• ই-পেপার

রাজধানীতে বিষপানে মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

পচে গেল ২০ মরদেহ, চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটে ঢাকা মেডিক্যাল

অনলাইন ডেস্ক
পচে গেল ২০ মরদেহ, চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটে ঢাকা মেডিক্যাল

নানা ধরনের চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটে ভুগছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় উপকরণ রোগী ও তাদের স্বজনদের নিজেদের অর্থে কিনে আনতে হচ্ছে।

সম্প্রতি হাসপাতালের মর্গে মরদেহ সংরক্ষণের হিমাগার বিকল হয়ে যাওয়ায় সেখানে রাখা অজ্ঞাতনামা নবজাতকসহ প্রায় ২০টি মরদেহ পচে পোকা ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত রোগী ছাড়াও রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা, সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতসহ নানা ঘটনায় আহত রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রধান ভরসা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ।

প্রতিদিন এ বিভাগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নেন, যার মধ্যে প্রায় ৩৫০ জন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত রোগী। এসব রোগীর জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয় এই বিভাগে।

হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ হলেও নিয়মিতভাবে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (০৯ জুন) হাসপাতালের ১১৫ নম্বর অর্থোপেডিক ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, গজ, ব্যান্ডেজ ও প্লাস্টার ব্যান্ডেজের তীব্র সংকট রয়েছে। এছাড়া আরও কিছু সামগ্রী সংকট রয়েছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীদের স্বজনদের বাইরে থেকে চিকিৎসাসামগ্রী কিনে আনতে হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতস্থান পরিষ্কারের অ্যান্টিসেপটিক তরল ও ড্রেসিং সামগ্রীরও ঘাটতি রয়েছে। তবে সংকটের মধ্যেও চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গের কর্মচারী রামু দাস বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মর্গের ৪০ মরদেহ সংরক্ষণক্ষমতাসম্পন্ন হিমাগারটি বিকল ছিল। ফলে সেখানে রাখা অজ্ঞাতনামা নবজাতকসহ প্রায় ২০টি মরদেহ পচে যায় এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্রুত হিমাগারটি মেরামত করে।

তিনি জানান, বর্তমানে যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, ঢাকা রেলওয়ে থানা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা নবজাতকসহ ছয়টি মরদেহ পচে যাওয়ার পরও মেরামতের পর হিমঘরে রাখা হয়েছে। এর আগে এসব মরদেহ লাশকাটা ঘরে এসি চালিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

এছাড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর হিমঘরটি সময়মতো মেরামত না হওয়ায় ১৫টি মরদেহ দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামকে হস্তান্তর করা হয়। সকালের দিকে আরও ছয়টি মরদেহ দাফনের জন্য তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

ট্রেন দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন ঘটনায় মৃত্যু হওয়া এসব মরদেহ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পুলিশের নির্দেশে দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অর্থবছরের শেষ দিকে সাময়িক কিছু সংকট দেখা দিলেও তা কাটিয়ে ওঠা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দুই-এক দিনের মধ্যেই সরবরাহ পৌঁছে যাবে।

জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন (আরএস) ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, হাসপাতালটিতে শয্যা সংখ্যার তুলনায় দেড় গুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। প্রতিদিন জরুরি বিভাগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নেন এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে ভর্তি করা হয়। এছাড়া আহত হয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ জন রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে প্লাস্টার ব্যান্ডেজ, ক্ষতস্থানে সেলাইয়ের সুতা, ড্রেসিং সামগ্রী ও কিছু অ্যান্টিসেপটিক দ্রব্য সাময়িক সংকটে পড়েছে। তবে ওষুধের বড় কোনো সংকট নেই। ব্যথানাশক ও গ্যাস্ট্রিকের ইনজেকশন পর্যাপ্ত রয়েছে। হাসপাতালে যেসব ওষুধ বা সামগ্রী নেই, প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো রোগীদের বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে বলা হচ্ছে।

হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, অর্থবছরের শেষ সময়ে কিছু সরঞ্জাম সংকট তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের অন্যান্য খাতের বরাদ্দের টাকা দিয়ে মালামাল ক্রয় করা হচ্ছে। তবে দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম

তরুণদের ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে বাজেটে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
তরুণদের ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে বাজেটে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর দাবি
ছবি : কালের কণ্ঠ

তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং দেশে অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) ক্রমবর্ধমান বোঝা কমাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের দাম ও কর বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত ‘তরুণদের তামাক ব্যবহার ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ দাবি জানান। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় এবং প্ল্যাটফর্ম অব মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল সোসাইটির উদ্যোগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন
‘বর্তমানের ট্যাক্সেশন সিস্টেম সংস্কারের প্রয়োজন’

‘বর্তমানের ট্যাক্সেশন সিস্টেম সংস্কারের প্রয়োজন’

 

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক রোগে। হৃদরোগ, ক্যান্সার, স্ট্রোক ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক ব্যবহার। সহজলভ্যতা ও তুলনামূলক কম দামের কারণে বিপুলসংখ্যক তরুণ ধূমপানে আসক্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।

প্রবন্ধে আরো উল্লেখ করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা।
তাই আগামী বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ এবং উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম যথাক্রমে ১৫০ ও ২০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, অসংক্রামক রোগ বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। তরুণ বয়সে তামাকের আসক্তি শুরু হলে পরবর্তী জীবনে বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই তরুণদের তামাক থেকে দূরে রাখতে কার্যকর মূল্য ও কর বৃদ্ধি জরুরি।

আরো পড়ুন
রংপুর আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মারধর, দুই মুহুরী গ্রেপ্তার

রংপুর আদালত চত্বরে আইনজীবীদের মারধর, দুই মুহুরি গ্রেপ্তার

 

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তামাকপণ্যের দাম বাড়ালে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে তামাক ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, বিদ্যমান বহুস্তরবিশিষ্ট কর কাঠামো সংস্কার করা হলে সরকার ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করতে পারবে।

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আখতারউজ-জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য কমপক্ষে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা উচিত। এতে তরুণদের ধূমপান শুরু করার প্রবণতা কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

সভাপতির বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, কার্যকর তামাক করনীতি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রস্তাবিত কর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সেমিনারে চিকিৎসক, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার।

ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় মুখর ঢাকা রেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় মুখর ঢাকা রেঞ্জ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাতে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম মল্লিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন আরআরএফ কমান্ড্যান্ট (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) রুমানা আক্তার, অ্যাডিশনাল ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) এম এ জলিল, অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. সায়ফুজ্জামান ফারুকী এবং অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশন্স) মো. সিদ্দিকুর রহমান।

এ ছাড়া ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন ১৩ জেলার পুলিশ সুপার ও তাদের প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা, তাদের পরিবার-পরিজন এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক পুলিশ সদস্যকে উৎসবের সময়ও পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়। এমন আয়োজন তাদের কর্মব্যস্ত জীবনে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে এটি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও পেশাগত বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করতে সহায়তা করে।

আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আমন্ত্রিত শিল্পী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে গান ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রাণবন্ত পরিবেশনায় পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবের আমেজে ভরে ওঠে।

ঢাকা রেঞ্জ সূত্র জানায়, সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার পাশাপাশি ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতেই এই আয়োজন।

১৬ হাজার পিস ইয়াবার চালানসহ ‘গডফাদার’ বাবু আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ হাজার পিস ইয়াবার চালানসহ ‘গডফাদার’ বাবু আটক

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কুখ্যাত মাদক কারবারি মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবুকে (৪৫) আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

ডিএনসি বলছে, টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে ঢাকা হয়ে দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে সরবরাহের একটি বড় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় গোলচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছে থাকা একটি শপিং ব্যাগ থেকে স্কচটেপ ও টিস্যু দিয়ে মোড়ানো ১৬ হাজার পিস ইয়াবা এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

ডিএনসি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন বাবুল হোসেন। তথ্য ছিল, তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে যশোরগামী একটি বাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে যাচ্ছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের তত্ত্বাবধানে একটি দল যশোরগামী ‘লিটন ট্রাভেলস’ বাসে তল্লাশি চালায়। পরে সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে থাকা বাবুলকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানান, কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তিনি যশোরে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থানের সুবাদে যশোর, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে প্রথমে কেরানীগঞ্জে মজুদ করা হতো। এরপর বাসযোগে যশোরে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করা হতো। অন্যান্য মহাসড়কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকায় বিকল্প এই রুট ব্যবহার করছিল চক্রটি।

ডিএনসির ভাষ্য, আটক বাবুল এর আগেও একাধিক বড় চালান পাচার করেছে বলে স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিএনসি জানিয়েছে, ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরো জোরদার করা হবে।

রাজধানীতে বিষপানে মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু | কালের কণ্ঠ