kalerkantho


শান্তিনগর বাজার ছড়িয়েছে ফুটপাতেও

রাতিব রিয়ান   

১১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



শান্তিনগর বাজার ছড়িয়েছে ফুটপাতেও

ঢাকার পুরনো কাঁচাবাজারগুলোর একটি শান্তিনগর বাজার। কাকরাইল, মালিবাগ, শান্তিনগর এলাকার মানুষের ভরসার জায়গা বাজারটি। কারণ আশপাশে আর কোনো বাজার না থাকায় সহজেই স্থানীয় বাসিন্দারা কিনতে পারেন তাঁদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কিন্তু এই বাজার তার সীমানা ছাড়িয়ে দখল করে রেখেছে বিরাট অংশের ফুটপাত। এ ছাড়া বাজার লাগোয়া ফুটপাত ব্যবহার করা হচ্ছে প্রাইভেট কারের পার্কিং প্লেস হিসেবে। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাজারের ফুটপাতে কোনো দোকানি চা বিক্রি করছেন, কেউ বিক্রি করছেন ডাব। কেউ বা মুরগির ঝুড়ি নিয়ে বসে পড়েছেন ফুটপাতে। কেউ আবার ভ্যানে করে বিক্রি করছেন তরমুজ। আবার অন্য কোনো দোকানি মৌসুমি ফলের ব্যবসা শুরু করেছেন ফুটপাতে কাঠের পাটাতন বিছিয়ে।

১৯৫২ সালে মোট সাড়ে সাত বিঘা জমির ওপর শান্তিনগর বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। শান্তিনগর বাজারের অবস্থানগত কারণে ক্রেতাদের কাছে বাজারটির আলাদা চাহিদা রয়েছে। এর ফলে ক্রেতাদের চাহিদানুসারে কয়েক বছর পরপরই সংস্কার করা হয় শান্তিনগর বাজার। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে শান্তিনগর বাজারের সামনে উন্মুক্ত স্থানে একটি সুপার মার্কেট দেওয়া হয়। বর্তমানে শান্তিনগর কাঁচাবাজরের মোট আয়তন পাঁচ বিঘা। কাঁচাবাজারের মধ্যে মোট দোকানের সংখ্যা রয়েছে ৫০০টি। আর সুপার মার্কেটে রয়েছে ১০৩টি দোকান। সব মিলিয়ে শান্তিনগর বাজারে ছয় শতাধিক দোকান রয়েছে।

শান্তিনগরের স্থানীয় বাসিন্দা মনির-উজ-জামান বলেন, ‘বাজারটি এখন ছড়িয়ে পড়েছে। যার প্রমাণ ফুটপাত দখল করে রাখা। ফুটপাত দখলে থাকায় লোকজনকে ব্যস্ত রাস্তায় চলাচল করতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে সব সময় গাড়ি চলাচল করে। ফুটপাত দখলে থাকায় সবারই সমস্যা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

সিদ্ধেশ্বরীর বাসিন্দা সিরাজুল হাওলাদার বলেন, ‘সকালে এই বাজারে চাপ বেশি থাকে। ওই সময় বাজারের কারণে লোকজন ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। ফলে ভোগান্তির শেষ থাকে না।’ তাঁর অভিযোগ, রমনা থানা ও ট্রাফিক পুলিশের লোকজন সচেতন হলেই ফুটপাত দখলমুক্ত করে রাখা যায়। ফুটপাতে তরমুজ বিক্রেতা ইলিয়াস আলী বলেন, ‘প্রতিদিনই বসি এখানে, তবে বেশিক্ষণ বসি না। বেচা-বিক্রি শেষ হলেই চলে যাই।’ ফুটপাত দখলে রেখে ব্যবসা করা ঠিক কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উপায় তো নেই। দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করার মতো পুঁজি তো নেই। গরিব মানুষ, একটা কিছু করে তো খেতে হবে।’

বাজারে আসা একজন ক্রেতা বলেন, ‘দিন দিন এ বাজারের পরিধি বাড়ছে। আগে ফুটপাতে দোকানের সংখ্যা কম ছিল, এখন বেচা-বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় এর সংখ্যা বেড়েছে। দোকানের সংখ্যা এতই বেড়েছে যে ঠিকমতো পা ফেলাও যায় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগে দোকানগুলো সকালে বসলেও একটু পরই উঠে যেত। কিন্তু এখন অনেক বেলা পর্যন্ত বসে থাকে। সে কারণে এই এলাকায় সকালে আগের চেয়ে বেশি যানজট হয়। সকালে স্কুলে আসা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের যানজটে বসে থাকতে হয়।’

ফুটপাত দখলে রেখে পসরা সাজানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে রমনা থানার ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদের বিষয়টি আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। উচ্ছেদ অভিযান চালালেও খুব বেশি সুবিধা পাওয়া যায় না। এক-দুদিন পর আবার ঠিকই দোকান বসে যায়।’

জনভোগান্তির কথা উল্লেখ করে আবু হানিফ নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে মধ্যরাত অবধি বাজারের কার্যক্রম চলে। আশপাশের বাসিন্দারা ও বিভিন্ন স্কুলে সন্তানদের পৌঁছে দিতে আসা লোকজনের অনেকেই কেনাকাটা করে নিয়ে যান।’ তিনি  আরো বলেন, ‘ফুটপাত দখল করা ছাড়াও এই বাজারে ঠিকমতো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। ফলে ময়লা-আবর্জনায় বাজারটি আশপাশের পরিবেশ নষ্ট করছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তবা জামাল বলেন, ‘জনগণের যাতে ভোগান্তি না হয়, সিটি করপোরেশন সব সময় সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে। আমার ওয়ার্ডের ফুটপাতগুলো অবিলম্বে দখলমুক্ত করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে একাধিকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমরা কথাও বলেছি। প্রয়োজনে আবার তাদের নিয়ে বসতে হবে। ব্যবসা করুক ভালো কথা, জনগণের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সে বিষয়টি তাদের ভাবতে হবে। মূল কথা হলো—কোনোভাবেই জনভোগান্তি তৈরি হয় এ রকম কাজ করা যাবে না।’ শান্তিনগর বাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি বাজার কমিটির সঙ্গে কথা বলব। আশা করি তারাও জনস্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।’

শান্তিনগর বাজার কো-অপারেটিভ সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন পাটোয়ারী বলেন, ‘এটি ঢাকার অন্যতম নামকরা বাজার। এ বাজারের পরিবেশ ও সুনাম রক্ষা করার জন্য যা যা করা দরকার, তা-ই করা হবে। ব্যবসায়িক স্বার্থের পাশাপাশি জনগণের স্বার্থের বিষয়টি আমাদের দেখতে হবে।’



মন্তব্য