kalerkantho


সংবাদ সন্মেলনে অভিযোগ

চাঁদা না দেওয়ায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মাদ্রাসা সুপার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ আগস্ট, ২০১৮ ১৮:১৫



চাঁদা না দেওয়ায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মাদ্রাসা সুপার

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় মাদ্রাসা সুপারকে মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে সন্ত্রাসী রুহুল আমিন বাহিনী। জামিনে বের হওয়া সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে মাদ্রাসায় যেতে পারছেন না মাদ্রাসা সুপার। এ অবস্থার অবসানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। 

আজ শনিবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার আক্কেলপুর নূরিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মান্নান বলেন, গত ২১ জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসার মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার সাথে সাথে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসী রুহুল আমিনের বাহিনীর সদস্য জুলহাস, ফারুক, আবু সালেহ, ইলিয়াস, মিরাজ, কেনান, আল আমিন, সাদ্দাম, আইয়ুব আলী ও মানিকসহ আরো কয়েকজন। 

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। এতে তাঁর বাম হাত ও ডান পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়। স্থানীয় মুসল্লিদের বাধার মুখে সন্ত্রাসীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। 

তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 

এ ঘটনায় গত ২৯ জুলাই আদালতে তার ছেলে মামলা করে (মামলা নম্বর : ২৬/১৮)। মামলা দায়েরের পর তার ছেলে ফয়সালকে খুন করার জন্য ৩০ জুলাই বিকেলে রুহুল আমিন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা তাঁর বাড়িতে ঢুকে খুঁজতে থাকে। তাঁকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবাদ কাগজপত্র লুট করে। তার বৃদ্ধ মা-বাবা ও তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা খুশিকে মারধর করে। পরে মামলা না তুললে পরিবারের সবাইকে খুন করবে বলে হুমকি দেয়।

তিনি আরো বলেন, একই দিনে ওই সন্ত্রাসী বাহিনী তার শ্বশুরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ট্রাক্টর লুট করে নিয়ে যায় এবং তার শ্যালক আমীন মৃধার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। 
পরবর্তীতে কলাপাড়া থানা পুলিশের হাতে কয়েকজন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয় এবং পুলিশের সহায়তায় ট্রাক্টর উদ্ধার করা হয়। জামিনে মুক্ত হওয়া সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে বেশ কয়েকটি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ অবস্থার অবসানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা সুপারের পিতা মোতালেব শরীফ, ছেলে ফয়সাল শরীফ, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য নূর সাঈদ হাওলাদার ও স্থানীয় ইদ্রিস মোল্লাসহ অন্যরা।

 



মন্তব্য