার আশেপাশের জনবসতির জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। অ্যামোনিয়ার মত গ্যাস এবং চাষাবাদে ব্যবহৃত অন্যান্য রাসায়সিক দ্রব্য যেমন পোকামাকড় বিতাড়ক ও কীটনাশক  মানুষের জন্য ক্ষতিকর বিশেষকরে দৈনন্দিন জীবনে যারা এর রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত। এটি শহরের জীবনযাত্রা এবং বেঁচে থাকার সুষ্ঠ পরিবেশের উপর নেতিবাচক ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলবে। 

৫)  ঘূর্ণিঝড় এবং তীব্র বাতাসের সময় প্রভাবঃ বাংলাদেশ একটি গ্রীষ্মপ্রধান দেশ, এবং ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র বাতাস এদেশের জন্য খুবই সাধারণ বিষয়। প্রাথমিকভাবে  ঋতুভিত্তিক সব্জি ও ফুলের বাগান ছাদ এবং বারান্দাতে চাষ করা হয়। কিন্তু ছাদ কৃষিতে   বিভিন্ন ধরণের ফলের গাছ যেগুলো ২০-৩০ ফুটের মতো লম্বা এবং প্রশস্ত ঝোপের মত হয় বর্ধিত হয়, যেমন: আম, কলা, লিচু ইত্যাদি। অনেক মালিকেরা ঐ ধরনের গাছ লাগানোর জন্য কংক্রিটের পরিবেষ্টন তৈরী করেন যা কয়েক ফুট উঁচু হয় এবং মাটি, গোবর, সার ও কম্পোস্ট দিয়ে পূর্ণ থাকে।এর পাশাপাশি, অনেক মালিকেরা ছাদের উপর পশু খামার ও জলীয় কৃষি আরম্ভ করেছেন যার জন্য ছাদে মাছ এবং পানির ট্যাংক অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এগুলো যেকোনো ভবনের কাঠামো ও ভিত্তির জন্য উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ভার। এই ফলের গাছগুলোর মধ্যে কিছু গাছকে মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত শেকড় বিস্তৃত করার প্রয়োজন হয় অবাধে দাঁড়ানো এবং ঘূর্ণিঝড় ও প্রবল বাতাসের সময় পরে যাওয়া প্রতিরোধ করার জন্য। কিন্ত এই ফল গাছের জন্য তৈরী ছাদের এই অগভীর মাটির বেড গুলো প্রবল বাতাসের সময় গাছগুলোকে নিজ স্থানে আটকে নাও রাখতে পারে। এর ফলস্বরূপ গাছগুলি উপরে পরে ভবনের সাথে সাথে প্রতিবেশী ভবনের ধ্বংস হতে পারে, পরতে পারে বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য তার, কাছাকাছি যানবাহন ও পথচারীর উপর এবং ঘটতে পারে সম্পদ নাশ সহ প্রাণ হানির মত ঘটনা। এই একই ঘটনা ঘটতে পারে ছাদ কৃষিতে ব্যবহৃত অস্থায়ী বাঁশের ধারক, জাল, সংযোজিত অতিরিক্ত সহায়ক, পাত্র এবং অন্যান্য অনিরাপদ সরঞ্জামের জন্য। 
৬) কৃষকদের উপর আর্থিক প্রভাব এবং পরিণতিঃ ছাদ কৃষি গ্রামের কৃষকদেরকেও প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। উৎপাদিত বেশিরভাগ পণ্যই বিশেষ করে মৌসুমী সব্জি ও বছরব্যাপী ফল এসব গ্রাম থেকেই আসে। অনেকের জন্য, এই মৌসুমী সব্জি প্রধানত দুটি বার্ষিক ফসলের মধ্যবর্তী সল্প সময়ে চাষাবাদ করা হয় যা কৃষকদের বেঁচে থাকার জন্য অতিরিক্ত আয়ের উৎস। সাধারণত স্বচ্ছল আয়ের পরিবারের সদস্যরাই এই পণ্যগুলোর ভোক্তা। এই স্বচ্ছল আয়ের পরিবারের মধ্যে যারা বহুতল ভবনের মালিক তারা নিজস্ব ছাদে চাষ করছেন ঋতুভিত্তিক সব্জি, ফুল ও ফলের বাগান । কারণ তারা ছাদ কৃষিতে প্রয়োজনীয় অর্থ যোগান দিতে সক্ষম। যদি তারা এখন “নাগরিক ছাদ কৃষক” হয়ে উঠেন, তাহলে তারা আর বাজার থেকে এই উৎপাদিত মৌসুমী পণ্য আর কিনবেন না। এটি বাণিজ্যিকভাবে ঢাকা এবং অন্যান্য শহরে উৎপাদিত হতে থাকলে সব্জির কৃষি বাজার সংকুচিত করবে ফলে উৎপাদন কমে যাবে, বিক্রয় মূল্য বেড়ে যাবে, এবং  সীমিত আয়, মধ্যবিত্ত এবং নি¤œবিত্ত আয়ের পরিবারের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। এর কারণে গ্রাম এবং গ্রামীণ কৃষকেরা সব্জি উৎপাদনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, যাদের অনেকেই তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষির উপর নির্ভরশীল ফলে তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। এর ফলে কৃষিভিত্তিক একটি বিশাল শ্রমিক সম্প্রদায় কর্মহীন হয়ে যেতে পারে এবং তৈরী হবে সামাজিক আর্থিক ভারসাম্যহীনতা যার প্রভাব পরবে ঢাকার বাজার এবং উৎপাদকদের উপর। এই পেশার সাথে জড়িত তরুণ কর্মক্ষম যুবকেরা যারা এই ব্যবসার উৎপাদক থেকে শেষ ব্যবহারী এর ফলে প্রবলভাবে প্রভাবিত হবে এবং হতাশার কারণে  সামাজিক অবক্ষয় হয়ে স্বভাবিক জীবনযাত্রা থেকে সরে আসবে। 

