kalerkantho


ঢাকা দক্ষিণে কাউন্সিলরের স্ত্রীর নামে মুরগি পট্টির দোকান!

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল    

২১ জুলাই, ২০১৮ ১১:৩৭



ঢাকা দক্ষিণে কাউন্সিলরের স্ত্রীর নামে মুরগি পট্টির দোকান!

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু আহম্মেদ মন্নাফী তাঁর স্ত্রীর নামে কাপ্তান বাজারের মুরগিপট্টিতে একটি দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন। আহমেদ মন্নাফী ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদেও রয়েছেন। স্ত্রীর নামে মুরগিপট্টিতে দোকান বরাদ্দ নেওয়াটা অনেক কাউন্সিলর ও সুধীসমাজের মানুষ ভালোভাবে নেননি। অনেকে এর সমালোচনা করেছেন।  

আবু আহমেদ মন্নাফী জানান, লটারির মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী ওই দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজন মিলে ৫০-৬০টি আবেদন করেছিলাম। কিন্তু লটারিতে শুধু আমার স্ত্রীর নামে পেয়েছি। এখানে আরো অনেক কাউন্সিলর তাঁদের স্ত্রীর নামে এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলরাও দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন। এতে তো দোষের কিছু নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তো মানুষ, আমাদের নানা ধরনের আর্থিক ব্যয় রয়েছে। সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও অসহায় মানুষের পাশে সাহায্য নিয়ে দাঁড়াতে হয়। এখন একটি দোকান বরাদ্দ পেলে সেটি তো অন্যায় কিছু না।’

তবে কাউন্সিলর হয়ে নিজ এলাকায় সিটি করপোরেশনের দোকান বরাদ্দ নেওয়া নৈতিকতা বিবর্জিত বলে মনে করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘আইনে যা-ই থাকুক না কেন, এটি নির্লজ্জ কাজ। মানুষের ভোট নিয়ে সেবা না দিয়ে নিজেদের মধ্যে দোকান ভাগ-ভাটারোয়া করা শুভ লক্ষণ নয়। আমরা আশা করব এ ধরনের কাজ থেকে তাঁরা বিরত থাকবেন।’

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে ডিএসসিসির কাপ্তান বাজার মুরগিপট্টির শেরেবাংলা মালেক শাহ হকার্স মার্কেটে দোকান বরাদ্দের জন্য প্রসপেক্টাস ছেড়ে আবেদন আহ্বান করা হয়। এখানে দোকান করা অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় প্রায় ৪০০ দোকানের বিপরীতে কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়ে। গত ২০ ও ২১ জুন এসব দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাউন্সিলররা তাঁদের নিজ নামে আবেদন না করে বেনামে আবেদন করে দোকান বরাদ্দ নেন। আহমেদ মন্নাফী তাঁর স্ত্রী মাহমুদা মন্নাফীর নামে একটি দোকান বরাদ্দ নেন। এ ছাড়া কয়েকজন সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরের স্ত্রী, স্বামী, সন্তান ও আত্মীয়দের নামে দোকান বরাদ্দ রয়েছে বলেও জানা যায়।

জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’ ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সর্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 



মন্তব্য