kalerkantho


যানজট কমাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ব্যক্তিগত গাড়ি

নায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই ঢাকা শহরেই। ঢাকায় যাপিত জীবনের নানা স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



যানজট কমাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ব্যক্তিগত গাড়ি

জন্ম ঢাকার শাহবাগে। সেখানেই বেড়ে ওঠা।

‘একটা সময় ঢাকা বলতে আমি বুঝতাম পুরান ঢাকা, আর নতুন ঢাকা বলতে শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল, ধানমণ্ডি ও মিরপুর। ঢাকার মধ্যে যে গুলশান, বনানী বা আরো অনেক জায়গা আছে, সেসব জানতামই না বললে চলে। একসময় আশপাশের মানুষের কাছে শুনতাম, বনানী ও গুলশান হচ্ছে উচ্চবিত্তদের। তখন গুলশানের চেয়েও বনানীর নাম-ডাক বেশি ছিল। তবে তখন আমার ঢাকা দর্শনের দৌড়টা বলতে পারেন অতটুকুতেই সীমাবদ্ধ ছিল। আসলে মেয়ে বলে বাসা থেকে বাইরে অত বেশি ঘোরার সুযোগ বা অনুমতি ছিল না। নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হতে হয়েছে আমাদের। ’ বললেন পূর্ণিমা।

আপনার দৃষ্টিতে তখনকার ঢাকা আর এখনকার ঢাকাকে কিভাবে দেখবেন? ‘তখন তো রাস্তঘাটে মানুষজন অনেক কম ছিল।

এই যে শাহবাগ, আমাদের ছোটবেলায় অনেক সময়ই ফাঁকা দেখতাম। আজকের মতো এত যানজট ছিল না। এখন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ মিনিট ফাঁকা থাকে কি না সন্দেহ। রাস্তার পাশে অনেক সবুজ গাছগাছালি ছিল। বিল্ডিং তখনো ছিল, কিন্তু এখনকার মতো এত ঘিঞ্জি ছিল না। সবার মধ্যে বাড়িতে একটা গাছ লাগানো বা বাগান করার ইচ্ছা দেখতাম। এখন সংকুচিত হয়ে আসা ফ্ল্যাটজীবনে সবার পক্ষে গাছ লাগানো বা বাগান করা হয়ে ওঠে না। রাস্তাঘাটে মানুষের তুলনায় বেড়েছে গাড়ির সংখ্যা। আগে প্রাইভেট কার এলাকার খুব কম মানুষেরই থাকত। এখন তো ঘরে ঘরে। একই পরিবারের একাধিক গাড়ি। এই ব্যাপারটা তো একটি পরিবর্তনই। তবে আমি মনে করি, ঢাকার যানজট কমাতে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ব্যক্তিগত গাড়ি। ব্যক্তিগত পরিবহন নিরুৎসাহিত করে গণপরিবহনের সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে যানজট অনেকটা কমে আসবে। ’

ছোটবেলা থেকে সাংস্কৃতিক বিভিন্ন মাধ্যমেও ছিল যাতায়াত—‘টিএসসি, আর্ট কলেজ, শিশু একাডেমি, বাংলা একাডেমি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিল তাঁর বেশ পরিচিত। ‘কারণ তখন আম্মা পড়াশোনার পাশাপাশি এসব সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিয়ে যেতেন। গান শেখার জন্য শিশু একাডেমিতে ভর্তিও হয়েছিলাম। এ ছাড়া শিশু পার্ক ও রমনা পার্কে যাওয়া হতো। জাতীয় জাদুঘরের প্রতি এখনকার বাচ্চাদের উৎসাহ আছে কি না জানি না। আমরা কিন্তু এক বা দুই মাস পরপরই কোনো ছুটির দিনে ঘুরে আসতাম। দেখা জিনিসও বারবার দেখতে ভালো লাগত। ’ বললেন তিনি।

একটু বড় হয়ে বেইলি রোড চিনলেন। মহিলা সমিতিতে মঞ্চনাটক দেখতে যাওয়া হতো। আড্ডা দেওয়া হতো প্রিয় চটপটির দোকানেও। তিনি বলেন, ‘শাহবাগে সিলভানা ও মৌলি রেস্টুরেন্টের খাবার ছিল আমার খুব প্রিয়। বিশেষ করে সিলভানা হোটেলের পুডিং। এখন তো ঘরেও হরহামেশা এসব বানানো হয়।   কিন্তু তখন ওই দোকানেরটাই আমার কাছে ছিল অমৃত। থাকে না—একেক বয়সের একেক পছন্দ! কোনো না কোনো সময় সেই পুডিংয়েরও প্রেমে পড়েছিলাম আমি। ’

শোবিজে কাজ শুরুর দিকে হাতিরপুলে থাকতেন। দুই বছর পর শিফট হয়ে নিকুঞ্জে স্থায়ী হন। বর্তমানে সেখানেই রয়েছেন। ‘শোবিজে আসার পর আসলে ঢাকাটা ভালোভাবে ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। শোবিজে কাজ করার খাতিরে বিভিন্ন লোকেশনে যাওয়া হতো। ’

বর্তমান ঢাকার অবস্থা বলতে তাঁর কাছে মনে হয়, ‘এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে দিনের অর্ধেকটাই ব্যয় করতে হয়। সমীক্ষা চালিয়ে যদি দেখা হয়, ঢাকাবাসীর কত সময় অহেতুক রাস্তায় কাটে? তাহলে আমি নিশ্চিত, সেটি বিশ্বের মধ্যে প্রথম হবে! আমরা সবাই যদি এতটা সময় রাস্তায়ই কাটাই, তাহলে কাজটা কখন করব। ’

কোনো উন্নতি কি হচ্ছে না? ‘উন্নতি তো হচ্ছেই। অনেক ফ্লাইওভার হলো। তবে প্রকৃত অর্থে তা কতটা যানজট নিরসনে কাজে লাগছে, সেটি এক বড় প্রশ্ন। ’

কথায় কথায় স্মরণ করলেন এফডিসির কথাও। ‘আমরা যখন এফডিসিতে প্রথম কাজ শুরু করি, তখন এফডিসির সামনে মানুষের জটলা লেগেই থাকত। সেটি ভোর ৪টায়ও যদি ঢুকতাম, তখনো মানুষের ভিড় দেখতাম। সন্ধ্যা বা রাতের বেলা তো কথাই ছিল না। একপলক দেখার জন্য মানুষের মধ্যে সে কি উত্তেজনা! সেই দিনটা তো এখন আর নেই। এফডিসির ভেতর যেমন খালি, বাইরেও তেমনই!’


মন্তব্য