kalerkantho


দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী জরিপ গ্রেপ্তার

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:০৬



দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী জরিপ গ্রেপ্তার

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে শীর্ষ সন্ত্রসী এলাকাবাসীর আতঙ্ক জরিপ ওরফে কালা জরিপ। গত ৬ সেপ্টেম্বর শুভাঢ্যা ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. ওয়াহিদুজ্জামানের করা চাঁদাবাজি মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়। এরপর দু’দিন জরিপ বাহিনীর সদস্যরা আত্মগোপনে থেকে ফের এলাকায় ত্রাস করার পায়তারা করছে।

এদিকে জরিপ বাহিনীর অন্য সদস্যরা অত্মগোপনে থেকে মামলার বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ও এলাকাবাসীকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। জরিপ বাহিনীর হুমকির কারনে এলাকাবাসী ভয়ে আতঙ্কে রয়েছে। পুলিশ জরিপ বাহিনীর প্রধান জরিপ ওরফে কালা জরিপকে গ্রেপ্তাররের পর এ বাহিনীর বাকী সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

কেরানীগঞ্জের ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে শুভাঢ্যা ইউনিয়নটি ঘনবসতি এলাকা। এই ইউনিয়নের ইকুরিয়া খালপাড় এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জরিপের বসবাস ও আস্তানা। আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এলাকায় লোকজনের আনাঘোনা কম। মাঝে মধ্যে দু’একজনকে দেখা গেলেও জরিপের বিষয়ে কথা জিজ্ঞাসা করলে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইকুরিয়া খালপাড় এলাকার ষার্টউর্ধ্ব এক বাসিন্দা বলেন, জরিপের বাবা মো. সোহরাব উদ্দিন ছিলেন ঢাকা জুট মিলের এক শ্রমিক। মিলটি বন্ধ হয়ে যাবার পর কষ্টে দিন যাপন করেছেন তিনি। জরিপ ছোট বেলা থেকে ইচরে পাকা। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির গণ্ডি পার না হতেই যোগ দেন ততকালিন শীর্ষ সন্ত্রাসী আনসার বাহিনীতে। আনসার বাহিনীরা সদস্য হয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এক সময় আনসার বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হয়ে। ২০০৪ সালে আনসার বাহিনীর প্রধান আনসারকে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর জরিপ আত্মগোপনে চালে যায়। এরপর সে নিজেই এলাকায় গড়ে তুলেন এক দুর্ধর্ষ বাহিনী।

ইকুরিয়া বাজার এলাকায় কথা হয় আবুল হোসেন নামের এক ব্যাক্তির সাথে। তার সাথে জরিপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ঠিক দিন খন মনে নাই তবে সাত-আট বছর আগে স্থানীয় ডিস ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মতি নিখোঁজ হয়। এরপর জরিপ মতির স্ত্রী মমতাজকে জোড় পূর্বক হুমকি ধমকি দিয়ে মতির ডিস ব্যবসার পার্টনার হয়। মমতাজও স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার পিছনে যারা জড়িত তাদের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য জরিপকে পার্টনার করে নেয়। এর পাশাপাশি জরিপ বসুন্ধরার জমি থেকে রাতের আধাঁরে মাটি চুরি করে বিক্রি করে বনে যায় কোটি পতি। শুরু করেন এলাকার জমি দখল, অন্যের জমিতে মাটি কেটে বিক্রি, সাধারণ জনগণকে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, হত্যা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম। শুভাঢ্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন নাজিম মারা যাওয়ার পর তার ইকুরিয়া এলাকার হাসনাবাদ সুপার মার্কেটের ৯০টি দোকান জবর দখল করে নেয়। এর প্রতিবাদ করায় হামলা চালিয়ে মার্কেটের কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে ম্যানেজারকে মারধর করে।

জরিপ ভাল না খারাপ প্রশ্ন উত্তরে তিনি বলেন, জরিপ ভাল হলে, আমরা সাধারণ মানষ খারাপ।

শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, শুভাঢ্যা ইউনিয়নে ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত সম্মানের সাথে মেম্বার হিসাবে সাধারণ জনগণকে সেবা প্রদান করে আসছি। জরিপ স্থানীয় লোকজনের কাছে জোড় পূর্বক চাঁদা আদায়, মারপিট করার আমি তাকে বাধা দেই। এ কারণে জরিপ আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। আমি কিছুদিন পূর্বে এলাকায় একটি জমি ক্রয় করি। সে কারণে জরিপ আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি তার দাবিকৃত টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আর টাকা দিতে পারবো না বললে সে তার বাহিনীর লোকজন দিয়ে আমার উপর হামলা চালিয়ে মারধর করতে থাকে। তখন আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে। পরে আমি বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠালেও তার বাহিনীর সদস্যরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাকে অপরিচিত মোবাইল ফোন দিয়ে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে আসছে।

তিনি আরো বলেন, জরিপ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাটি চুরি, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে প্রায় শতকোটি টাকার মালিক হয়েছে। সে নিজে যে বাড়িতে বসবাস করে সেটি ষোলতলা ফাউন্ডেশন করে বাড়ি বানাচ্ছে।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহজামান বলেন, জরিপ একজন স্থানীয় কুখ্যাত সন্ত্রাসী। সে এলাকায় চাঁদাবাজি, খুন, রাহাজানি, মাদক পাচারসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। গত ৬ সেপ্টেম্বর শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে চাঁদার দাবিতে মারধর করে। এরপর তিনি থানায় এসে মামলা দিলে আমরা জরিপকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠায়। জরিপ বাহিনীর অন্যান্য সাদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



মন্তব্য