kalerkantho


তাদের মা এখন ভালো আছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ জুলাই, ২০১৮ ১৮:৫৮



তাদের মা এখন ভালো আছে

শনিবার রাত থেকে কয়েকটি স্থির চিত্র ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যাচ্ছিল এক ছিন্নমূল নারী ফুটপাতে অসুস্থ হয়ে শুয়ে আছেন। আর তাঁর দুই শিশু সন্তানকে তাকে সুস্থ করার জন্য মাথায় পানি ঢালছে। শনিবার রাত আর রবিবার সারাদিন এই ছবিগুলো দেশের সোশ্যাল মিডিয়া দখল করে রেখেছিল। কোথাকার ঘটনা, কেন এই অবস্থা কিংবা ওই নারীকে সহায়তার জন্য অনেকেই আগ্রহী হয়ে ওঠে।

জানা যায় ভিডিওটা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথম করেন পারভেজ হাসান নামের এক তরুণ। তিনি লেখেন,  ‘ভিডিওটা আপ দিতাম না। কারণ এমন ঘটনার সাক্ষী আমি মাঝে মধ্যেই হই! কিন্তু আজকের ঘটনাতে একটা শিক্ষণীয় বিষয় ছিল তাই দিতে বাধ্য হলাম। 3D max এর ক্লাস করে ফিরছিলাম। উদ্দেশে ধানমন্ডি ব্যাচেলর পয়েন্ট। ভাবলাম হেঁটেই যাই। রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম। রাস্তার পাশে চোখ যেতেই দৃষ্টি আটকিয়ে গেলো। এই মহিলাকে আমি এর আগেও লেকের আশপাশে দেখেছি। হয়তো ফুল বেচে! আজ দেখলাম শুয়ে আছে। ঘটনা সেটা না, ঘটনা হচ্ছে- এই বাচ্চার কাজ দেখে মাথায় পানি দিতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে? বললো জ্বর আসছে মায়ের! আমি অবাক হলাম এইটুকু একটা বাচ্চা কীভাবে বুদ্ধি করে মায়ের মাথায় জল দিচ্ছে। অথচ আমাদের সমাজে অনেক ছেলেমেয়েই আছে সুস্থ মায়েরই সেবা করতে চায় না!

পারভেজ আরো লেখেন, এটা লিখার উদ্দেশ্য একটাই। তা হলো নিজেকে ভালো মানুষ প্রমাণ করা তা কিন্তু নয়। উদ্দেশ্য হলো আমার মাত্র ৬৫ টাকা খরচে। আল্লাহ চাইলে এই বাচ্চাগুলো তার মাকে কাল সুস্থ দেখবে। তার মা তাদের দায়িত্ব নিবে কাল থেকে। অথচ যদি মেডিসিন না নিয়ে কিছু একটা হয়ে যেত এই বাচ্চাগুলোর কি হতো? ভেবেছেন? সমাজ কাল তাদের টোকাই বলে তাড়িয়ে দিতো! লাস্ট একটা কথাই বলতে চাই! প্লিজ একটু খেয়াল রাখবেন। কারণ এই সমাজ আপনার আমার, নিজেরা খেয়াল না রাখলে সমাজ আর সমাজের মানুষগুলো ভালো থাকবে না! আপনার ৫০ টাকা আর একটু সাহায্যই পারে কাউকে তার সুস্থতা ফিরিয়ে দিতে।

এরপর সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে ছড়িয়ে যেতে থাকে সেই ছবি ও ভিডিও। এরপর একদিন পর অর্থাৎ রবিবার ওই নারীকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করান পারভেজ ও তার বন্ধুরা। পারভেজ আজ একটি ফেসবুক পস্টে বিষয়টি জানিয়ে লেখেন, আপনারা যারা খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, এই অসহায় মহিলা কেমন আছে? বা সেই বাচ্চাগুলোর কি খবর? তাদের সবাইকে আনন্দের সাথে বলছি, তারা এখন সুস্থ আছে। আজ সেই অসহায় মহিলাকে আমি আর ৫ জন ভাইয়া মিলে হসপিটালে ভর্তি করিয়েছি। তখন তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ডাক্তার বলেছে, তিনি আল্লাহর রহমতে ঠিক আছেন। কারণ আগের রাতে তাকে মেডিসিন দেওয়া হয়েছিল! চিকিৎসা শেষ করে মহিলার ছোট দুটো বাচ্চার জন্য নতুন জামা প্যান্ট সাথে মহিলার জন্য নতুন সাড়ি কিনে দেওয়া হয়েছে! তাদের সাময়িক খাবার দেওয়া হয়েছে। এর ভেতর যাদের কথা বলতে চাই! ইয়ামিন ভাইয়া এবং সাথে আরো ৩ জন ভাইয়া ছিল যারা যথেষ্ট সাহায্য করেছে, ডাক্তার তার ফি নেয়নি।



মন্তব্য