kalerkantho


নিরাপদ সড়কের জন্য শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণ হোক

জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। তিনি বেড়ে উঠেছেন এই ঢাকা শহরেই। সাম্প্রতিক ও স্মৃতিবিস্মৃতির ঢাকা নিয়ে নানা কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নিরাপদ সড়কের জন্য শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণ হোক

‘রাজধানীতে পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা নগরায়ণের মধ্যে অন্যতম উত্তরা মডেল টাউন। আমি যত দূর জানি, আশির দশকে এই উত্তরা এলাকাটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানের কথা বললে, উত্তরায় বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা বিদ্যমান থাকলেও রয়েছে নানা সমস্যাও। আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে বাণিজ্যিক ভবন। এসব ভবনে শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। ফলে আবাসিক চেহারা অনেকটাই হারিয়েছে।’ কথাগুলো বলছিলেন মাহিয়া মাহি।

উত্তরায়ই তাঁর বেড়ে ওঠা। ঢাকার মতো উত্তরার চেহারাও দিন দিন বদলাচ্ছে। তা নিয়ে শঙ্কিত মাহিয়া মাহি। তিনি বলেন, ‘এই উত্তরায় কখনো এমন জ্যাম হবে, তা কোনো দিন কল্পনাই করিনি। আমার যখন শৈশবকাল, তখনো ঢাকায় জ্যাম ছিল; কিন্তু সে হিসেবে উত্তরা অনেকটাই ফাঁকা ছিল। একটি শান্ত এলাকা ছিল উত্তরা। সেই নিরিবিলি একটি পরিকল্পিত এলাকাও দেখতে দেখতে অগোছালো হয়ে গেল। এটি দুঃখজনক। রাস্তার বেশির ভাগ জায়গাজুড়ে বিভিন্ন মালামালের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। কেউ ফলের দোকান, কেউ বা কাপড়ের দোকান। বাচ্চাদের খেলনার দোকানও রয়েছে। এসব দোকান ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে রীতিমতো ভরদুপুরেও তৈরি হয় যানজট। ফুটপাতের পথচারীদের হাঁটার পরিস্থিতি নেই। দুপুর গড়িয়ে বিকেল বা সন্ধ্যার সময় এ যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ছোটবেলায় রাস্তার পাশে এসব দোকান দেখলে আনন্দে দৌড় দিতাম। কিন্তু এখন তো উল্টো হয়। বিরক্ত হই। যদিও এসব দোকান ঘুরতে ভালোই লাগে। কিন্তু এর জন্য আলাদা মার্কেট করতে পারে। রাস্তা বন্ধ করে কেন?’

এত কিছুর পরও ঢাকার ভালো কোনো দিক নিয়ে যদি বলতে বলি কী বলবেন? এমন প্রশ্ন রাখলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা আমার সবচেয়ে প্রিয় শহর। প্রাণের শহর। এই শহরের গুণ বলে শেষ করা যাবে না! কিন্তু কিছু খারাপ সব ভালোকেও বিনষ্ট করে দেয়, বিশেষ করে যানজট নিরসনটা জরুরি। এ জন্য আমাদের হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। একাধিক জরুরি কাজ করা যায় না। একটা স্থবির অবস্থা। তবে আমার কাছে ঢাকার সবচেয়ে সৌন্দর্যটা ফুটে ওঠে রাতে। কোলাহলমুক্ত নিশ্চুপ নগরী নিয়ন আলোয় দেখতে ভালোই লাগে। আবার তখন যা সবচেয়ে খারাপ লাগে—সেটি হলো, এ যুগে এসেও আমরা দেখি, কত মানুষ রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে থাকে। আমরা এখনো পারিনি সবার বাসস্থান নিশ্চিত করতে। জীর্ণ-শীর্ণ পোশাকে পথশিশু, দিনমজুর থেকে শুরু করে শত শত বাস্তুহারা মানুষ ঘুমিয়ে থাকে পথের ধারে। আমি কিন্তু অনেক সময়ই তাদের জন্য কিছু না কিছু করার চেষ্টা করি। কিন্তু যথেষ্ট করা তো সম্ভব হয় না। সরকার থেকে নাগরিক—সবাইকেই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।’

বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। সেখানে মাহিও একমত। তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি ঘর থেকে নামতেই ভয় পেতে হয়, তাহলে কাজ করব কিভাবে! আমাদের চলচ্চিত্রের গুণী মানুষরাও মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। ইলিয়াস কাঞ্চন স্যার দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছেন। যেন কেউ শুনেও শুনছেন না, দেখেও দেখছেন না। এই কুম্ভকর্ণের ঘুম কে ভাঙাবে? আসলে সমস্যাটা শতভাগ সমাধান না হলেও কত হারে হচ্ছে, সেটি তো কমবে। কিন্তু দিনদিন বেড়েই চলেছে। বেপরোয়া হতে চালককে সাহস দেয় কে! এর জন্য কঠিন ট্রাফিক আইন জরুরি। আর শুধু আইন করলেই হবে না, তার যথাযথ বাস্তবায়ন দরকার। যেন চালকরা বেপরোয়া হতে গেলে সে ভাবে, তার শাস্তি কতটা ভয়ংকর হতে পারে। আবার নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। সড়কপথের চলমান নৈরাজ্য অবিলম্বে বন্ধ করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। এবং এর একটা স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে। আমি চাই, নিরাপদ সড়কের জন্য শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণ হোক।’



মন্তব্য