kalerkantho


ঢাকার অতিথি

ঢাকাকে পুনর্গঠন করতে হবে

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকাকে পুনর্গঠন করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক  কেইট হুট। সভা, সেমিনার ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন প্রগ্রামে যোগ দিতে এ পর্যন্ত তিনি চারবার বাংলাদেশে এসেছেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালীন নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন মো. মনির হোসেন

কেইট হুট উত্তর ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোটারি শান্তি ফেলো। বসবাস করেন যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। মানুষের সেবা করা, বিপদে মানুষের পাশে থাকা তাঁর অন্যতম একটি কাজ। তাই বিভিন্ন সময়ে কম ভাগ্যবান মানুষের বা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশে এসেছেন। ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের বিভিন্ন জায়গা ঘুরেছেন তিনি। শিডিউল কাজ ছাড়াও সুযোগ পেলেই এদিক-সেদিক পা ফেলার চেষ্টা করেছেন। উপভোগ করার চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের সৌন্দর্যকে।

রাজধানী ঢাকা সম্পর্কে কেইট হুট বলেন, ‘ঢাকা আমার জন্য একটা অস্বাভাবিক শহর। ২০১৪-১৫ সালের কিছু স্মৃতি আমার মনে পড়ে। তখন ঢাকা ছিল অস্থির। জনমানবশূন্য, ভীতিকর পরিবেশ। কোথাও বের হওয়ার সাহস করতাম না। একটা ব্যস্ত শহর যখন হঠাৎ নির্জন হয়ে যায়, চুপ হয়ে যায় ঠিক তখনই অস্বাভাবিক মনে হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকায় অনেক ভেরিয়েশন রয়েছে। অনেক পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে। আমি আহসান মঞ্জিলে গিয়েছি। খুবই ভালো লেগেছে। আহসান মঞ্জিলের একটা বিষয় চমৎকার লেগেছে। সেটা হলো আহসান মঞ্জিল নদীর দিকে মুখ করে গড়া। বর্তমানে বেশির ভাগ স্থাপনা তৈরি হয় নদীকে পেছনে ফেলে। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকাটিও আমার খুব ভালো লেগেছে। শুধু আমার নয়, এ জায়গা সবারই ভালো লাগবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি খুবই চমৎকার। এখানকার লেকে প্রচুর অতিথি পাখি দেখেছি। ঢাকার সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এখানকার মানুষ। অনেকের কাছেই হয়তো শুনে থাকবেন, তবু বলতে চাই—এখানকার মানুষ অনেক বেশি বন্ধুবৎসল। বিশ্বের খুব কম দেশেই এমনটা পাওয়া যাবে। তারা সারা দিন হয়তো হাসতে পারে না; কিন্তু সব সময় অন্যের সঙ্গে কথা বলতে রাজি থাকে এবং খেতে যাওয়ার জন্য এবং সেরা জায়গাগুলোতে ভ্রমণের পরামর্শ দেয়।’

তাঁর দেখা ঢাকার পর্যবেক্ষণটা জানতে চাইলে কেইট হুট বলেন, ‘ঢাকার ট্রাফিক সিস্টেম, রাস্তার পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। এর মানে হলো যে ভেজা মৌসুমে যেকোনো জায়গায় যাওয়ার জন্য তা শুকনো মৌসুমের দ্বিগুণ হয়ে যায়। কোথাও যেতে হলে যাত্রা শুরু করাটা নিজের ইচ্ছায় করা যায়; কিন্তু গন্তব্যে কখন পৌঁছব তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ঢাকার রাস্তায় আরামদায়ক গণপরিবহন নেই। নেই কোনো ট্যুরিস্ট বাসও, যে দিকটায় কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

ঢাকার বাইরে কোথাও গিয়েছেন কি—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে গিয়েছি। সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। প্রতিটি জায়গাই বেশ ভিন্ন ও স্বতন্ত্র। সামগ্রিকভাবে আমি অনুভব করলাম যে এসব জায়গায় অনেক কিছু দেখার আছে এবং তা দেখতে আমাকে বারবার ফিরে আসতে হবে।’

খাবার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি বন্ধুদের আতিথেয়তায় অনেক খাবারের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। আমি বাঁ-হাতি, তাই প্রথম প্রথম খেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করিনি। সবার সামনে কিভাবে খাব, অন্যরা কী মনে করে এ নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। তবে বাংলাদেশে চায়নিজের বাংলাদেশি ভার্সনটা আমি এনজয় করেছি। আরো এনজয় করেছি ডাল। চমৎকার খাবার। অস্ট্রেলিয়ায়ও ডাল খেয়েছি, তবে এটা বাংলাদেশের তুলনায় ঘন ছিল।’

কেইট হুট আরো বলেন, ‘ঢাকার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকাকে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ঢাকার   রি-ডিজাইন করতে হবে অর্থাৎ ঢাকাকে পুনর্গঠন করতে হবে। ঢাকার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর তুলনায় বসবাসকারী অনেক বেশি। ফলে নাগরিক ও পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সম্ভাবনাময় ঢাকাকে আরামদায়ক ও পরিকল্পিত করার জন্য পরিবেশবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের সমন্বয়ে বেশ কিছু গবেষণা প্রয়োজন। ঢাকার উন্নয়নের জন্য প্রথম ও বড় কাজ হচ্ছে পর্যাপ্ত ও বিকল্প রাস্তাঘাট নির্মাণ। প্রয়োজন সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এবং বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের টেকসই প্রক্রিয়া খুঁজে বের করা।’



মন্তব্য