kalerkantho


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সহপাঠীর হাত ধরে হাঁটায় মারধর: তিন ছাত্রলীগ কর্মী বহিস্কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৫ জুলাই, ২০১৮ ২১:১১



সহপাঠীর হাত ধরে হাঁটায় মারধর: তিন ছাত্রলীগ কর্মী বহিস্কার

সহপাঠীর হাত ধরে হাঁটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে সুর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। আজ রবিবার সন্ধ্যায় এই বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক একে এম গোলাম রব্বানী কালের কন্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

বহিষ্কৃতরা হলেন- উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সিফাত উল্লাহ সিফাত, সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোল্লা মোহাম্মদ আল ইমরান পলাশ, ইংলিশ ফর স্পিকারস অব আদার ল্যাঙ্গুয়েজেস (ইসোল) বিভাগের মাহমুদ অর্পন। 

বহিস্কারের পাশাপাশি ওই ঘটনায় সুর্যসেন হলের হাউস টিউটর অধ্যাপক তারিক জিয়াউর রহমান সিরাজীকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- হলের হাউস টিউটর অধ্যাপক আহমেদুল কবির ও আব্দুল মোমেন। তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী রোকেয়া গাজী লীনা ও তার বন্ধু আসাদুজ্জামান প্রান্ত কার্জন হলে যেতে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় ১০-১২ ছাত্র তাদের পথরোধ করে উদ্ধত ভঙ্গিতে পরিচয় জানতে চান ও আইডি কার্ড দেখাতে বলেন। পরিচয় দিয়ে কারণ জানতে চাইলেও তারা কার্ড দেখাতে বলে। কিন্তু কার্ড দেখানোর পর তাদের একজন ‘প্রথম বর্ষের ছেলে কি তোরে চার্জ করতে পারে না? ১ম বর্ষের পোলাপানের হাতে মাইর খাইতে খুব মজা লাগব’ বলে আসাদকে থাপ্পড় মারে। এ সময় সবাই আসাদকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। লীনা বাঁচাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। মেরেই তারা সূর্যসেন হলের ভেতরে ঢুকে গেলে আসাদও পেছন পেছন ঢুকে মারধরের কারণ জানতে চান। তখন তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে অন্তত ১৫ জন গেস্ট রুম থেকে স্ট্যাম্প ও কাঠ নিয়ে এসে আসাদকে বেধড়ক পেটায়। লীনা আবারও তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীর পায়ের বুড়ো আঙুলের নখ উঠে যায়।

এ ঘটনার বিচার দাবি করে আজ রবিবার লিখিত আবেদন করেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ঘটনায় জড়িতদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। আবেদনপত্রে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হামলার ঘটনায় তিন ছাত্রলীগ কর্মীর নাম উল্লেখ করেন।

বহিষ্কারের বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক একে এম গোলাম রব্বানী কালের কণ্ঠকে বলেন, ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর জবানবন্দি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজের সত্যতার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তীতে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 



মন্তব্য