kalerkantho


ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি

ঢাকার চেয়ে খুলনা শহরটা তাঁর বেশি চেনা। সেখানেই তাঁর জন্ম এবং শৈশবের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন। ঢাকায় আসা তারকা হয়ে। সেই তারকার আড়ালে যতটা ঢাকা দেখেছেন, তা নিয়ে কথা বলেছেন চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভিন পপি। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

 

যৌথ পরিবারে বড় হয়েছেন। অনেক ভাই-বোন মিলে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় পপি। শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা জানতে চাইলে পপি বলেন, ‘ছোটবেলায় ভাই-বোন আর কাজিনদের সঙ্গেই সময় কাটত। ফল কিংবা ফুল—কোনোটারই অভাব ছিল না আমাদের বাড়িতে। মাথার ওপর ছায়া হয়ে থাকত প্রচুর গাছ। সেখান থেকে ঢাকায় স্থায়ী হয়েছি তা-ও প্রায় ২৫ বছর হয়ে গেল। ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় আসা-যাওয়া। স্থায়ী হওয়া কিছুটা পরে, বিশেষ করে যখন মিডিয়ায় পথচলা শুরু। সেই সময়কার ঢাকা খুলনার মতো না হলেও অনেকটা সবুজ ছিল। সময়ের ব্যবধানে এটাই সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়েছে। এখন তো সবুজ নেই, সব জায়গায় শুধু ইট-কাঠ-পাথরের সুউচ্চ ভবন। আর জ্যামের কথা নতুন করে কী বলব। সত্যি বলতে কী, আমি ঢাকায় কখনোই খুব বেশি ঘোরাঘুরির সুযোগ পাইনি। আমি যখন সিনেমায় অভিনয় শুরু করি, শুরুতেই স্টার হয়ে গেছি। আর তখনকার স্টার দেখার জন্য দর্শকের ভিড় লেগে যেত। তাই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতেও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। অনেক সময়ই বোরকা পরে বের হতে হয়। তবু দুই যুগের অধিক সময় ধরে বসবাস করা ঢাকা এখন আমার প্রাণের শহর। এই শহরকে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদেরই যত্ন নিতে হবে। আমি যেমন সব সময় চেষ্টা করি, আমার ড্রাইভার যেন রং সাইডে না যায়। ট্রাফিক আইন যেন মেনে চলে। বিশ্বের উন্নত শহরগুলোর রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ থাকে না, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা রয়েছে তাদের। আমাদেরও এমন ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের যেমন কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আছে, তেমনি নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব রয়েছে।’

একটার পর একটা ফুট ওভারব্রিজ কিংবা ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। সব ক্ষেত্রে আইনের শাসন তথা এর প্রয়োগ না থাকায় ফুট ওভারব্রিজের ব্যবহার নেই বললেই চলে। আর তথাকথিত ফ্লাইওভারগুলো ব্যবহার করছে মুষ্টিমেয় লোক! বিষয়টি কিভাবে দেখছেন? ‘ওই যে বললাম, মানুষ নিজে থেকে যদি আইন না মানে, তাহলে যত ব্যবস্থাই নেওয়া হোক না কেন, সুফল পাওয়া যাবে না। সামষ্টিকভাবে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। আইন মেনে চলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার বিষয়গুলো আসলে ছোট থেকেই আমাদের পারিবারিকভাবে শিক্ষা দিতে হবে। যখন বাবা তাঁর ছেলে-মেয়ের সামনে রং সাইড দিয়ে গাড়ি চালান, যত্রতত্র ময়লা ফেলেন, তখন সন্তানরাও তা-ই শেখে। এ বিষয়ে আমাদের নজর দিতে হবে। তা হলে কিছুটা হলেও একটা বাসযোগ্য শহর আমরা পেতে পারি।’

ঢাকার জনসংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। জনসংখ্যার এই আধিক্য রোধ কিভাবে করা যায় বলে মনে করেন? ‘দেখুন, এখন এক স্থান থেকে আরেক স্থানের দূরত্ব কিলোমিটারে পরিমাপ করা হয় না, পরিমাপ করা হয় যাতায়াতের সময় দিয়ে! অর্থাৎ কত সময়ে সেখানে পৌঁছা গেল, সেটিই হলো দূরত্বের হিসাব। গাজীপুর থেকে ঢাকা শহরে আসতে যদি ৩০ মিনিট লাগে, তাহলে কেন মানুষ ঢাকা শহরে অনেক অর্থ ব্যয় করে থাকবে, বিশেষ করে যারা নিম্নমধ্যবিত্ত। যে টাকা বছরে ভাড়া দেবে, সে টাকা দিয়ে ঢাকার বাইরে বাড়ির জন্য জমি কিনতে পারা যায়। বিশ্বের উন্নত সব দেশেই অবসরের পর মানুষ শহরের বাইরে চলে যায়। কেননা জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ করে হাসপাতাল, বিমানবন্দর বা যেকোনো গন্তব্যে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছার নিশ্চয়তা রয়েছে তাদের। আমরাও যদি তেমন নিশ্চয়তা দিতে পারি, তাহলে ঢাকার বাইরে কেন নয়! ঢাকায় একটা ফ্ল্যাট যে টাকা দিয়ে কিনব, তা দিয়ে ঢাকার উপকণ্ঠে বা মফস্বলে সুন্দর বাড়ি করতে পারব। সবাই চায় একান্ত নিজের বাড়িতে থাকতে। বলা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অনেকটা বাধ্য হয়ে মানুষ ঘরছাড়া হয়ে এই জ্যামের নগরীতে আশ্রয় নেয়। তাই আমি মনে করি, যত দ্রুত সম্ভব ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি।’

 

 



মন্তব্য