kalerkantho


আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পোস্তগোলা শাখা

স্বল্পমূল্যে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা

জহিরুল ইসলাম   

২৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



স্বল্পমূল্যে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা

অর্থ দিয়েই যেখানে সুচিকিৎসা পাওয়া কঠিন, সেখানে অর্থ ছাড়াই বা স্বল্পমূল্যে সর্বোচ্চ চিকিৎসা পেলে একটু খটকা লাগাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীরা ভালো চিকিৎসা না পাওয়াসহ রয়েছে নানা অভিযোগ। ব্যক্তি মালিকানাধীন হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা যেমন-তেমন, আবার ব্যয়ও অনেক। তবে ব্যতিক্রম আদ্-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক হাসপাতাল। হাসপাতালটির পোস্তগোলার নতুন এই শাখায় চলছে জুলাই মাসব্যাপী বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা। সব সময়ের হিসাব দেখলেও খরচ অনেক কম।

গত মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে নেমে ২ মিনিট সামনে গেলে ২৩/১ জুরাইন (বালুরমাঠ), পোস্তগোলা এলাকায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নতুন শাখাটি চকচক করছে। ভেতরের অসাধারণ পরিবেশ যে কাউকে মোহিত করবে। ১১তলাবিশিষ্ট এই হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রম চলছে চারটি তলায়। প্রথম তলায় কার্ড কাউন্টার, বিল কাউন্টার, গর্ববতী সেবাকেন্দ্র, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, উৎস ও উপমা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, কেন্টিন ও ফার্মেসি। দ্বিতীয় তলায় বামপাশে নাসিমা ওয়ার্ড, যেখানে রয়েছে ৭০টি সজ্জা, ডান পাশে পেথলোজি ও ব্লাড বিভাগ। হাসপাতালটিকে ৩০০ সজ্জাবিশিষ্ট করার কাজ চলছে। তৃতীয় তলায় ডানপাশে মেডিসিন, সার্জারি ও অর্থপেডিকস আর বামপাশে রয়েছে শিশু বহির্বিভাগ, টিকাদানকেন্দ্র, ফ্যামিলি প্ল্যানিং, ডায়াবেটিস ও ফিজিওথেরাপি বিভাগ। আর চতুর্থ তলায় ডান পাশে দন্ত, নাক-কান-গলা ও চক্ষু বিভাগ এবং বামপাশে চর্ম বিভাগ ও নামাজের স্থান। দেখা যায়, সকাল ৮টা না বাজলেও বিভিন্ন জায়গা থেকে রোগী এসে হাসপাতালে সিরিয়াল দিচ্ছে। আরিফা আক্তার সুমি নামে এক রোগী দাঁতের ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালটি দেখলে বোঝার উপায় নেই এত কম খরচে চিকিৎসা দেয়। বর্তমান সময়ের অনেক প্রাইভেট হাতপাতালের চেয়েও সুন্দর এখানকার অবকাঠামো ও পরিবেশ। অথচ কোনো টাকা ছাড়া ডাক্তাররা রোগী দেখছেন।’ কথা হয় হাসপাতালটির দন্ত বিভাগের চিকিৎসক ডা. তিথি দাশের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই রোগীর সঙ্গে আমাদের কোনো লেনদেন নেই। কর্তৃপক্ষ থেকে আমাদের সর্বোচ্চ ভালো চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে।’ হাসপাতালটির পরিচালক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগী দেখছেন। খুব কম খরচে আমরা চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কয়েক মাসের মধ্যে সব ধরনের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।’ হাসপাতালটিতে অন্যান্য সরকারি বা প্রাইভেট হাসপাতালের তুলনায় ব্যতিক্রম কিছু দিকের মধ্যে রয়েছে।

 

গর্ভবতী নারীকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে চিকিৎসা

গত বছরের ২৭ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এক হাজার ৫৫২ জন গর্ভবতী নারীকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এবং তিন হাজার ২৬৪ জনকে অর্ধেক খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন শতাধিক গর্ভবতী নারী এখানে চিকিৎসা নিতে আসছে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে বিনা মূল্যে রোগী দেখা হয়। এ ছাড়া রাত ৮টা পর্যন্ত গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা ও ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা চালু থাকবে। ২৪ ঘণ্টা রোগীর চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি, ঢাকার ভেতরে ৩৬০ টাকায় রয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স সুবিধা।

 

নামমাত্র ডাক্তারি খরচ

১৬০ টাকায় যেকোনো রোগের জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পারছেন। সেই সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে রোগীর পরীক্ষার প্রতিবেদন দেখা। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কোনো ভিজিট ছাড়া সমস্যার সমাধান দেওয়ার ব্যবস্থা। রোগীর সব ওষুধ খরচসহ স্বাভাবিক ডেলিভারি তিন হাজার ৯০০ টাকা, সিজারিয়ান ডেলিভারি আট হাজার ৬০০ টাকা রাখা হয়, যা অন্য কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে চিন্তাও করা যায় না।

 

রোগীকে দিতে হয় না খাওয়া ও বেড ভাড়া

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত হাসপাতালের বেড ভাড়া ও তিন বেলা খাওয়া বাবদ কোনো টাকা দিতে হয় না। তবে অষ্টম দিন থেকে ভর্তি খরচ ৮৫০ টাকা দিতে হয়।

 

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হাসপাতাল

পুরো হাসপাতাল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। সাধারণ রোগীর জন্য অর্থাৎ সাধারণের সিটের রোগীর জন্যও রয়েছে এই বাড়তি সুবিধা। কিন্তু এর জন্য বাড়তি কোনো খরচ নেই। রোগীর বাচ্চাদের খেলার জন্য রয়েছে শিশুমেলা।

 

উৎস ও উপমা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর

রোগী একবার হাসপাতালে ঢুকলে আর কোনো কিছুর জন্যই বাইরে যাওয়া লাগে না। সবই আছে এই ডিপার্টমেন্টাল স্টোর দুটিতে। দামও রাখা হয় কম। পণ্যের গায়ে দেওয়া দামেই কিনতে পারে রোগীরা।



মন্তব্য