kalerkantho

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের সোর্সরাই মাদক কারবারি

ওমর ফারুক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের সোর্সরাই মাদক কারবারি

পরিচিত মাদক কারবারিরা এখন আর নেই। তবে রয়েছে  মাদকসেবী। মাদক কারবারিদের মধ্যে দুই ভাই নিহত হওয়ার পর এলাকার অন্য কারবারিরাও গাঢাকা দিয়েছে। তবে পুলিশের সোর্সরা এখন সেই শূন্যস্থান পূরণ করে নিজেরাই এ কারবারে জড়িয়েছে। পুলিশের এসব সোর্স এতটাই দাপুটে যে তাদের নাম নিতেও ভয় পায় সাধারণ মানুষ।

গতকাল রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীন নবসৃষ্ট ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়। ওয়ার্ডটি গঠিত হয়েছে কদমতলী, কদমতলী শিল্প এলাকা, নতুন কদমতলী, নতুন শ্যামপুর, আফসার করিম রোড, বউবাজার, নামা শ্যামপুর, বাগানবাড়ি বাগিচা, নতুন ওয়াসা রোড, আলীবহর, রাজাবাড়ি, নতুন আলীবহর (বিক্রমপুর হাউজিং) এলাকা নিয়ে। এলাকাবাসী জানায়, পূর্ব কদমতলী এলাকার বিল্লাল ও ইমরান সহোদর ভাই ছিল। তাদের দুজনের মাধ্যমে এ এলাকায় মাদকের কারবার বিস্তৃত হয়। তারা প্রতিদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে মাদকসেবীদের কাছে মাদক বিক্রি করত। তারা এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গেও জড়িত ছিল। অবশেষে কয়েক মাস আগে তারা দুজন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। নিহত হওয়ার পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। তাদের যারা সহযোগী ছিল তাদেরও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর যাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি তারা পালিয়ে যায়। এ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন খুশিই হয়েছিল। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত ১০-১৫ জন মাদক কারবারে নামে। পুলিশের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস করে না কেউ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কদমতলী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. সাজু মিয়া বলেন, ‘৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুলিশের কোনো সোর্স নেই। পুলিশের সোর্স হিসেবে কেউ পরিচয় দিতে পারে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।’ আলীবহর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, পুলিশের সোর্সরা মাদকসেবীদের কাছে মাদক পৌঁছে দেয়। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো মাদক কারবারি সাজিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস করে না। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কদমতলী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. সাজু মিয়া বলেন, ‘একসময় ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মাদক কারবারি ও মাদকাসক্ত বহু লোক ছিল তা ঠিক। তবে এখন আর নেই। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ আমরা সবাই মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করছি। কদিন আগেও অভিযান চালিয়েছি। সেখান থেকে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার জন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এলাকার মাদক কারবারি ব্রিটেন, রমজান, মগা সুমন ও বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এখন জেলে আছে।’ অন্যদিকে অনেক ওয়ার্ডের মতো এ ওয়ার্ডেও জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। এ এলাকায় মেয়র পদে নির্বাচন না হওয়ায় কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ভোট প্রার্থনা করছেন নিজের পক্ষে। রাস্তাঘাটে প্রচুর পোস্টার চোখে পড়ে। বউবাজার এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে যাঁরাই ভোট চাইতে আসেন তাঁদের কাছে জানতে চাই তাঁরা পাস করলে আমাদের ওয়ার্ডকে মাদক ও দূষণমুক্ত করবেন কি না। সবাই এখন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। দেখি নির্বাচনের পর কী হয়।’

মন্তব্য