অতিরিক্ত ভারবহনের উদাহরণঃ এ ধরনের ছাদ কৃষিতে ব্যবহৃত সামগ্রিক কাঠামোতে অতিরিক্ত ভারের ধারণা দেবার জন্য একটি সহজ হিসাব প্রদান করা যেতে পারে। একটি সাধারন ছাদে চাষের জন্য ভারের ধারনা প্রদান করা যাক। একটি এক বর্গফুট (এক ফুট  এক ফুট তলার পরিমাণ) ছাদ যদি তিন ফুট উচ্চতার মাটি দিয়ে ছাদে চাষের জন্য বেড তৈরী করা হয় তাহলে ছাদের প্রতি বর্গফুট অংশে অতিরিক্ত চাপ পড়বে ৩৩০ পাউন্ড (৩৩০ ঢ়ংভ), যা ছাদের স্ল্যাবের মাধ্যমে বীমগুলোতে স্থানারিত হবে এবং এরপর কলামে ও শেষ পর্যন্ত ভবনের ভিত্তিতে যাবে। মাটির ওজন ১১০ পিএসএফ ধরে (পাউন্ড /প্রতি ঘনফুট) যদি এর ২ ফুট উচ্চতার মাটির বিছানা থাকে তবে ছাদে অতিরিক্ত চাপ পড়বে ২২০ পাউন্ড /প্রতি ঘনফুট । এছাড়াও  এই অতিরিক্ত ভারের সাথে মাটি ধরে রাখবার জন্য কংক্রিট বা ইটের দেয়াল, গাছের ওজন, ঝোঁপ, অস্থায়ী কাঠামো এবং আছে ফল ও সব্জির ওজন। একটি বিদ্যমান ভবনে এই অতিরিক্ত ভার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশী এবং ভবনের কাঠামোটি এই ভার নেবার জন্য নকশা না করা পর্যন্ত তা সমর্থন করবে না। একটি ৭২০ বর্গফুট (এক কাঠা) ছাদবাগান অতিরিক্ত ২ ফুট ভারের মাটি সহ ওজন প্রায় ৭০ টন এবং ৩ ফুট হলে এটি হবে ১০৬ টন। হিসাব মতে কাঠামোর উপর নির্ভর করে এই অতিরিক্ত ভার ৩০% পর্যন্ত হতে পারে।  


