kalerkantho


প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএমপিআইএ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ জুন, ২০১৮ ২০:৪৪



প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএমপিআইএ

প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে জারিকৃত মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন-১৬৮ এর কয়েকটি শর্ত দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট সংযোজন ও উৎপাদন শিল্পের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এর ফলে মোবাইল ফোন শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্বপ্ন চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)-এর কর্মকর্তারা।

তারা বলেন, অর্থমন্ত্রী’র বাজেট বক্তব্যে তিনি মোবাইল হ্যান্ডসেট সংযোজন ও উতৎপাদন বান্ধব নীতি গ্রহণের কথা বলেছেন। তার এই নীতিকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি এবং তার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। তবে প্রজ্ঞাপনে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে তা তার বক্তব্যের সাথে যায় না।
 
প্রজ্ঞাপনের শর্ত (ক)-তে বলা হয়েছে, 'সংযোজন প্রতিষ্ঠান ব্যতীত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইহা প্রযোজ্য হইবে।' এই শর্ত অনুযায়ী শুধু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতামুক্ত থাকবে, সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান  নয়। অথচ গত অর্থ বছরের বাজেটের সময় জারি করা প্রজ্ঞাপনে সংযোজন এবং উতৎপাদনকারী উভয় প্রতিষ্ঠানকেই ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমপিআইএ সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুবসহ উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সন বাংলাদেশ লিমিটেড (আইটেল) সিইও রেজওয়ানুল হক, এডিসন গ্রুপ চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ, ইউনিয়ন গ্রুপ (নোকিয়া, আইফোন) ম্যানেজিং ডিরেক্টও রকিবুল কবির, বিএমপিআইএ সাধারণ সম্পাদক ও এডিসন গ্রুপ (সিম্ফোনি)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাকারিয়া শহীদ এবং ফেয়ার গ্রুপ (স্যামসাং) চিফ মার্কেটিং অফিসার ও বিএমপিআইএ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন।
    
সংগঠনটির পক্ষে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং গত বছরের প্রজ্ঞাপন সুবিধার কারণে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দ্রুততম সময়ে সংযোজন কারখানা স্থাপন করেছে যার মধ্যে উল্লেযোগ্য বিখ্যাত ব্র্যান্ড হচ্ছে - স্যামসাং, সিম্ফনি, আইটেল, ওয়াল্টন ও উই।

এই কারখানাগুলোতে শত-শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে যা অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।  কিন্তু এক বছর না পার হতেই  এবারের  বিপরীত প্রজ্ঞাপন জারি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে  বিস্ময় এবং হতাশার সৃষ্টি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বের সকল মোবাইল প্রস্ততকারক কোম্পানি একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফোন তৈরির জন্য অনেকগুলো সহযোগী শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে যন্ত্রাংশ সরবরাহ নিয়ে তা সংযোজনের মাধ্যমেই নিজস্ব ব্র্যান্ড-এর মোবাইল উৎপাদন করে থাকে। এসব যন্ত্রাংশের  মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- পিসিবিএ, ডিসপ্লে, আইডি হাউজিং, এসএমটি, চিপসেট, মেমোরি, ব্যাটারি, চার্জার ইত্যাদি। মোবাইল একটি প্রযুক্তি-নির্ভর শিল্প, যেখানে বিশ্বের কোনো কোম্পানিই এককভাবে সবগুলো যন্ত্রাংশ প্রস্তত করে না।  সেক্ষেত্রে  বাংলাদেশে এসব যন্ত্রাংশ এক সাথে তৈরি কীভাবে সম্ভব?

বিএমপিআইএ  নেতৃবৃন্দ বলেন,   ২০১৭-১৮ সালের বাজেটে ঘোষিত সুবিধার কারণে কোম্পানিগুলো বিশাল বিনিয়োগ করে কারখানা স্থাপন করেছে, সেখানে মাত্র এক বছরের মধ্যে অতিরিক্ত ১৫% ভ্যাট আরোপ  করার কারণে পূর্ণাঙ্গ মোবাইল আমদানির খরচের চাইতে স্থানীয়ভাবে সংযোজিত মোবাইলের খরচ বেশি পড়বে।

ফলে কোনোভাবেই এই সংযোজনশিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না এবং বিনিয়োগকারীরা বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এছাড়া এসব কারখানায় ইতোমধ্যে নিযুক্ত হাজার হাজার শ্রমিক কর্মীরাও কর্মসংস্থান হারাবে।
 
প্রজ্ঞাপনের (ঙ) শর্ত অনুযায়ী যেসব যন্ত্রপাতি স্থাপনের কথা বলা হয়েছে তা অবাস্তব। এখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মুসক প্রজ্ঞাপনের (চ) শর্ত অনুযায়ী ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনও বাস্তব সম্মত নয়।

বিএমপিআইএ  এ অবস্থায় প্রজ্ঞাপনটিতে বাস্তবসম্মত শর্ত অন্তর্ভুক্ত করার এবং সংযোজন শিল্পকে ভ্যাটমুক্ত করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানায়।
 
এছাড়া মোবাইল হ্যান্ডসেট একটি প্রযুক্তি ভিত্তিক শিল্প হওয়ায় দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি এবং দেশি বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর এই সংযোজন শিল্পে নীতিমালার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা অত্যাবশ্যক বলে  মনে করে সংগঠনটি।

 

 



মন্তব্য