kalerkantho


চলে গেলেন মেয়র আনিসুল, স্থবির হলো ‘নগর’ অ্যাপ

শাখাওয়াত হোসাইন    

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৩৫



চলে গেলেন মেয়র আনিসুল, স্থবির হলো ‘নগর’ অ্যাপ

রাজধানীবাসীর অভিযোগ সরাসরি শুনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে অ্যানড্রয়েড ফোনের অ্যাপ ‘নগর’ চালু হয়েছিল। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তৎকালীন মেয়র আনিসুল হকের উদ্যোগে চালু হয়েছিল এই অ্যাপ। প্রথম দিকে তাতে নগরবাসীর ব্যাপক সাড়াও মিলেছিল। কিন্তু মেয়র আনিসুল হকের প্রয়াণে অ্যাপটির কার্যক্রমও স্থবির হয়ে গেছে।

অ্যাপটি সচল রাখতে সচল রাখতে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি ডিএনসিসি। স্পন্সর না পাওয়া এবং এর জন্য সংস্থাটির নিজস্ব অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এই সেবা কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানান কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নগরবাসীর সমস্যাগুলো সরাসরি শুনতে মেয়র আনিসুল হক অ্যাপটি চালু করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর নির্দেশনায় তৈরি অ্যাপটি ২০১৬ সালের ২ আগস্ট উদ্বোধন হয়। একই দিনে গুগল প্লেস্টোরে যুক্ত করা হয় এটি। যাত্রার শুরুতেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় অ্যাপটি। গুগল প্লেস্টোরে যাওয়ার পর ১০ হাজার বার ডাউনলোড হয়েছে নগর অ্যাপ।

নগর অ্যাপের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া নিয়ে এ পর্যন্ত চার শতাধিক ব্যক্তি অনলাইনে মন্তব্য করেছে। সেসব মন্তব্যের বেশির ভাগই ক্ষোভ আর হতাশায় ভরা। শোয়েব আহমেদ নামের এক ব্যবহারকারী বলেন, ‘অনেক দিন ধরে একটি অভিযোগ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু কোনোভাবেই ছবি পোস্ট করতে পারছি না।’ একই ধরনের অভিযোগ আরাফাত তারেক, ফরহাদ হোসাইন, কাজী জহিরসহ তিন শতাধিক ব্যবহারকারীর।

জানা গেছে, নাগরিকদের কোনো দুর্ভোগের ছবি বা বেআইনি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ছবিসহ সরাসরি অভিযোগ করা যেত নগর অ্যাপের মাধ্যমে। নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা হলে জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি তাঁর অবস্থানস্থল ও পাশের মানুষ সম্পর্কে পরিবারের কাছে তথ্য পাঠাতে পারত। পাওয়া যেত হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, ক্লিনিক, পুলিশ স্টেশনসহ অন্যান্য সেবা সংস্থার তথ্য। নাগরিকদের অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যেত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তা সমাধান করতে ব্যর্থ হলে তা পর্যায়ক্রমে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হয়ে মেয়রের কাছে চলে যেত।

অ্যাপসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের উদ্যোগে অ্যাপটি করে দিয়েছিল টেক ভিশন নামে একটি কোম্পানি। কিন্ত এটি দেখভালের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ ও জনবল না থাকায় সেবাটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

ডিএনসিসির আইটি কনসালট্যান্ট আসিফ রহমান সৈকত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টেক ভিশন থেকে মেইনটেন্যান্স বাবদ আমরা একটা প্রস্তাব পেয়েছি, যা বিবেচনাধীন।’

ডিএনসিসির সিস্টেম অ্যানালিস্ট লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদুর রহমান বলেন, ‘কোনো স্পন্সর না পাওয়ায় অ্যাপটি ক্রাশ করেছিল কিছুদিন আগে। তবে আমরা এ বছরের শেষ নাগাদ আরো কিছু ফিচারসহ ভালোভাবে অ্যাপটি চালু করার ব্যাপারে চিন্তা করছি।’ 



মন্তব্য