kalerkantho


জলজট ও খানাখন্দে ভরা রাস্তা চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

রওনক আহমেদ   

২৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



জলজট ও খানাখন্দে ভরা রাস্তা চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

দুর্ভোগ-দুর্দশায় নিমজ্জিত আগারগাঁও তালতলা এলাকার হাজার হাজার মানুষ। আগারগাঁও তালতলা বাসস্ট্যান্ডের পাশে তালতলা বাজার। এ বাজারের দক্ষিণ পাশের রাস্তাটিতে ড্রেনের ময়লা পানি ও বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বছরের পর বছর ধরে এ দুরবস্থার কারণে হাজার হাজার পথচারী ও এলাকাবাসীকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। রাস্তাটিতে জলাবদ্ধতা ও সংস্কারের অভাবে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। বিধায় বিপজ্জনক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে মোল্লাপাড়া, আগারগাঁও, তালতলাসহ আশপাশের এলাকাবাসীর চলাচলে দুর্ভোগের কোনো অন্ত থাকে না। রাতের অন্ধকারে এ পথে যাতায়াত করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাসা থেকে রাস্তায় নামলেই ভোগান্তিতে পড়ছে এলাকাবাসী।

এ এলাকার স্থানীয় চা দোকানদার নূর এ নেওয়াজ তালুকদার কালের কণ্ঠ’র ৩৬০ ডিগ্রিকে বলেন, ‘প্রায় ছয় বছর ধরে এ রাস্তায় পানি জমে থাকে। বৃষ্টি হলেই রাস্তা ডুবে যায়। এখানকার ড্রেনে জ্যাম থাকায় পানি রাস্তায় উঠে আসে। সব সময়ই ময়লার গন্ধ নাকে লাগে। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এই রাস্তায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। রাস্তার এ অবস্থার জন্য আমার বেচাকেনাও কম হয়। এসব দেখার কেউ নেই। সারা বছরই কাদাপানি মাড়িয়ে চলাচল করি।’ স্থানীয় আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘অনেক বছর ধরে এই রাস্তার করুণ অবস্থা। কর্তৃপক্ষ দেখেও দেখে না। এ জন্য বাধ্য হয়ে মাসখানেক আগে বাজারের প্রতিটি দোকান থেকে টাকা তুলো রাস্তা সংস্কার করা হয়। রাস্তা থেকে কাদা উঠিয়ে ইট, বালু দেওয়া হয়েছিল। আমি নিজেও সারা দিন শ্রম দিয়েছি। কিন্তু যে মানের সংস্কার করা প্রয়োজন, সেভাবে করা সম্ভব হয়নি, ফলে ক্রমেই রাস্তাটি আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তালতলা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন আগারগাঁও তালতলা বাজারের দক্ষিণ পাশের সড়কটি বেহাল। সড়কটির পাশের এক দোকানি মো. আসাদ জানান, ‘রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। এ রাস্তায় চলাচল করাই দায়। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গত সোমবারও একটি মোটরসাইলের চাকা মূল সড়কের গর্তে আটকে যায়। গাড়িটি যতই সামনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে, ততই ঝাঁকুনি দিয়ে হেলে পড়ে, ঠিক যেন উল্টে পড়ার দশা। কাদাপানির সঙ্গে চাকার ধস্তাধস্তি। তারপর একপার্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরোহী উল্টে পড়ে গেলেন ময়লা কাদা-পানির মধ্যে। হাতে, পায়ে ও কোমরে আঘাত পান মোটরসাইকেল চালক। শুধু তা-ই নয়, মোটসাইকেলের বেশ কিছু যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়।’ এ রোডের বেহাল অবস্থার কারণে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কষ্টের শেষ নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় জমে থাকা ড্রেনের উপচে পড়া পানি ও বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। সড়কে জমে থাকা কাদা-পানিতে আশপাশের দোকানের নানা ধরনের আবর্জনা যোগ হয়ে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পুরো সড়কে জমে থাকতে দেখা যায় দুর্গন্ধ কাদাপানি, ময়লা-আবর্জনা, ইটের টুকরা। ছোট-বড় খানাখন্দে জর্জরিত এই রাস্তায় জমে থাকা পানি-কাদা মাড়িয়ে চলছে রিকশা, ভ্যান, প্রাইভেট কার, স্কুলভ্যানসহ নানা ধরনের যানবাহন। এসব যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা কাদা-পানি ছিটকে পড়ছে পথচারীদের শরীরে। ফলে বিপাকে পড়ছে পথচারীরা। স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ কাশেম আলী রাস্তার এই দুরবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘প্রায় অর্ধযুগ ধরে আমরা এই ভোগান্তি পোহাচ্ছি। সারা বছরই সমস্যা। বর্ষার সময় কাদাপানি-গর্ত মাড়িয়ে চলাচল তো করতেই হয়, বছরের অন্য সময়ও কাদাপানি জমে থাকে। কিন্তু সরকার থেকে আমাদের এই সমস্যার কোনো সমাধান করা হচ্ছে না। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও আমরা কাদা-পানিতে বন্দি হয়ে আছি।’ রিকশাচালক খলিল মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টির সময় কাদা-পানি থাকে, পানিতে ভইরা যায়। খাইদে পইড়ে রিকশা উল্টায় যায়। অনেকের হাত-পা ভাঙি যায়। সারা বছর সমস্যা থাকে। সহজে এই রাস্তায় ঢুকি না।’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তামিম বলেন, ‘মাঝেমধ্যে ময়লা কাদা-পানিতে ইউনিফর্ম নষ্ট হয়ে যায়। আর প্রতিদিনই জুতায় কাদা লেগে যায়। কাদার ভেতর পড়ে গিয়ে, রিকশা উল্টিয়ে অনেকে আহত হয়। রাস্তাটি হাঁটারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প পথ ব্যবহার করলে অর্থ ও সময়ের অপচয় হয়। তাই ভোগান্তি হলেও কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়ে এ পথেই চলাচল করি।’ এ বিষয়ে আগারগাঁও বাজার বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আমির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘এই রাস্তা বেহালের কারণে বছরের পর বছর ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সিটি করপোরেশন বলে করবে, কিন্তু করে না। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগ করা হয়েছে, সমস্যার কথা জানানো হয়েছে; কিন্তু কাজ হয় না। আমরা কয়েকবার সংস্কার করেছিলাম। কাদা উঠিয়ে ইট, বালু দিয়ে ব্যবহারের উপযোগী করেছিলাম। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে বেশিদিন টেকে না।’ এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফোরকান হোসেন কালের কণ্ঠ’র ৩৬০ ডিগ্রিকে বলেন, ‘আমরা জানি, ওই রাস্তায় অনেক দিন ধরে সমস্যা। কিন্তু এই রাস্তা সিটি করপোরেশনের আওতায় না। এ রাস্তার দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরের।’



মন্তব্য