kalerkantho


ডিএনসিসির ১৩ নম্বর ওয়ার্ড

খানাখন্দে ভরা রাস্তায় সীমাহীন দুর্ভোগ

রওনক আহমেদ   

৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



খানাখন্দে ভরা রাস্তায় সীমাহীন দুর্ভোগ

দুর্ভোগ-দুর্দশায় নিমজ্জিত দক্ষিণ মনিপুর এলাকার হাজার হাজার মানুষ। রাজধানীর মিরপুর ২ নম্বর ৬০ ফিট রোডে মোল্লাপাড়া মোড়সংলগ্ন সড়কটি বর্ষাকালে হাঁটুপানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর ধরে এ দুরবস্থার কারণে এলাকাবাসী ও পথচারীরা পড়ছে সীমাহীন দুর্ভোগে। রাস্তাটিতে জলাবদ্ধতা ও সংস্কারের অভাবে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। এবং পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক পরিবেশ। এ রাস্তার করুণ পরিস্থিতির কারণে মোল্লাপাড়া, দক্ষিণ মনিপুর, মধ্য মনিপুর, পীরের বাগসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষের দুর্ভোগের কোনো অন্ত থাকে না। রাতের অন্ধকারে এ পথে যাতায়াত করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন সড়কের এই দুরবস্থা নিয়ে বলেন, ‘প্রায় আট বছর ধরে আমরা এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাচ্ছি। বর্ষার সময় কাদা-পানি-গর্ত মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু সরকার থেকে আমাদের এ সমস্যার কোনো সমাধান করছে না। দীর্ঘদিন ধরে আমরা কাদা-পানিতে বন্দি হয়ে আছি। রাতের বেলায় এ পথে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক মানুষ পড়ে গিয়ে আহত হয়।’ তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন, ‘আমাদের এই সমস্যার কি কোনো সমাধান নেই? নাকি সারা জীবন এই ভোগান্তি পোহাতে হবে?’

সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইট ও পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি মেরামত করা হয়নি। ফলে পথচারী, আশপাশের এলাকাবাসীসহ হাজার হাজার মানুষের চলাচলের সমস্যা হচ্ছে। তা ছাড়া এলাকার সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। এই সড়কের ড্রেনেজব্যবস্থা ভালো না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। এ ছাড়া প্রতিদিনই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। মনিপুরের মোল্লাপাড়া মোড়সংলগ্ন বেহাল সড়কটির সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়াতেই একটি দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। দেখা যায়, বেহাল রাস্তার গর্তে পড়ে উল্টে গেল যাত্রীবাহী একটি রিকশা। যাত্রী ও রিকশাচালক পড়ে গেল ময়লা-কাদা-পানির মধ্যে। হাতে ও কোমরে ব্যথা পেয়ে আহত হয় যাত্রী। কাদা-পানিতে পড়ে নষ্ট হয় আহত যাত্রীর জিনিসপত্র। বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথেই এ দুর্ঘটনা।

এ রোডের বেহাল অবস্থার কারণে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কষ্টের শেষ নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় জমে থাকা বর্ষার পানিতে আশপাশের বাসাবাড়ির নানা ধরনের আবর্জনা যোগ হয়ে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় জমে থাকা পানি-কাদা মাড়িয়ে চলছে রিকশা, ভ্যান, প্রাইভেট কার, সাইকেল, মোটরসাইকেল, সিএনজি, স্কুল ভ্যানসহ নানা ধরনের যানবাহন। রিকশাচালক এনাম বলেন, ‘কী আর করার আছে বলেন? এই মনিপুর এলাকায় রিকশা চালাই প্রায় ১৩ বছর ধরে। কিন্তু এই রাস্তায় রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়। কষ্ট হলেও কিছু করার  নেই। আয়-ইনকাম করতে হলে তো কষ্ট করতেই হবে। ক্যানো যে রাস্তাটা মেরামত করে না? কাদা-পানি আর বড় বড় গর্তের ওপর দিয়েই যাত্রী নিয়ে পার হতে হয়। অনেক সময় রিকশা উল্টে যাত্রী নিয়ে কাদার মধ্যে পড়ে যাই।’

স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে চলাচল করি। এ রাস্তার বেহাল অবস্থা ও আমাদের ভোগান্তি দেখার মতো কোনো লোক নেই। আমরা চাই, সংস্কারকাজ শুরু হোক। আমরা স্থানীয়রা এ রাস্তার জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরার জন্য কষ্ট করছি। রাস্তাটা মেরামতের উদ্যোগ নিলে আমরা এই ভোগান্তির হাত থেকে বাঁচতে পারি। আমাদের চলাচলের সুবিধা হবে, নিরাপদে হাঁটা-চলাফেরা করতে পারব।’

ভুক্তভোগী মুক্তার হোসেন বলেন, ‘এ রাস্তাটির জন্য সমস্যার মধ্যে আছি। প্রায় সাত-আট বছর ধরে এই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পইড়া আছে। বহু বছর ধরে মেরামত কাজ হয় না। বড় বড় গর্তের কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তায় পানি জমে যায়। বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করি। তা ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে?’

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা জানি, ওই রাস্তাটিতে অনেক দিন ধরে সমস্যা; কিন্তু এখনো কিছু করিনি। রাস্তার সমস্যা অনেক, কিন্তু বাজেটে নেই। যা বাজেট আসে, সেটা তো সীমিত। চেষ্টা করছি। বাজেট হলে, পরবর্তী সময়ে সংস্কারের ব্যবস্থা করব।’ তবে কবে নাগাদ সংস্কারকাজ শুরু হবে সে ব্যাপারে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।

 

 



মন্তব্য