kalerkantho


ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করছে না অধিকাংশ জাবি শিক্ষার্থী

ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করছে না অধিকাংশ জাবি শিক্ষার্থী

পাশেই সড়ক পারাপারের জন্য নিরাপদ মাধ্যম ফুট ওভারব্রিজ। তবু ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে জাবি শিক্ষার্থীরা ছবি : কালের কণ্ঠ

গত বছরের ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট। অভূতপূর্ব এক ঘটনার জন্ম দিয়েছিল বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। নৈরাজ্যে ভরা সড়কে বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ক্লাসরুম থেকে তারা নেমে এসেছিল রাস্তায়। শিক্ষার্থীদের সবুজ হৃদয়ের মমতাভরা জাদুস্পর্শে পাল্টে গিয়েছিল চিরাচরিত সড়কের দৃশ্যপট। ফিরেছিল সড়কে শৃঙ্খলা, কমে এসেছিল প্রতিদিনের মৃত্যুর হার। আর এই আন্দোলনের সঙ্গে সারা বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেছিল। তারাও সবার সঙ্গে একাত্ম হয়ে সে সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছিল। কিন্তু সময়ের আবর্তনে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী জাবির সেই শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থিত ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করছে না। প্রায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ও অবিভাবকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন অন্যতম ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ফুট ওভারব্রিজটি ব্যবহার করছে না। গতকাল মঙ্গলবার প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে দেখা যায়, ওই সময়ের মধ্যে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করেনি তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পারাপার হচ্ছে। একই সময়ে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করেছে মাত্র অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। জাবির প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় সড়ক বিভাজক দেওয়া থাকলেও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা ভেঙে ফেলায় ওই অংশ দিয়েই শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। সড়ক বিভাজক ভাঙা থাকায় তা এই চলাচলকে আরো গতি দিয়েছে। ব্যস্ততম এই মহাসড়ক এভাবে পার হতে গিয়ে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। শিক্ষার্থীদের এই অসচেতনতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও নেই কোনো মাথাব্যথা।

ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করা চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. হাসিবুল করিম বলেন, ‘খুবই তাড়ার মধ্যে আছি, সময় কম তাই ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করিনি। ব্রিজে উঠতে সময় এবং শ্রম দুটিই লাগে। জানি জীবনের ঝুঁকি আছে তবু কিছু করার নেই। দেখে-শুনে পার হয়েছি। এর পরও যদি কিছু হয় সেটা ভাগ্যের দোষ!’

ওভারব্রিজ ব্যবহার না করা প্রথম বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী জানান, ‘অনেক সময় রাস্তার ওপাশে বাস দাঁড়ানো থাকে, সেটি ধরতে হলে ব্রিজ ব্যবহার করা হয় না। কারণ বাস মিস হয়ে গেলে আবার দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বাসের অপেক্ষায় তখন সময় নষ্ট হয়। এ ছাড়া সময় না থাকলে ব্রিজ ব্যবহার করা হয় না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঝুঁকি আছে, থাকবেই; সুতরাং এত ভেবে জীবন চলে না।’

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুট ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা সেটি ব্যবহার করছে না এটি খুবই দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি নিজেরাই এমন আচরণ করে তাহলে অশিক্ষিত মানুষেরা কী করবে, কী শিখবে? আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।’



মন্তব্য