kalerkantho


মাণ্ডা খালকেই বানানো হয়েছে স্যুয়ারেজ লাইন

ওমর ফারুক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মাণ্ডা খালকেই বানানো হয়েছে স্যুয়ারেজ লাইন

মাণ্ডা খালকেই স্যুয়ারেজ লাইন হিসেবে ব্যবহার করছে বেশির ভাগ বাড়িওয়ালা। ছবি : শেখ হাসান

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন সৃষ্ট ৭২ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে বয়ে গেছে মাণ্ডা খাল। এলাকার অনেক বাড়ির মালিক মাণ্ডা খালকেই স্যুয়ারেজ লাইন হিসেবে ব্যবহার করছে। আশপাশের বাড়ির ময়লা-আবর্জনাও ফেলা হচ্ছে। ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, ব্যাহত হচ্ছে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ। অন্যদিকে খালটি উন্মুক্ত থাকায় সেখানে প্রাণনাশের মতো দুর্ঘটনা ঘটেছে। বছর দেড়েক আগে এক শিশু পড়ে মারা যাওয়ার পর সেটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। তিন-চার মাস আগেও আরেক শিশু পড়ে গিয়েছিল। তবে তাকে জীবিত উদ্ধার করা যায়। খরস্রোতা এ খালটিকে কেন্দ্র করে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। খালটিকে উন্মুক্ত না রেখে বক্স কালভার্ট করার দাবি এলাকাবাসীর। তবে সরকার উন্মুক্ত রাখার পক্ষে থাকায় সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে এলাকাটিতে গ্যাসের লাইন থাকলেও নিয়মিত গ্যাস পায় না সাধারণ মানুষ। লাকড়ি ও কেরোসিনের চুলা দিয়েই রান্নার কাজ করতে হচ্ছে। গতকাল ৭২ নম্বর ওয়ার্ডটিতে ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। ওয়ার্ডটি ছিল মাণ্ডা ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে। এবার সেটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পড়েছে। ওয়ার্ডটির এলাকাগুলো হলো মাণ্ডা খালপার থেকে সোনা মিয়া রোডের পশ্চিম পাশ, সোনা মিয়া রোডের পূর্ব পাশ থেকে গনি মিস্ত্রি রাস্তার পশ্চিম পাশ, গনি মিস্ত্রি রাস্তার পূর্ব পাশ থেকে জেলেপাড়া রাস্তার পশ্চিম পাশ, জেলেপাড়া রাস্তার পূর্ব পাশ থেকে গ্রিন মডেল টাউন পর্যন্ত।

গতকাল এলাকাটিতে গিয়ে কথা বললে মাণ্ডা খালপারের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, এই খালটিতে একসময় স্বচ্ছ পানি ছিল। কিন্তু আশপাশের বাড়ি থেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া খালপারের বিভিন্ন বাড়ির পানির লাইন খালের সঙ্গে সংযোগ করে খালকে স্যুয়ারেজ লাইন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তা ছাড়া খালপারের অনেক বাড়িই পড়েছে খালের জমিতে। খালটি সিটি করপোরেশনের আওতায় যাওয়ার কারণে এটির প্রতি সরকারের নজর দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

৭২ নম্বর ওয়ার্ডের মাণ্ডা মনকা বাজার গলিতে দেখা যায় আজিজুল হক নামের এক চা দোকানি কেরোসিন দিয়ে চুলায় আগুন জ্বালিয়ে চা বানাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘কী করুম, দিনের বেলায় এলাকায় গ্যাস পাওন যায় না। এ কারণে কেরোসিনের চুলা বসাইয়া চা বানাইতাছি।’ সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে চায়ের দোকানে থাকা চার-পাঁচজন বলতে থাকে, এই এলাকার প্রধান সমস্যা গ্যাস। সাধারণ মানুষ রান্নায় ব্যবহার করছে সিলিন্ডার গ্যাস ও লাকড়ি। কোনো কোনো বাড়িতে স্টোভ দিয়ে রান্নার কাজ করা হচ্ছে। তবে শেষ রাতের দিকে কিছু গ্যাস আসে পাইপে। এ কারণে কোনো কোনো বাড়িতে সারা দিনের রান্না একবারেই করে রাখে। ওয়ার্ডটিতে ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো এলাকায় রাস্তার উন্নয়নকাজ চলছে। আর বড় রাস্তাগুলোর ওপরের অংশ প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীদের পোস্টার রাস্তার ওপর এমনভাবে টানানো হয়েছে যে আকাশ পর্যন্ত দেখা যায় না।

এ ওয়ার্ডটিতে এবার কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন শফিকুল আলম শামীম (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট), মো. শরীফ হোসেন (ঠেলাগাড়ি), শাহ আলম হক রিপন মেম্বার (রেডিও) ও মুনির হোসেন সাইদ (লাটিম)। এ ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন করছেন আফসানা খানম (মোবাইল ফোন), মিসেস সেলিনা খান (চশমা) ও বকুল (আনারস) মার্কায়। ওয়ার্ডটিতে মোট ভোটার ১২ হাজার ৬০০ জন।

গতকাল কথা হয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শরীফ হোসেনের সঙ্গে। নির্বাচিত হতে পারলে কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হতে পারলে ৭২ নম্বর ওয়ার্ডকে আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব। রাস্তাঘাট ও স্যুয়ারেজ লাইনের উন্নয়ন করব। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করব। এলাকার মানুষ যাতে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পায় সেদিকে খেয়াল রাখব।’ মোবাইল ফোনে একই প্রশ্ন আরেক কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শাহ আলম রিপনকে করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এ এলাকায় ১০ বছর মেম্বার ছিলাম। এলাকার সমস্যা সম্পর্কে জানি। এবার নির্বাচিত হতে পারলে এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে চেষ্টা করব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্যুয়ারেজ সমস্যা অনেকটাই সমাধান হয়েছে। আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন। মাণ্ডা খাল নিয়েও বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে।’



মন্তব্য