kalerkantho


আহত ২

আশুলিয়ায় যাত্রীবেশে বাসে ডাকাতি, চালককে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৭:৫৮



আশুলিয়ায় যাত্রীবেশে বাসে ডাকাতি, চালককে হত্যা

আশুলিয়ায় যাত্রীবাহী বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে (প্রাইভেটকার) ডাকাতদের তৎপরতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে আশুলিয়ায় চলন্ত গাড়িতে ঢিল ছোড়া ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়ে প্রাণ হারান সম্ভাবনাময় এক চিকিৎসক ডা: রুবেল দেওয়ান (৩৮)। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল সোমবার গভীর রাতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় ধলেশ্বরী পরিবহনের ‘ইনসাফ ক্লাসিক’ (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৬৪৪৬) নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে যাত্রীবেশী কয়েকজন ডাকাত হানা দিয়ে ছুরিকাঘাত করে বাসটির চালককে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন চালকের সহকারী (হেলপার) ও সুপারভাইজারসহ কয়েকজন যাত্রী। ডাকাতরা ওই বাস থেকে যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে চালকের সহকারী (হেলপার) বাদশা মিয়াকে (২৮) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন জানান, নিহত বাসচালকের নাম মো. শাহজাহান মিয়া (৩৮)। তিনি টাঙ্গাইল সদরের চরজানা গ্রামের প্রয়াত বিশা মিয়ার ছেলে। আহত সুপারভাইজার শহিদুল খানকে (৩০) সাভার গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার পাছতা গ্রামের মৃত ইবাদত খানের ছেলে। গুরুতর আহত চালকের সহকারী বাদশা মিয়া একই জেলার সদর থানাধীন বিশ্বাস বেতকা গ্রামের মৃত সানোয়ার হোসেনের ছেলে। আশুলিয়া থানা পুলিশ সোমবার গভীর রাতে আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের শ্রীপুর এলাকা থেকে বাসটি থেমে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ওই বাসের কয়েকজন যাত্রী ও আহতদের বরাত দিয়ে এসআই ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী নিয়ে সোমবার রাতে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ইনসাফ ক্লাসিক নামের বাসটি। রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রীবেশে ১০/১৫ জনের একদল ডাকাত ওই বাসে ওঠে। মির্জাপুর থেকে বাস ছাড়ার কিছু সময় পর ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে মালামাল ও নগদ অর্থ লুটে নিতে থাকে। এ সময় তাঁরা কয়েকজন যাত্রীকে মারধর করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে কয়েকজন ডাকাত বাসচালক শাজাহানের কাছ থেকে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় 
বাসচালক শাজাহান বাধা দিলে ডাকাতরা তাঁকে জোর করে আসন থেকে তুলে এনে ছুরিকাঘাত করে পিছনের দিকে যাত্রীদের আসনে বসিয়ে রেখে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। চালকের সহকারী বাদশা মিয়া এ সময় এগিয়ে গেলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর ডাকাতরা নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আশুলিয়ার শ্রীপুরে ডিইপিজেডের অদূরে শমসের প্লাজার সামনে বাস রেখে পালিয়ে যায়। সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে সড়কে ডিউটিরত অবস্থায় তিনি (এসআই ফারুক) ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের ভিতরে চালক, চালকের সহকারী  ও সুপারভাইজরকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় বাসে কোনো যাত্রী ছিল না। ডাকাতের কবল থেকে উদ্ধার পাওয়ার পরপরই যাত্রীরা যার যার গন্তব্যে চলে যান।  পরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাসচালক শাহজাহান মিয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় চালকের সহকারী বাদশা মিয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চালক শাজাহান মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। 

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল আউয়াল বলেন, বাসটি জব্দ করা হলেও ডাকাত সদস্যদের আটক করা যায়নি। ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে এবং গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 

এর আগে  গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে আশুলিয়ার আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের মরাগাং এলাকায় চলন্ত গাড়িতে ঢিল ছোড়া ডাকাত চক্রের কবলে পড়ে প্রাণ হারান ডা: রুবেল দেওয়ান (৩৮)। তিনি ওই রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে নিজ প্রাইভেটকারযোগে সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। তিনি আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের আশুলিয়ার মরাগাং এলাকায় পৌঁছলে তাঁর প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে কে বা কারা ঢিল ছোড়ে। তখন চালক গাড়ি থামালে ডা: রুবেল গাড়ি থেকে নামতেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর দিকে দৌঁড়ে আসে। তখন তিনি দৌঁড় দিলে একটি ট্রাক ডা: রুবেলকে পিষ্ট করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। 
   


মন্তব্য