kalerkantho


ছিনতাইকারী চক্রেরও আছে কল্যান ফান্ড!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ আগস্ট, ২০১৮ ২২:২৫



ছিনতাইকারী চক্রেরও আছে কল্যান ফান্ড!

পেশাদার ছিনতাইকারী একটি চক্রের ‘কল্যাণ ফান্ডে’র সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ইতোমধ্যে এই চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তারসহ এই ফান্ডে জমা করা নগদ ৮ লাখ টাকাও উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

শনিবার (১৮ আগস্ট ২০১৮) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপি'র অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. আব্দুল বাতেন।

শুক্রবার (১৭ আগস্ট ২০১৮) থেকে শনিবার পর্যন্ত (১৮ আগস্ট ২০১৮) ২৪ ঘণ্টা ধরে রাজধানীর নিউমার্কেট ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাই চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগ। এসময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ১২ টি মোবাইল ফোন সেট, ১টি চাপাতি, ২টি চাকু ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী চক্রের কল্যাণ ফান্ডে জমাকৃত ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে সাগর, আলী হাসান, সবুজ বিশ্বাস, রকি ওরফে নুরুজ্জামা,  মুক্তা বেগম, বেবি আক্তার, নুপুর ওরফে ঝুমুর ও লিটন মিয়া।

পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাই কাজে গিয়ে যদি চক্রের কোনও সদস্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গ্রেপ্তার হয় অথবা জনমানুষের   কাছে গণধোলাই খেয়ে আহত হয়  তবে তাদের ওই কল্যাণ ফান্ড (ব্যাক আপ ফান্ড) থেকে অর্থ নিয়ে তার মামলা পরিচালনা ও চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা হয়। এরজন্য চক্রের সদস্যরা তাদের প্রতিদিনের ছিনতাই করা অর্থের একটি অংশ ওই ফান্ডে জমা রাখে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার ছিনতাইকারী।  তাদের মধ্যে নারী সদস্যও রয়েছে। এরা একাধিক ছিনতাই মামলার আসামি। ইতোমধ্যে ৭-৮ বার তারা আটক হয়ে কারাগারেও গেছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে ১২টি মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়,  ৮টি মোবাইল ছিনতাই করতে তাদের মাত্র ৪ ঘণ্টা সময় লাগে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ছিনতাই পেশায় কাজ করছে। তাদের পোশাক দেখে খুব ভদ্র গোছের মানুষ মনে হলেও, মূলত তারা ছিনতাইকারী।

তিনি আরও বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, প্রতিদিনের ছিনতাইকৃত অর্থের একটি অংশ তারা চক্রের ‘সাধারণ কল্যাণ ফান্ডে’ জমা করে। এপর্যন্ত তারা ৮ লাখ টাকা জমা করেছে তাদের ফান্ডে। চক্রের কোনও সদস্য যদি গ্রেপ্তার হয়, তবে ওই সদস্যকে ছাড়ানোর জন্য ও তার মামলা পরিচালনার জন্য ওই ফান্ড থেকে অর্থ নিয়ে কাজে লাগায়। এছাড়াও কেউ যদি ছিনতাইয়ের সময় ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে আহত হয় তবে তার চিকিৎসা ব্যয়ও কমন ফান্ড থেকে দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, প্রতিদিন ছিনতাই কার্যক্রম পরিচালনা করে তারা কোনও মাসে  ৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা আবার কোনও মাসে ৩ লাখ টাকাও সংগ্রহ করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা তথ্য পেয়েছি।

তাদের এই চক্রের আরও সদস্য রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারেও গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।



মন্তব্য