kalerkantho


ঢাকার অতিথি

ঢাকায় সবাই প্রথম হতে চায়

বাংলাদেশের শহর ও গ্রামের পার্থক্য আকাশ-পাতাল। রাজধানী শহরে খোলা আকাশ নেই। গ্রামে আছে অবারিত সবুজ। এমনটিই জানালেন জার্মান দম্পতি উদো ক্রুয়েস ও সাবিনা শেলিউজার। তাঁদের বাংলাদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকায় সবাই প্রথম হতে চায়

‘শহর আর গ্রাম, সম্পূর্ণ আলাদা। যখন আপনি বড় শহর ছেড়ে যাবেন, ধীরে ধীরে গভীর সবুজ আপনাকে গিলে নেবে। আপনি হারিয়ে যাবেন প্রকৃতির মাঝে। নারকেলগাছ, কলাবাগান আর অবারিত ধানের জমি সাধারণত টেলিভিশন বা ছবিতেই দেখেছি। কিন্তু বাংলাদেশে এসে বাস্তবে দেখলাম। বাংলাদেশে এসব জীবন্ত।’ বললেন জার্মান দম্পতি উদো ক্রুয়েস ও সাবিনা শেলিউজার। উদোর বয়স ৩৪ এবং সাবিনার ৪০। উদো ইনস্যুরেন্স ম্যানেজারের কাজ করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকতাও করেন। আর সাবিনা শেলিউজার একটি রেস্টুরেন্টের বিক্রয়কর্মী। এরা সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছিলেন। ঢাকা, খুলনা ও কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। খুলনার বাগেরহাটসহ কিছু ছোট ছোট গ্রামে গিয়েছেন। ভ্রমণ করেছেন সুন্দরবন। এ ছাড়া ঢাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও গিয়েছেন।

কালের কণ্ঠের ৩৬০ ডিগ্রিকে এই দম্পতি বলেন, ‘বাংলাদেশ ভ্রমণের পুরো সময়টা আমাদের কাছে রোমাঞ্চকর ছিল। ঢাকায় ট্রাফিকব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টাটাও ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। এর সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারাটা বড় ধরনের বাহাদুরির কাজ বলতে পারেন। আমাদের দেশে ট্রাফিক নিয়ম-কানুন আছে। বাংলাদেশেও নিশ্চয়ই এমন কিছু নিয়ম থাকার কথা। কিন্তু এখানে দেখলাম নিয়ম-নীতির বালাই নেই। কেউ কাউকে তোয়াক্কা করে না। ঢাকায় সবাই প্রথম হতে চায়, সবার আগে যেতে চায়। এ কারণেই ঢাকার প্রতিটি দিন আমাদের কাছে দুঃসাহসিক ছিল। শুধু আমাদের কাছে কেন, যেকোনো বহিরাগতের জন্যই এটা দুঃসাহসিক হওয়ার কথা।’

ঢাকার কোন কোন এলাকায় গিয়েছেন? ‘দেখার মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাই দেখে এসেছি। আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, ঢাকেশ্বরী মন্দির—বাদ দিইনি কিছুই। কাউচ সার্ফারদের সঙ্গে দেখা করেছি। ওরা যেদিকে নিয়ে গেছে, সঙ্গে গেছি। ক্রিকেট খেলা দেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয় ও শহীদ মিনারে গিয়েছি। রিকশায় ঘুরেছি। স্থানীয় বিপণিবিতানে কেনাকাটাও করেছি।’

সবচেয়ে ভালো লেগেছে কী? জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে এ দেশের মানুষ। বাংলাদেশের মানুষই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এদের মধ্যে মানবীয় গুণ আছে। ওদের কাছেও আমরা আকর্ষণীয় ছিলাম। এরা আমাদের দেখে কৌতূহলী ছিল, আশ্চর্য হয়েছিল। অনেকে আমাদের সঙ্গে সেলফি তুলতে এগিয়ে এসেছিল। কেউ ছবি তুলছিল। ছোট-বড় এমন কত শত ঘটনার মুখোমুখি যে হয়েছি, তার হিসাব পাওয়া যাবে না।’

বিরক্তিকর কোনো কিছু? ‘একটি ক্রিকেট খেলা দেখার সময়টা ছিল বিরক্তিকর। এ ছাড়া বাংলাদেশে যতবার বিমানবন্দরে গেছি, সেখানে অপেক্ষা করাটাও বিরক্তিকর।’ এই দম্পতি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশি মানুষের কথা তো আগেই বলেছি। মানুষের সুন্দরের পাশাপাশি প্রকৃতির সুন্দরের কথাটিও উল্লেখ করতে চাই। বাংলাদেশের প্রকৃতি অনেক বেশি আকর্ষণীয়। অনেক পানি, অনেক সবুজ। পানি আর সবুজের মিশেল। যেখানেই গিয়েছি, সেখানেই আমাদের ঘিরে ছিল প্রকৃতি।’

ঢাকা শহরেও? ‘অবশ্যই নয়। ঢাকার বেশির ভাগ এলাকায়ই প্রকৃতির দেখা পাইনি।’ তাঁরা আরো বলেন, ‘বাংলাদেশি মানুষ খুব উষ্ণ ও সহযোগিতাপ্রবণ। এখানে কখনো একা কাটাতে হয়নি আমাদের। বাংলাদেশে থাকাকালে অনেক মানুষ আমাদের সহযোগিতা করেছেন। আমরা তাঁদের উদারতায় মুগ্ধ।’



মন্তব্য