নতুন ভবনের জন্য, যদি বাড়ির ছাদে চাষের অনুমতি থাকে তাহলে ছাদের স্ল্যাব, কাঠামোর বিম (ইবধস) এবং কলাম (ঈড়ষঁসহ) এবং ভিত্তিপ্রস্তর (ঋড়ঁহফধঃরড়হ) এই অতিরিক্ত ভারের জন্য বানাতে হবে। এই অতিরিক্ত স্থায়ী ভার (বিশেষ ভার)  ভবনের নকশার সময় বিবেচনায় এনে নকশা তৈরী করতে হবে যা  ভূমিকম্প ভারের জন্য অতিরিক্ত ভূমিকা রাখবে। এর ফলে নকশা ও ভিত্তির জন্য খরচ বেড়ে যাবে কারণ এসব নকশাতে বাড়তি নির্মাণ সামগ্রী সংযোজন হবে যা মালিককে বিবেচনা করতে হবে।        

যদি কর্তৃপক্ষ কোনো আবাসিক এবং বাণিজ্যিক ভবনের বর্তমান অবস্থায় ছাদের উপর ছাদ কৃষি করার অনুমতি দেন, সেক্ষেত্রে এখানে কয়েকটি প্রস্তাবনা দেয়া হলোঃ

১। সঠিক পরিকল্পনা এবং নীয়মনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে ছাদ কৃষির পরিবর্তে ছাদে সীমিত আকারে বাগান করার অনুমোদন দিয়ে নতুন আইন তৈরী করে তার যথাযথ প্রয়োগের ব্যবস্থা নিতে হবে।
ক)  এই আইনের মধ্যে যেসব গাছ চাষ করার অনুমতি আছে সেগুলোর সীমিত তালিকা থাকতে হবে। কোন কোন প্রজাতির গাছ এবং ঋতুভিত্তিক সব্জি চাষ করা যাবে তার তালিকা করা শ্রেয়। এই আইন লেখার প্রক্রিয়াতে সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগীয় দপ্তরের প্রতিনিধি এবং কৃষিকাজের সাথে সম্প্রিক্ত শ্রমজীবী এবং পেশাজীবীদের বিষয়গুলি অন্তর্ভূক্ত থাকতে হবে এবং এই ধরণের নকশা প্রণায়নের পর দালান অনুমোদন কর্তৃপক্ষকে সঠিক পরিদর্শন এর মাধ্যমে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। 
খ) সরকারী উপযুক্ত বিভাগের অনুমোদন/সংজ্ঞা অনুযায়ী, গাছের বয়স এবং উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
গ) মাটি, সার, রাসায়নিক ও কীটনাশকের গুণমান ও ধরণ আইনের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করতে হবে, যাতে এটি সীমিত আবাসিক ভবনগুলির জন্য পরিবেশ বান্ধব হয় এবং বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক বা অসুস্থদের জন্য ক্ষতিকারক না হয়। 
ঘ) মালিক, বাড়ির মালিক, প্রতিবেশী, ঐ ভবনে বাসকারী প্রতিটি ভাড়াটেকে ছাদ কৃষি বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। এটি ছাদ কৃষির মালিক নিজ দায়িত্বে করবেন। 
ঙ) দালানের বাইরে দৃশ্যমান 'নোটিশ বোর্ডের' ছাদে বাগানের বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে। যাতে করে প্রতিবেশি এবং পথযাত্রীরা এবিষয়ে সচেতন হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে।
চ) ওয়াসা সরবাহকৃত পানির পরিবর্তে বিকল্পভাবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে চাষের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এর জন্য ভবনের নকশা ও নির্মাণের সময় ভূগর্ভে কিংবা ছাদের শীর্ষে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা সংযোজন করতে হবে। 
ছ)  অতিরিক্তভাবে, বৃষ্টির পানি সহ চাষাবাদের বর্জ্যসহ পানি যাতে সঠিকভাবে ছাদ থেকে নিষ্কাষিত হতে পারি তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নকশাতে করতে হবে। এর ফলে দূষিত পানি জন্ম নেয়া অসুখ গুলো হ্রাস পাবে।
জ) কোনো প্রকারের খামার বা মৎস্য চাষের জন্য ছাদ ব্যবহার করা যাবে না।
ঝ) ছাদকে কখনই বাণিজ্যিক চাষাবাদের আওতায় আনা যাবে না।
ঞ) বাড়ির কার্নিশে এবং বারান্দাতে কোন অবস্থাতেই কোন ধরণের চাষাবাদের অনুমোতি দেয়া যাবে না।
ট) বহুতল ভবনে বসবাস কৃত বাসিন্দাদের অনেকেই ছাদকে বিনোদনের জন্য ব্যবহার করে থাকেন। তাই কোন অবস্থাতেই ছাদের এক তৃতীয়াংশের বেশী বাগান তৈরীতে ব্যবহার করা যাবে না। 

