kalerkantho


বেহাল জল্লাদখানা রোড

ভোগান্তিতে পথচারী

মো. হারুন অর রশিদ   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভোগান্তিতে পথচারী

‘ময়লা-আবর্জনায় পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ হয়ে আছে। ফলে ড্রেনের পানি রাস্তায় এসে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। কর্দমাক্ত রাস্তায় চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষার মৌসুম এলে তো ভোগান্তির মাত্রা আরেক রূপ ধারণ করে। এ ছাড়া রাস্তার ম্যানহোলে ঢাকনা নেই, যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ। আমাদের ছেলে-মেয়েদের এই নোংরা ও জলাবদ্ধ রাস্তা মাড়িয়ে যাওয়া-আসা করতে হয় স্কুলে। বছরের পর বছর ধরে এ সমস্যা চললেও আমাদের এই দুর্ভাগ্যের চিত্র দেখার মতো যেন কেউ নেই? কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও, বাস্তবে কোনো প্রতিফলন দেখি না।’ এভাবেই বলছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জল্লাদখানা রোডের স্থানীয় বাসিন্দা মো. খোকন মিয়া।

সড়কটি মিরপুর ১০ ও ১২ নম্বর মেইন সড়ক থেকে জুটপট্টি হয়ে জল্লাদখানার সামনে দিয়ে ১৩ নম্বর মেইন সড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। সড়কটির সঙ্গে প্যারিস রোড, বেনারসি পল্লী সড়কসহ অত্র এলাকার বেশ কয়েকটি সংযোগ সড়ক হিসেবে মিলিত হয়েছে। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে যখন জ্যাম থাকে অথবা মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যখন খেলা চলে, তখন ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১ নম্বর সনি হল পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন ওই সব সংযোগ সড়ক বাইপাস সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই সড়কের আশপাশে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসাও রয়েছে। অত্র এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত এই সড়ক দিয়েই। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তার ম্যানহোলে ঢাকনা নেই। ড্রেনের ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে সয়লাব হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ময়লা-আবর্জনা ও খানাখন্দ তো আছেই। অন্যদিকে এই সড়কের দু্ই পাশে দখলের কারণে ফুটপাতের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। সড়কের জায়গা দখল করে ভাঙ্গারি দোকান, রিকশা গ্যারেজ, টং দোকানসহ নানা ধরনের স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব টং দোকান আবার মাদক ব্যবসার আস্তানা হিসেবেও কাজ করে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহানা পারভিন বলেন, ‘এই শুকনা মৌসুমেও রাস্তায় নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। আর বর্ষার সময় তো অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে অত্র এলাকার জনগণ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে, বিশেষ করে আশপাশের বস্তিবাসীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

ফুটপাত দখল করে কেন দোকান দিয়েছেন জানতে চাইলে দখলদার ভাঙ্গারি দোকানি মামুন মিয়া বলেন, ‘জায়গা কী শুধু আমি দখল করেছি? এখানে যারা দোকান বানিয়েছে প্রত্যেকটা দোকানই অবৈধ জায়গায়।’ আপনি কেন দখল করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি অবৈধ। কিন্তু কী করব, আমরা গরিব মানুষ, কোনো রকম এই দোকান থেকে ব্যবসা করে সংসার চালাই। সরকার উঠাইয়া দিলে উঠে যাব।’

রিকশা গ্যারেজের মালিক মানিক মিয়ার কাছে দখলের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই জায়গা আমি দখল করিনি। আমি দোকান ভাড়া নিয়েছি।’ কার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যুবলীগ নেতা সুমন মিয়ার কাছ থেকে।’ কত টাকা ভাড়া দেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা ভাড়া দিই।’ দখলদার সুমন মিয়ার কাছে ফোনে দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমি কোনো জায়গা দখল করিনি’ বলেই লাইনটি কেটে দেন। পরে তাকে ফোন করা হলে, ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

রাস্তার বিরাজমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জল্লাদখানার সিকিউরিটি গার্ড করিম মিয়া বলেন, ‘এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কের দুর্দশার কারণে দর্শনার্থীরা আগের মতো জল্লাদখানা দেখতে আসে না। সড়ক ও ফুটপাতের জায়গা দখল করার কারণে সড়কটির প্রশস্ততা কমে গেছে। পথচারীদের চলাচলে বেশ সমস্যা হয়। শিগগিরই রাস্তাটি সংস্কার করা উচিত।’

ডেসকোর কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি বলেন, ‘এই সড়কটি কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আজ এই দশা হয়েছে। সংস্কারের অভাবে সড়কটি দিন দিন আরো বেশি চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া সড়কের দুই ধারে অবৈধ দখল এবং যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার দরুণ এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’

এসব বিষয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের প্রতিটি সড়কেরই উন্নয়নকাজ চলছে। কতিপয় বিরোধী লোক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য হাইকোর্টে রিট করে সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে অনেক জায়গায় সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। আইনি বাধা মুক্ত হলেই আবার সংস্কারকাজ পুরোদমে চালু করা হবে। এ ছাড়া শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আমার ওয়ার্ডের সব জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করে সড়কের প্রশস্ততা ও উন্নয়নের কাজ শুরু করেছি। শিগগিরই জল্লাদখানা সড়কের কাজ শুরু করা হবে।’ মাদক ও ছিনতাইয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। পুরোপুরি বলব না, আগের তুলনায় এখন মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা, ছিনতাইসহ সব ধরনের সমাজবিরোধী কাজ অনেক কমে গেছে। যদিও দু-একটা বিছিন্ন ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে আমি তা পুলিশ প্রসাশনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’



মন্তব্য