kalerkantho


শিক্ষার্থীর ক্ষতস্থানে আঘাত করলো ছাত্রলীগ নেতা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শিক্ষার্থীর  ক্ষতস্থানে  আঘাত করলো ছাত্রলীগ নেতা

সংগঠনের নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীমউদ্দীন হলের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তাঁরা ওই শিক্ষার্থীর পেটে লাথি দেন, যেখানে সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হয়েছে। বিচার করার নামে রাত আড়াইটা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। শিবির ও জঙ্গি বলে থানায় দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।

এ ছাড়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী হরতালে অংশগ্রহণের জের ধরে চারুকলায় এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন এক শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমাজকল্যাণ সম্পাদক।

জসীমউদ্দীন হলে মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম মো. রিফাত ইসলাম। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি  বলেন, বুধবার রাত নয়টার দিকে ছাত্রলীগের বড় ভাইয়েরা ভর্তির পে-ইন-স্লিপ নিয়ে তাঁকে হলের ২১৫ নম্বর কক্ষে যেতে বলেন। পে-ইন-স্লিপ নিতে নিজের কক্ষে এলে তাঁর একাধিক সহপাঠী তাঁকে কর্মসূচিতে অনিয়মিত বলে গালিগালাজ করেন। তাঁরা এমন চলতে থাকলে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন ও মুখে ঘুষি মারেন।

ভয় পেয়ে রিফাত হল থেকে বেড়িয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে হলে ফিরলে তাঁকে আবার ২১৫ নম্বর কক্ষে গেস্টরুমে ডেকে নেয়া হয়। গেস্টরুম ছাত্রলীগের একটি কর্মসূচি, যেখানে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন নিয়মকানুন শেখানো হয়। রিফাত বলেন, গেস্টরুমে গিয়ে দেখি কয়েকজন আমার নামে বড় ভাইদের কাছে বিচার দিয়েছেন। আমি বলি, আমার পেটে কয়েক দিন আগে অস্ত্রোপচার হয়েছে। কর্মসূচিতে গেলে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয়। তখন বড় ভাইদের নির্দেশে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের রেজাউল করিম, বাংলা বিভাগের শাকিল আহম্মেদসহ কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করেন। একজন আমার পেটের ক্ষত স্থানের সেলাইয়ে লাথি দেন। ঘুষি দিয়ে দাঁত ও মুখ দিয়ে রক্ত বের করে ফেলেন।

গেস্টরুমে ওই সময় সমাজকল্যাণ বিভাগের আবুল হোসেন, ভাষাবিজ্ঞানের শাওন আহমেদ, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সোহাগ আহমেদ, দর্শন বিভাগের তুহিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এরা সবাই হলের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খানের অনুসারী।

শাহেদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি হলে ছিলাম না। ঘটনা শোনার পর আমি রিফাতকে ডেকে বিষয়টির মীমাংসা করে দিয়েছি। এটা ওদের নিজেদের মধ্যের ঘটনা। রিফাতকে অন্য কক্ষে সরিয়ে নেওয়া হবে। আর যারা এমনটা ঘটিয়েছে, তাদের ডেকে সাবধান করে দিয়েছি যেন ভবিষ্যতে আর এমনটা না হয়।


মন্তব্য