kalerkantho


বিএসএমএমইউ

ঢাবির দুই ছাত্রকে মারধর করল আনসার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৩:২০



ঢাবির দুই ছাত্রকে মারধর করল আনসার

রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে কর্তব্যরত আনসার সদস্যের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র। তাঁরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মনোয়ার হোসেন মান্না ও আশিক আব্দুল্লাহ অপু।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বিকেলে বহির্বিভাগ-২ ভবনে চিকিত্সাসেবা নেওয়ার জন্য টিকিট কাউন্টারে টিকিট আছে কি না জানতে যান দুই শিক্ষার্থী। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত এক আনসার সদস্য শিক্ষার্থী মান্নার জামার কলার ধরে টান দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। অন্য এক আনসার সদস্য তাঁকে (মান্না) অকথ্য ভাষায় গালি দেন।

পরে ওই শিক্ষার্থী গালি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আনসার সদস্যরা দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আনসার সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতি হয়। এ সময় মেডিক্যালের কয়েক শ আনসার সদস্য ও কর্মচারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ওপর হামলা করেন। এতে করে সেখানে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল সাংবাদিকদের বলেন, 'চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে আনসার সদস্যদের মারধর করার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। শিগগিরই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, দ্রুতই ক্লোজড সার্কিট টিভি ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মনোয়ার হোসেন মান্না কালের কণ্ঠকে বলেন, 'গত বিকেলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিতে যাই। সেখানে গিয়ে টিকিট কাউন্টারে টিকিট আছে কি না জানতে গেলে আমাকে পেছন থেকে এক আনসার সদস্য জামার কলার ধরে টান দেয়। পরে কারণ জানতে চাইলে সে আমাকে গালি দিয়ে মুখে কিল-ঘুষি মারে। এ সময় সে আমার বন্ধুকেও মারধর করে।'

এ বিষয়ে ওই আনসার সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য