kalerkantho

বাংলাদেশে মৃত ব্যক্তির কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট প্রক্রিয়ার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



উন্নত অনেক দেশে ক্যাডাভারিক প্রক্রিয়া তথা ব্রেইন ডেথ অবস্থা থাকা ব্যক্তির দেহ থেকে কিডনি নিয়ে ৭০-৮০ ভাগ কিডনি প্রতিস্থাপন করা (ট্রান্সপ্লান্ট) হয়। তবে বাংলাদেশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আইনে এতে কোনো বাধা না থাকলেও এত বছর ধরে তা সম্ভব হয়নি। এ দেশে শতভাগ কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হয় জীবিত নিকটাত্মীয়ের দান করা কিডনি দিয়ে। ফলে কিডনি দাতা সংকটের  কারণে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে ৪০ হাজার কিডনি বিকল রোগী। আশার কথা, এবার ক্যাডাভারিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ মুহূর্তে মৃত ব্যক্তির কিডনি সংযোজন বিষয়ে অভিজ্ঞ কোরিয়ান ট্রান্সপ্লান্ট টিম বাংলাদেশে অবস্থান করছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিএসএমএমইউ, বারডেম হাসপাতাল, সিএমএইচ, নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালসহ বিভিন্ন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) কোনো মুমূর্ষু রোগীর ব্রেইন ডেইথ ঘোষণা হলে এবং রোগীর নিকটাত্মীয়ের সম্মতি পেলে তারা প্রথমবারের মতো দেশে ক্যাডাভারিক কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট শুরু করবে। আর এটা সম্ভব হলে তা হবে কিডনি বিকল রোগীদের বেঁচে থেকে স্বাভাবিক জীবন যাপন করার মতো একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

গতকাল রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। সম্মেলনের যৌথ আয়োজক কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, রয়াল লন্ডল হসপিটাল, কোরিয়ার আনাম ইউনিভার্সিটি, ভাইটালিংক কোরিয়া, আমেরিকা ওয়াইনি স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব নেফ্রোলজি (আইএসএন)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিক। বিশেষ অতিথি থেকে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এম এ ওয়াহাব, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম মুহিবুর রহমান প্রমুখ।

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্যাপক হাড়ে বাড়ছে কিডনি রোগী। অথচ উন্নত বিশ্ব ও পাশের দেশ ভারতেও কিডনি রোগের উন্নতমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু থাকলেও আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি।’

মন্তব্য