kalerkantho


একটি প্রশাসনিক রাজধানী গড়ে তোলা উচিত

জনপ্রিয় মডেল, নৃত্য ও অভিনয়শিল্পী সাবিলা নূর। ঢাকায়ই তাঁর বেড়ে ওঠা। ঢাকার যাপিত জীবনের ভালো-মন্দ নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১৮ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



একটি প্রশাসনিক রাজধানী গড়ে তোলা উচিত

পুরোদস্তুর ঢাকার মেয়ে সাবিলা নূর। শৈশব-কৈশোর কেটেছে ঢাকার মগবাজার এলাকায়। যাপিত জীবনের এই ঢাকা কেমন লাগে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভালো-মন্দ সব মিলিয়েই আমার ঢাকা। তবে সব কিছু ভালো না হলেও ভালোর সংখ্যাটা বেশি বলব আমি। আমার বয়সটা তো খুব বেশি না, সে হিসেবে আদি ঢাকার কথা তেমন কিছু বলতে পারব না। ইতিহাসের বই পড়ে আর বড়দের কাছ থেকে যতটা শুনেছি, সে হিসেবে তখনকার ঢাকা ছিল নিরিবিলি ও আরো বেশি প্রকৃতিঘেরা। আর চাইলেও তো সেই ঢাকা ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার জনসংখ্যা, আবাসন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আজ থেকে পাঁচ-সাত বছর আগেও জ্যাম-জটের যে নাজেহাল পরিস্থিতি ছিল ঢাকার, তা থেকে ক্রমেই বেরিয়ে আসছে। বিশেষ করে বেশ কয়েকটি উড়াল সেতু হয়েছে। কোথাও কোথাও ইউলুপ হয়েছে, যার ফলে অনেক স্থানের অসহ্য স্থায়ী যানজট থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে। আবার নতুন করে অনেক জায়গায় যানজট তৈরিও হয়েছে। যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে, ঢাকার ওপর নানাবিধ চাপ তৈরি হচ্ছে, সে হারে উন্নতি হচ্ছে না। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকায় আছে। ঢাকার উন্নতিতে তাদেরও অবদান আছে। সেটি অনস্বীকার্য। কিন্তু ঢাকাকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য বাসোপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। সেদিকে নজর দিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের মানুষের চিন্তাভাবনা ঢাকাকে ঘিরেই বেশি। সবাই ঢাকায় আসতে চায়। বিশেষ করে উপার্জনের জন্য। আমার ঢাকায় বেড়ে ওঠা বলে গ্রামের মানুষের জীবনমানের কথা অতটা বুঝব না। কিন্তু যতটুকু জেনেছি, ফসলের বীজ বপন এবং সে ফসল ঘরে তোলার মধ্যবর্তী লম্বা অবসর সময়টিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু কৃষক আয়ের আশায় ঢাকায় চলে আসে। এটা কিন্তু বোঝা দরকার। মৌসুমে যদি সে পর্যাপ্ত আয় করতে পারত কিংবা তার ফাঁকে যদি অন্য কিছু করতে পারত, তাহলে নিশ্চয়ই পরিবার নিয়ে কষ্ট করে ঢাকায় আসত না। এই বিষয় মাথায় রেখে সারা দেশেই চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। আর নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা প্রতিকূলতার কাছে হার মেনে ভিটামাটি বিক্রি করে বহু পরিবার স্থায়ীভাবে ঢাকায় চলে আসে বেঁচে থাকার তাগিদে। ঢাকা এতটা জনবহুল  হওয়ার পেছনে আসলে আমাদের প্রাকৃতিক অবস্থাও কম দায়ী নয়।’

সাবিলার শৈশবের সঙ্গে বর্তমান সময়ের পার্থক্য কী—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু ছোটবেলা থেকে টিভিতে কাজ না করলেও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নাচের মাধ্যমে সব সময় যুক্ত ছিলাম। বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে নাচ শিখতাম। আমাদের শৈশব বলতে যখন বুঝতে শিখেছি, হয়তো ২০ বছর আগের কথা। তখনো এতটা জ্যাম ছিল না। তখন রিকশার ব্যবহার বেশি ছিল। একটি বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে হলে পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যেতে হবে। এই যে যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং হয়। বিভিন্ন লিফলেটে ঢাকা শহর ছেয়ে আছে। এগুলো বন্ধ করা উচিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটা শহর থাকবে ঢাকা। আর এর জন্য চাই ব্যাপক সচেতনতা। জনগণের মধ্যে এই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের নানা পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে আমি মনে করি, রাজধানীর বাইরে নতুন একটি প্রশাসনিক রাজধানী গড়ে তোলা উচিত। এ রকম অনেক উদাহরণ আছে বিশ্বে। ঢাকাকে বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হলে ঢাকার অদূরে প্রশাসনিক রাজধানী স্থাপন করতেই হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই।’



মন্তব্য