kalerkantho


সংসদ ভবনের স্থাপত্য শৈলীতে মুগ্ধ সুইস রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৮:৩৭



সংসদ ভবনের স্থাপত্য শৈলীতে মুগ্ধ সুইস রাষ্ট্রপতি

জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্য শৈলীতে মুগ্ধ সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি আঁলা বেরসে। এ তথ্য উল্লেখ করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, তার আমন্ত্রণে এক অনির্ধারিত কর্মসূচিতে বুধবার সকালে সংসদ ভবন পরিদর্শন করেন বেরসে। এর আগে হোটেল সোনারগাঁও'তে তাদের সাক্ষাৎ হয়। 

পরিদর্শনকালে সুইস প্রেসিডেন্ট সংসদের দক্ষিণ প্লাজা, অধিবেশন কক্ষ ও বিভিন্ন লবি ঘুরে দেখেন। তার সাথে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনে হোলেষ্টাইন। স্পিকার নিজেই তাদেরকে স্বাগত জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ আতিউর রহমান আতিক, মো. শহীদুজ্জামান সরকার, ইকবালুর রহিম ও মো. শাহাব উদ্দিন এবং সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. আবদুর রব হাওলাদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

আঁলা বেরসের এই তাৎক্ষণিক পরিদর্শন প্রসঙ্গে স্পিকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিনি সংসদ ভবনের স্থাপত্য শৈলীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাকে আমাদের সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কেও বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে। সব কিছুতেই তিনি মুগ্ধ।’ 

বেরসের এ পরিদর্শন বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সংসদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্পিকার। 

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় হোটেল সোনারগাঁও-তে সৌজন্য সাক্ষাতে রোহিঙ্গা ইস্যু, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, দারিদ্র বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ দ্বি-পাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেরসে ও শিরীন শারমিন । 

এ সময় সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতিকে স্পিকার বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে সীমান্ত খুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার নবদিগন্তের সূচনা করেছেন। জাতিসংঘে তাঁর প্রস্তাবিত পাঁচ দফার আলোকেই রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের প্রক্রিয়া চলমান।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনে মিয়ানমারকে এগিয়ে আসতে হবে।’ 

এ ছাড়াও স্পিকার রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আর্ন্তজাতিক জনমত তৈরি ও মিয়ানমারের মানবতা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সুইস সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। তা ছাড়াও কক্সবাজারের কুতুপালং এর রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবনযাপন সরেজমিনে পরিদর্শন করায় তিনি প্রেসিডেন্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। 

এরই প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আঁলা বেরসের বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে, যা প্রশংসনীয়। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী প্রত্যাবর্তনে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের পাশে থাকবে মর্মে তিনি আশ্বস্ত করেন।’

এর আগে স্পিকার বলেন, ‘নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ একইসঙ্গে তিনি নারীর প্রশিক্ষণ, দক্ষতাবৃদ্ধি ও তরুণ প্রজন্মকে মানব সম্পদে পরিণত করতেও সুইজারল্যান্ডকে পাশে থাকার অনুরোধ জানান। 

পাল্টা জবাবে বেরসে তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অনুকরণীয় এবং অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচকে ও দারিদ্র বিমোচনে এদেশের অগ্রগতি লক্ষ্যনীয়।’ 

গত বছর ১৩৬তম আইপিইউ (ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন) সম্মেলন ও ৬৩তম সিপিসি (কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্স) সফলভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। ওই দুই সম্মেলন কৃতিত্বের সাথে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি স্পিকারেরও প্রশংসা করেছেন। বেরসে দুই দেশের সংসদ সদস্যদের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে বিদ্যমান সম্পর্ক আরো জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের জনগণকে অতিথি পরায়ন ও আন্তরিক বলেও উল্লেখ করেন।


মন্তব্য