২। যে বাড়িগুলো ইতিমধ্যে নির্মাণ হয়ে গেছে এবং যেসব ছাদে বাগান আছে তাদেরকে অবশ্যই অভিজ্ঞ প্রকোশলী দ্বারা বাড়ির কাঠামো, ভিত্তি প্রস্তর মূল্যায়ন করে বাড়ির কাঠামো বাড়তি কতটা ভার বহন করতে পারবে, তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদন নিতে হবে। যদি ভবনটিকে রিট্রফিট বা অতিরিক্ত শক্তিশালী করতে হয়  তাহলে যথাযথ অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর মাধ্যমে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে এটা করতে হবে।

৩।   প্রতিটি বাড়ির মালিকের উচিত হবে নতুন ভবন তৈরীর সময়, নিয়ন্ত্রিতভাবে ছাদ ব্যবহার করা এবং ছাদ কৃষি প্রতিষ্ঠার পূর্বে অবশ্যই দক্ষ প্রকৌশলীর কাছ থেকে ছাদের ভার বহন, পুরো কাঠামোর ধারণ ক্ষমতা এবং ভিত্তি প্রস্তরের ভার বহন ক্ষমতা যাচাই করে উপযুক্ত পেশাজীবী দ্বারা মূল্যায়ন করা বাঞ্চনীয়। এটা ভুলে গেলে হবে না যে বাংলাদেশ ভূ-কম্পনের উঁচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। ছাদে স্থাপিত প্রতিটি বাড়তি ভার সরাসরি ভবনের ভিত্তি ও নকশা ভূ-কম্পনের সহনীয় নির্মাণ খরচকে  প্রভাবিত করবে।

৪। এই ধরণের নকশা প্রণায়নের পর দালান অনুমোদন কর্তৃপক্ষকে, যেমন ঢাকার জন্য রাজউক এবং অন্যান্য শহরের অনুরূপ কর্তৃপক্ষ সঠিক পরিদর্শন এর মাধ্যমে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এবং নির্মাণের সময় নিয়মিত ভাবে অনুমোদন নিতে হবে। 

৫। নিরাপদ এবং যথাযথ কৌশলগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সমস্ত বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে তা নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত  কর্তৃপক্ষকে পরিদর্শন এর মাধ্যমে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

৬। কৃষি মন্ত্রণালয়ে কর্তব্যরত কর্মীদের সাথে পরামর্শ করে নিয়মিত ভাবে পরিবশে বান্ধব কীটনাশক প্রয়োগ এর পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

৭। ঋতুভিত্তিক সব্জি এবং ফুল চাষকে অগ্রাধিকার দিয়ে নানা প্রকারের বহুবর্ষীয় বৃক্ষ জাতীয় ফল গাছ চাষ থেকে বিরত থাকতে হবে। কোন ধরণের ফুল ও ঋতুভিত্তিক সব্জি এবং কি ধরনের ফল চাষ করা যাবে তার তালিকা করে সরকারী ভাবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ এবং অমান্যকারীর শাস্তি নির্ধারণ করতে হবে।

৮। ওয়াসা সরবাহকৃত পানির বাড়তি ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করে এর প্রাথমিক হার চিহ্নিত করতে হবে, যাতে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ এই অতিরিক্ত ব্যবহারের খরচ সঠিকভাবে বন্টন করতে পারে।  

