kalerkantho


ঢাকাকে নান্দনিক ও নিরাপদ শহর হিসেবে দেখতে চাই

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকাকে নান্দনিক ও নিরাপদ শহর হিসেবে দেখতে চাই

জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। কলেজজীবন থেকে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ঢাকার যাপিত জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে জাকিয়া বারী মম। ঢাকায় প্রথম ঠিক কবে এসেছেন তা খেয়াল নেই। তবে অস্পষ্ট স্মৃতি হাতড়ে বললেন, ‘তখন আমি খুব ছোট। ঢাকায় ফুফুর বাড়ি বেড়াতে এসেছিলাম। ফুফুর বাড়ি ছিল ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে। ১৯৯১ সালের পর থেকে ঢাকায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করি। প্রতি শুক্রবার নাচ শিখতে ঢাকায় আসতাম। মাঝেমধ্যে শপিং করতেও আসতাম। সেই সময় ঢাকায় আসাটা ছিল অন্য রকম অনুভূতি। রাস্তার নিয়নবাতির আলোতে নিজের চেহারাই বদলে যেত। সেটি অন্য রকম মজার অভিজ্ঞতা ছিল। ঢাকার সব কিছুতেই তখন অবাক লাগত।’

ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হলেন ঢাকা সিটি কলেজে। সে সময় স্থায়ীভাবে সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন মম। তখন থেকেই এলিফেন্ট রোডে বাসা। তখনকার ঢাকা আর বর্তমান ঢাকার মধ্যে পার্থক্য জানতে চাইলে মম বলেন, ‘শুধু ঢাকার পরিবেশ বলব না, পুরো দেশের পরিবেশেরই এক ধরনের পরিবর্তন ঘটে গেছে। সেই সময় মানুষের অস্থিরতা একটু কম ছিল। এখন অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে নাগরিকের যাপিত জীবনটা অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। সামাজিক সম্পর্কের বন্ধনগুলো হালকা হয়ে যাচ্ছে। পারিবারিক গণ্ডি ক্ষুদ্র হয়ে আসছে। একান্নবর্তী পরিবার এখন মনে হয় সারা বাংলা খুঁজেও আপনি পাবেন না। এটা ভালো লক্ষণ নয়। এরই মধ্যে এর খারাপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সচেতন না হলে আমাদের সম্পর্কগুলো কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, আমরা চিন্তাও করতে পারব না।’

যানজটে নাভিশ্বাস ওঠা নগরজীবন নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকার নানাবিধ সমস্যা-সংকট নিরসনে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয় না তা বলব না, অবশ্যই নেয়। তবে সেটা কতটুকু কার্যকর হয়, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করা। এসব ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। অন্যদিকে ঢাকা এমন একটি জায়গা, যেখানে এক দিনে আপনি দুটি জায়গায় যেতে পারবেন না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঢাকায় জনসংখ্যার বিচারে পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে হবে।’

ঢাকার রূপরেখা কেমন হতে পারে? ‘সিদ্ধান্ত নিতে হবে ঢাকা প্রশাসনিক শহর হবে নাকি ইন্ডাস্ট্রিয়াল শহর হবে। নির্দিষ্ট কিছু ইন্ডাস্ট্রি যদি ঢাকার বাইরে নেওয়া সম্ভব হয়, যেমন গার্মেন্ট সেক্টর। এটি দেশের অন্যতম বড় একটি সেক্টর। এখানে প্রচুর মানুষ কাজ করে। তাদের একটা ভিড় কিন্তু ঢাকায় আছে। এটা যদি ঢাকার অদূরে করা যেত, ভিড় অনেকটাই কমে যেত। অন্যদিকে অনেক প্রশাসনিক কার্যক্রমও ঢাকার বাইরে নেওয়া যায়। জেলা ও বিভাগীয় শহরের মানুষ অনেক কাজ ঢাকায় এসে করতে বাধ্য হয়। সেগুলো যদি বিভাগীয় শহরেই করা সম্ভব হয় বা সে ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে ঢাকার ওপর অনেক চাপ কমবে।’

ঘিঞ্জি ভবনে ছেয়ে গেছে ঢাকা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অনেক বড় অন্তরায় বর্তমান ঢাকা। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। পথচারীদের চলাচলে খোলা জায়গা নেই। এখানে বিনোদনের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সুস্থ বিনোদনের এখনো যথেষ্ট অভাব আছে বলে মনে করি। আমার বর্তমান বাসা উত্তরায়। ওখান থেকে সিনেমা দেখার পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। সেখান থেকে ঢাকার অন্য জায়গায় গিয়ে সিনেমা দেখার সময়-সুযোগ হয়ে ওঠে না। উত্তরায় এত মানুষ, এত মার্কেট। এখানে কিন্তু একাধিক সিনেপ্লেক্স গড়ে উঠতে পারত। বাচ্চাদের নিয়ে যে কোনো জায়গায় বের হব, তারও পরিবেশ খুব কম। এগুলো সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে মানুষের তো দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।’

ভবিষ্যতের ঢাকা আপনি কেমন দেখতে চান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যত সমস্যাই থাকুক, ঢাকাকে একটি প্রাণবন্ত, নান্দনিক ও নিরাপদ শহর হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের অনেক ভালো দিক আছে, সেগুলো কাজে লাগিয়ে আমরা সবাই মিলেই এই শহরকে আরো সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি, যেখানে সব রকম মানুষ, সব রকম পেশার কাজ করে দিনটি কাটিয়ে দেবে শান্তিতে। সদিচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব।’

 

 



মন্তব্য