kalerkantho


রাস্তার পাশে ডাস্টবিন সাধারণের ভোগান্তি

জহিরুল ইসলাম   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাস্তার পাশে ডাস্টবিন সাধারণের ভোগান্তি

নীলক্ষেত থেকে আজিমপুর যাওয়ার মাঝপথে পড়ে ইডেন মহিলা কলেজ। কলেজটির অন্য পাশের রাস্তায় যাত্রী ছাউনির পাশেই ময়লা রাখার ছোট একটি ডাস্টবিন। যার ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ফুটপাত পর্যন্ত। ময়লা পানিতে উড়ছে মশা-মাছি। ময়লার বাজে গন্ধে যেকোনো পথচারী পাশ দিয়ে যেতে মনের অজান্তেই নাকে হাত দিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের বিরাট একটি অংশ ইডেন কলেজ ও নীলক্ষেতের বিভিন্ন কোচিংয়ে আসা-যাওয়া করা শিক্ষার্থী।

ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি বেশ পুরনো, যেন দেখার কেউ নেই। ময়লা ঠিকমতো নেওয়া হচ্ছে না। অন্য জায়গার ময়লা এনেও মাঝেমধ্যে এখানে ফেলা হচ্ছে, যার কারণে সমস্যা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভালো একটি ময়লা ফেলার পাত্র এবং যথাসময় প্রতিদিনের ময়লা ভালোভাবে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে কিছুটা সমাধান হতে পারে। কিন্তু কে করবে? জনপ্রতিনিধিরা কি সাধারণের কথা ভাবে! যদি ভাবত তবে এত জনদুর্ভোগ হতো না।

গত শুক্রবার সরেজমিনে ইডেন মহিলা কলেজের এই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের অন্যদিকে যাত্রী ছাউনির পাশে ময়লা আবর্জনায় ভরপুর হয়ে আছে। রাস্তায় ও ফুটপাতের ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ময়লা পানিতে উড়ছে মশা-মাছি। ময়লা বেরোচ্ছে উৎকট গন্ধ। ফলে পথচারীদের হাঁটতে হচ্ছে নাকে হাত দিয়ে। মরা বিড়াল, ফলমূলের খোসা, আশপাশের ফুটপাতের দোকানিদের ফেলা ময়লায় একাকার। ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগই কলেজের শিক্ষার্থী। ফাহমিদা হাবিব নামে অনার্সের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ময়লার গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলা মুশকিল। ডাস্টবিন থেকে বেয়ে ময়লা যখন রাস্তায় অথবা ফুটপাতের একেবারে পাশে চলে যাচ্ছে তখন দেখতেও খারাপ লাগছে। দেখা যায়, ময়লা থেকে বেয়ে পড়া পানির মধ্যে পোকা-মাকড়ের বসতি। যেখানে বাচ্চা দিচ্ছে মশা।’ কেউ কেউ বলছেন, খালি খালি ধোঁয়া উড়িয়ে সরকারি টাকা পকেটে ভরাতে ব্যস্ত দায়িত্বশীলরা। অথচ মশা কোথা থেকে হচ্ছে সেদিকে কারো নজর নেই। এভাবে চলতে থাকলে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়তে পারে মশাবাহিত রোগ। নীলক্ষেতের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি বুঝি না সব ডাস্টবিন সড়কের পাশেই কেন হতে হবে। কলোনির ভেতরে বিশাল জায়গা পড়ে আছে। অথবা যে রাস্তায় মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম সেখানে হতে পারত। কিন্তু তা না করে মূল সড়ক অথবা যেখানে মানুষের চলাচল বেশি সেখানেই রাখা হয়।’ এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষকে কষ্ট দেওয়া সব জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো নেতার বাড়ির সামনে আপনি ময়লার ডাস্টবিন অথবা ভাগাড় দেখবেন না। কারণ তাঁরা জনপ্রতিনিধি হলেও প্রথমেই দলের এবং নিজের ভালোমন্দ বিচার করে চলেন। সাধারণের কথা ভেবে চলার মতো নেতা এখন আর খুঁজে পাবেন না।’ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মিজানুর রহমান বলেন, ‘কেন মূল সড়কের পাশেই ডাস্টবিন দেয় সেটা আমরা জানি না। তবে সড়কের পাশে থাকলে আমাদের ময়লা নিতে সুবিধা হয়। গাড়ি এসে দাঁড়ানোর জায়গা পায়। গলির রাস্তায় গাড়ি ঢুকতে পারে না। হয়তো এই জন্য হতে পারে। আমরা চাকরি করি, সকালে এসে ময়লা নিয়ে যাওয়াই আমাদের কাজ।’ অভিযোগ আছে ময়লা যথাসময় না নেওয়া এবং নিলেও পরিষ্কার করে না নেওয়ার। তাড়াহুড়ো করে দায়সারাভাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা নেয় বলে বলেছেন স্থানীয় অনেকেই। তবে বিষয়টি জনসচেতনতার অভাব এবং পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগের কারণ বলে মনে করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক বলেন, ‘পরিবর্তনের জন্য জনসচেতনতা পূর্বশর্ত। এখন যদি মানুষ সচেতন হয়ে ময়লা কখন কখন ফেলবে সেটা মাথায় না রাখে, তবে কিভাবে হবে। নির্দিষ্ট সময় ময়লা নেওয়ার পরে যদি কেউ এনে ময়লা রেখে যায়। তবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই বা কী করবে। তবে কিছু কিছু ফাঁকিবাজ পরিচ্ছন্নতাকর্মী যে নেই সেটা আমি বলব না। তারা ময়লা নেওয়ার পরে কেউ এনে ময়লা ফেলে গেলে তখন কী করার থাকে।’ যে রাস্তায় মানুষের চলাচল বেশি, সেই রাস্তায় ডাস্টবিন কেন দেওয়া হয়? এমন প্রশ্নের জবাবে তরুণ ওই কাউন্সিলর বলেন, ‘ঢাকা শহরে আপনি তেমন খোলা জায়গা পাবেন না। তাই বাধ্য হয়েই রাস্তার পাশে দিতে হয়। তবে আপনি যে জায়গার কথা বলছেন ইডেন মহিলা কলেজের সামনের ডাস্টবিনটি যদি কলোনির একটি ফাঁকা জায়গায় দেওয়া যেত ভালো হতো। বিষয়টি নিয়ে আগেও ভেবেছি, এখনো ভাবছি। কলোনির সঙ্গে যোগাযোগও করেছি। এসব ব্যাপারে তাদের তেমন আগ্রহ নেই বললেই চলে।’

 



মন্তব্য