kalerkantho


আশুলিয়ায় স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২১:৩৬



আশুলিয়ায় স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার

আশুলিয়ায় পৃথক স্থান থেকে এক দম্পতিসহ তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার বিকালে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার হাসান কলনিতে মজিবর দেওয়ানের মালিকানাধীন একটি ভাড়া দেওয়া বাড়ির কক্ষ থেকে রুনা আক্তার (২০) ও এবাদত হোসেন আকাশ (২৫) নামে এক দম্পতির ঝুলন্ত মৃতদেহ এবং শনিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে জনৈক আলম হোসেনের ভাড়া দেওয়া বাড়ির একটি কক্ষ থেকে এক নারী পোশাক শ্রমিকের অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত রুনা আক্তার ফেনীর পশুরাম থানার বদিউজ্জামানের মেয়ে। তিনি আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ডিইপিজেড) এ হোপলুন পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তার স্বামী এবাদত হোসেন বেকার ছিলেন এবং একই থানার তারিগ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে তিনি।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন জানান, এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে রুনা ও এবাদুলের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। একজনকে খাটের উপর ফ্যানের সঙ্গে ও অপরজনকে একটু দূরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় একটি তাদের ঘরে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে; যেখানে লেখা আছে, 'আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়'।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে দুইজনেই আত্মহত্যা করেছে। তবে বিষয়টি আরো তদন্ত করে ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অপরদিকে, শনিবার বিকালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে জনৈক আলম হোসেনের ভাড়া দেওয়া বাড়ির একটি কক্ষের দরজা ভেঙ্গে মাসুদ হোসেন নামে এক ব্যক্তির স্ত্রীর (২৭) মৃতদেহ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পালাতক রয়েছেন।

মাসুদের গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলায় বলে জানা যায়। তবে মাসুদের স্ত্রী পরিচয়দানকারী নিহত ওই নারী পোশাক শ্রমিকের কোনো নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তিনি আশুলিয়ার কোনো একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

নিহতের প্রতিবেশীরা জানান, কিছুদিন পূর্বে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে মাসুদ দম্পতি ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেয়। তবে তাদের নাম ঠিকানা তারা বা বাড়িওয়ালা জানাতে পারেন নি। মাসুদের স্ত্রী কোনো একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন ও স্বামী মাসুদ কাজরে সন্ধানে ছিলেন।

শনিবার বিকালে মাসুদের পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়ারা মাসুদের কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে বলে বাড়িওয়ালাকে জানালে তিনি থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুল হক ডাবলু জানান, বাড়ির একটি কক্ষের ভিতর থেকে দুর্গন্ধ আসছিল এবং কক্ষটি বাইরে থেকে দরজা তালাবদ্ধ ছিলো। এমন খবরের ভিত্তিতে নিশ্চিন্তপুরের ওই বাড়ির কক্ষটির দরজা ভেঙ্গে টয়লেটের ভিতর থেকে মাসুদের স্ত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের গলায় গামছা পেচানো অবস্থায় ছিল।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই-তিনদিন আগে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা শেষে লাশ ফেলে পালিয়ে গেছে নিহতের স্বামী। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ওই নারী পোশাক শ্রমিকের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনার আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।



মন্তব্য