kalerkantho


ঢা‌বির সাংবা‌দিকতা বিভা‌গের দুই শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের মারধর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ২২:০১



ঢা‌বির সাংবা‌দিকতা বিভা‌গের দুই শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের মারধর

ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও ফোন রিসিভ না করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে ছাত্রলীগ। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন, মুহসীন হলের হাসান আল মনজুর ও স্যার এফ রহমান হলের আফসার মুন্না।

গত বুধবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন ও স্যার এফ রহমান হলে এই ঘটনা ঘটে। মারধরের  শিকার ওই দুই শিক্ষার্থী এই বিষ‌য়ে বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের প্রক্ট‌রের কা‌ছে লি‌খিত অ‌ভি‌যোগ দি‌য়ে‌ছেন।

মারধরে অ‌ভিযুক্তরা হলেন মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী শাহ ইবনে সোয়াদ ও এফ. রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মোহাম্মদ রাকিব। তারা উভয়ই ঢাকা বিশ্ববিদালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের অনুসারী।

হাসান আল মনজুর জানান, বুধবার দুপুরে ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম শেষে হলে ফিরলে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহ ইবনে সোয়াদ তাকে ফোন করেন। কিন্তু সে ওয়াশরুমে থাকায় ফোন রিসিভ করতে পারে নি। পরে শাহ ইবনে সোয়াদ ক্ষিপ্ত হয়ে তার রুমে এসে তাকে গালিগালাজ করে এবং তৎক্ষণাৎ হল থেকে বের হয়ে যেতে বলে।

তারপরও হলে অবস্থান করলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোয়াদ তাকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে তাকে চড় থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। এসময় সে তাকে মারতে স্ট্যাম্প নিয়ে তেড়ে আসে। এই ঘটনা শোনার পরে মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ মারধরকারী শাহ ইবনে সোয়াদকে হল থেকে বের করে দেয়। 

ঘটনার বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ ড.নিজামুল হক ভুঁইয়া জানান, আমরা ঘটনার তদন্তে হাউজ টিউটরদের সমন্বয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছি। কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম,  অন্য দুজন সদস্য হলেন ইমাউল হক সরকার ও এ কে এম ইফতেখারুল ইসলাম। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অপরদিকে  মারধরের শিকার এফ. রহমান হলের শিক্ষার্থী জানান, গতকাল সে ফেসবুকে গণরুম নিয়ে একটি সংবাদের লিংক শেয়ার দেয়। এতে রাগান্বিত হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাকিব তাকে গেস্টরুমে ডাকেন। কিন্তু যেতে দেরি হওয়ায় রাকিব প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তাকে জোর করে গেস্টরুমে নিয়ে আসতে বলেন। পরে সে গেস্টরুমে গেলে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারনে গালিগালাজ করে ও লাঠি দিয়ে তার বুকে আঘাত করে।

মারধরের বিষয়ে রাকিব বলেন, সে সিনিয়রদের সালাম না দেওয়ায় তাকে বকাঝকা করা হয়েছিল, মারধর করা হয়নি। আমি তাকে কাঠ দিয়ে ধাক্কা দিকে পিছনে সরিয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে ঘটনার পরদিন সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনা শুনেছি। হাউজ টিউটরদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করব । 

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, 'আমরা ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও আমরা জানিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ কাউকে মারার অধিকার রাখে না।'

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মারধরের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থী প্রক্ট্রর বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্ট্রর এ কে এম গোলাম রাব্বানী এ বিষয়ে জানান, 'আমি তাদের অভিযোগপত্র পেয়েছি। ঘটনা যেহেতু হলে ঘটেছে তাই হল কর্তৃপক্ষের মাধ্যেম তদন্ত কমিটি করে আমরা তদন্ত কাজ চালাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুসারে ঘটনার বিচার করা হবে।'



মন্তব্য