kalerkantho


বিশ্বের ৭ম চাপের শহর ঢাকা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ আগস্ট, ২০১৮ ১১:০৮



বিশ্বের ৭ম চাপের শহর ঢাকা

বিশ্বে সবচেয়ে শারীরিক ও মানসিক চাপের শহরগুলোর সপ্তম স্থানে আছে ঢাকা। তবে এশিয়ায় ঢাকার অবস্থান আরো খারাপ৷ মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই চাপ হতাশার সৃষ্টি করে৷ এই হতাশার কারণে অনেক নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থা জিপজেট মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, ট্রাফিক জ্যাম, লৈঙ্গিক সমতাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে গত বছরের শেষদিকে এই তালিকা তৈরি করেছে৷ তাঁদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে কম চাপের শহর জার্মানির স্টুটগার্ট।

১৫০টি শহরের উপর করা বৈশ্বিক এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৪৪, যা এশিয়ার মধ্যে খুব খারাপ। তবে ঢাকার চেয়েও বেশি চাপের মধ্যে আছে ইরানের তেহরান, আফগানিস্তানের কাবুল, নাইজেরিয়ার লাগোস৷ তালিকার সবশেষে, মানে সবচয়ে বেশি চাপের শহর হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাকের রাজধানী বাগদাদ।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চাপের শহর বাগদাদ। তারপরই রয়েছে যথাক্রমে কাবুল, লাগোস, ডাকার, কায়রো এবং তেহরান। ঢাকা রয়েছে সপ্তম স্থানে৷ সবচেয়ে চাপের শহরের সেরা দশের তালিকায় অষ্টম, নবম ও দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে করাচি, মুম্বাই ও ম্যানিলা।

ঢাকার চেয়ে কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে ভারতের দিল্লি ও মুম্বাই৷  তাদের অবস্থান যথাক্রমে ১৪২ ও ১৩৮৷ পাকিস্তানের করাচি আছে ঠিক ঢাকার ওপরে, ১৪৩তম স্থানে৷ ঢাকা বিশ্বের অন্যতম চাপগ্রস্থ শহর হওয়ার পিছনে ছিল মূলত ট্রাফিক জ্যাম, ঘন জনবসতি ও দুষণ৷ এছাড়া ঢাকাবাসীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের র‌্যাংকিংও খুব ভালো নয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ মালেক বলেন, ঢাকা শহরের প্রধান সমস্যা যানজট৷ গাড়ি বেশি, সড়ক কম৷ ঢাকা একটা মেগাসিটি৷ এখানে অনেক লোকের বসবাস৷ এখানে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার, তা নেই৷ মার্কেটগুলো শহরে আরো চাপ তৈরি করছে৷ এর একটা প্রভাব আছে৷

তিনি বলেন, দুযোর্গ দুই ধরনের৷ একটা প্রাকৃতিক এবং আরেকটা মানুষের সৃষ্টি৷ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা অভ্যস্ত৷ এটা আমরা জানি কখন কী করতে হবে৷ কিন্তু মানুষের সৃষ্টি দুর্যোগের জন্য আমরা প্রস্তুত থাকি না সব সময়৷ তাই চাপ সৃষ্টি করে৷ আমরা এই শহরে যা আশা করি, তা পাই না৷ আবার একটি সমস্যার সমধান যত দ্রুত চাই, তা হয় না৷ এগুলো হতাশ করে৷ তাপরও মানুষ আশাবাদী৷ ঢাকা শহরের মানুষ আশা করে এসব সমস্যার সমাধান হবে৷

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম মনে করেন, ঢাকা শহর নানা দিক দিয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে৷ এটা বড় ধরণের মানসিক চাপে রাখছে ঢাকার অধিবাসীদের৷ তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে৷ বাসা থেকে কর্মস্থলে যেতে যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় পথে থাকতে হয়৷

তিনি বলেন, নাগরিকরা অনেক সুযোগ-সুবিধাই পায়না৷ তারপরও গ্যাস, বিদ্যুত, পানির দাম বাড়ছে, বাড়ছে হোল্ডিং ট্যাক্স৷ নগরবাসীর জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠছে৷

এর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর ফলে মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে৷ ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে৷ অল্পতেই রেগে যাচ্ছে৷ রগচটা হয়ে পড়ছে৷ সামাজিক আচরণে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে৷ তরুণ বা কমবয়সিরা এই মানসিক চাপ বা হতাশা থেকে মাদকাসক্ত হতে পারে, অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে৷

চাপ কম এমন বিবেচনায় শীর্ষ পাঁচটি শহরের তিনটি শহরই জার্মানির৷ স্টুটগার্ট প্রথম, হানোফার তৃতীয় এবং মিউনিখ রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে৷ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি রয়েছে তালিকার ৮ নম্বরে৷ শীর্ষের বেশিরভাগ শহরই ইউরোপের৷ এশিয়ার মধ্যে কম চাপের শহর সিঙ্গাপুর৷ তাদের অবস্থান ৪২৷ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রয়েছে তালিকার ৮৪ নম্বরে৷ মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের অবস্থান ১১০ তম। সূত্র- ডয়েচে ভেলে



মন্তব্য