এই ছাদ কৃষির মূল উদ্দেশ্য যদি হয় ফরমালিন মুক্ত সব্জি এবং ফল লাভ, তাহলে কীভাবে বাজার থেকে ফরমালিনের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যায় তা আমাদেরকে চিন্তা কওে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু ছাদ কৃষির ফলে সৃষ্ট প্রভাবগুলোকে বিবেচনা না করে ছাদ কৃষিকে উৎসাহিত করা হলে ভবিষ্যতে এটি সমাজের জন্য বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।  ছাদ কৃষি শুরু থেকেই উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলিকে বিবেচনা করা হয়নি। তবে, নিরাপদভাবে ছাদে বাগান করার উপায় আছে। ঢাকা শহরে গড়ে উঠা নতুন নতুন বহুতল ভবনের কারণে কৃষিকাজ করার মত কোন খোলা জায়গা এখন আর খুঁজে না পাওয়ার কারণে অনেকেই বেঁছে নিয়েছেন এই ছাদ কৃষি। যারা বহুতল ভবনের মালিক তারা নিজস্ব ছাদে চাষ করছেন ঋতুভিত্তিক সব্জি, ফুল ও ফলের বাগান । কারণ তারা ছাদ কৃষিতে প্রয়োজনীয় অর্থ যোগান দিতে সক্ষম। কৃষি সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে, বাড়ির ছাদ অতিরিক্ত ভার বহন করতে পারবে কিনা এসব বিবেচনা না করেই ঋতুভিত্তিক শাক-সব্জি, ফলমূলের চাষ করছেন বাড়ির ছাদে।এবিষয়ে সর্বপ্রধমে বাড়ির মালিকদেরকে সচেতন করতে হবে। নতুনভাবে নির্মিত কাঠামোর ধারণ ক্ষমতা পুরোনো কাঠামোর ক্ষমতা থেকে বেশি হওয়া স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে পুরোনো কাঠামো নতুন কাঠামো অপেক্ষা বেশী ঝুঁকির্পর্ণ। কোন কোন ক্ষেত্রে এর উল্টো টাও হতে পারে ।

যেহেতু বাড়ির ছাদের, পুরো কাঠামোর এবং ভিত্তি প্রস্তরের ধারণ ক্ষমতা বাড়ির নকশা এবং নির্মাণ কৌশলের উপর নির্ভর। প্রতিটি নির্মাণ কাঠামো সীমিত ভার বহন করতে পারে যা নকশা প্রণয়নের সময় প্রকৌশলীকে (Code) নির্ধারিত ধারণ ক্ষমতার নিয়ম নীতি মানতে হয়। প্রতিটি মালিকের উচিৎ নিরাপদ ভাবে ছাদের ব্যবহার করা। তাদের অবশ্যই উপযুক্ত প্রকোশলী দ্বারা বাড়ির কাঠামো, ভিত্তি প্রস্তর মূল্যায়ন করে ভবনটি বাড়তি কতটা ভার বহন করতে পারবে, তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদন নিতে হবে।এভাবে ভবনটিতে বসবাসকারীরা নিরাপদে থাকবে এবং যেকোনো মানব-সৃষ্ট দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে। 

সামগ্রিকভাবে, শহরে বসবাস কারী বর্তমান বাসিন্দাদের দায়িত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঢাকা শহর কে আরও আকর্ষণীয়, বসবাস যোগ্য করে গড়ে  তোলা।  বর্তমানে নেয়া  যে কোন শহুরে পরিকল্পনা ভবিষ্যতের বাসিন্দাদের জন্য যেসব উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে তা নির্ণয় করা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্ব। আমরা কেউ চাইব না ঢাকাকে ভবিষ্যতে “নিষিদ্ধ শহর” বলা হোক। বর্তমানে যারা এই শহরের বাসিন্দা তাদের সামাজিক এবং নৈতিক দায়িত্ববোধ অবশ্যই ঢাকা শহরকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর এবং বসবাস উপযোগী শহরে পরিণত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করা।  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর একটি ছোট গল্পে নিচের এই লাইনটির মাধ্যমে এ সত্যই তুলে ধরেছিলেন যে, 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।'

লেখক

প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার, (কেবিকে স্ট্রাকচারাল ডিজাইন,এলএলসি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
প্রকোশলী রওনাক খোন্দকার, এম.এসসি, ইঞ্জি. (পার্সনস কর্পোরেশন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)



মন্তব্য