kalerkantho


ঢাকা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে

জন্মসূত্রে ঢাকার মেয়ে। বংশ পরিক্রমায় ঢাকার স্থানীয়। নায়ক আলমগীরের কন্যা হিসেবে নয়, তিনি নিজেও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। ঝুলিতে রয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মতো প্রাপ্তি। সেই আঁখি আলমগীর বলেছেন ঢাকা নিয়ে। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে

ঢাকার বনানীতে বড় হয়েছেন। স্কুল-কলেজও ছিল এর আশপাশেই। সেখান থেকে বর্তমানে উত্তরায়। নিয়মিত যাওয়া-আসা ছিল এফডিসিতে। সেখানটা যে বাবার কর্মস্থল! ছোটবেলা থেকে ঢাকার পরিবর্তনগুলো তাঁর চোখেও সময়ের পরিক্রমায় ধরা পড়েছে। মনের অজান্তেই জনান্তিকে বলে উঠেছেন, ‘ইস আগে ঢাকা কেমন ছিল, আর এখন কেমন!’ প্রশ্ন তুলতে হলো, আগে ঢাকা কেমন ছিল? এককথায় তাঁর জবাব—‘আগের ঢাকা ছিল ফাঁকা। ’ তাহলে এখন কেমন? পাল্টা প্রশ্ন। ‘এখন তো লোকে লোকারণ্য। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন ঢাকার রাস্তায় জ্যাম ছিল না বললেই চলে। তখন রিকশার অনেক চল ছিল। ঢাকার যেসব জায়গায় এখন বড় বড় জ্যাম পড়ে, সেসব জায়গায় একসময় সিগন্যালই পড়ত না, এতটা ফাঁকা ছিল।

মানুষ ছিল, কিন্তু এত ছিল না। গেল ১০-১৫ বছর ধরে রাজধানীতে মানুষের চাপটা ক্রমেই বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। ’ বললেন আঁখি।

ছোটবেলার সময়ে তাঁর প্রিয় স্থান ছিল চিড়িয়াখানা কিংবা শিশু পার্ক। মায়ের সঙ্গে সেসব জায়গায় ঘুরতে যেতেন। যদিও সেসব জায়গায় খুবই কম যাওয়া হতো। এর চেয়ে বরং তাঁর যাওয়া-আসাটা বেশি ছিল সিনেমা হলে। ‘তখন ঘোরাঘুরি-আড্ডা দেওয়ার জায়গা কম ছিল। অনেক সিনেমা হল ছিল। আর তার পরিবেশও বেশ ভালো ছিল। আমরা পরিবারসহ সিনেমা দেখতাম। আমরা মেয়েরা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতাম, কোনো দিন তেমন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। প্রতি শুক্রবার সিনেমা দেখতে যেতাম। সেটা আব্বুর না হলেও অন্য কারোটা দেখতাম। আগে তো প্রায় প্রতি সপ্তাহেই দেখার মতো কোনো না কোনো সিনেমা মুক্তি পেত। এখন তো লোকাল সিনেমা হলগুলোতে সিনেমা দেখা সম্ভব হয় না। ভরসা একমাত্র সিনেপ্লেক্স। ’ বললেন তিনি।

এখন রেস্টুরেন্টের শহর বলা যায় ঢাকাকে। সেই সময় রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। আঁখি বলেন, ‘হোটেল সোনারগাঁও আর এখন যেটাকে রূপসী বাংলা, আগে যেটা শেরাটন ছিল বা তারও আগে ইন্টার কন্টিনেন্টাল, সেখানে আমরা ডিনার করতে যেতাম। আর দুই-একটা নামকরা চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ছিল। আমাদের বাইরে খাওয়াদাওয়া বলতে এমনটাই ছিল। এখন অনেক মার্কেট হয়েছে। প্রায় প্রতিটি মার্কেটেই রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তা ছাড়া ভালো কিছু কেনাকাটার জন্য এখন আর বিদেশে যেতে হয় না। আমাদের দেশেই সব কিছু পাওয়া যায়। ঢাকার এই উন্নতি অবশ্যই চোখে পড়ার মতো। ’

আর কোনো উন্নতি চোখে পড়ে না? এমন প্রশ্নের জবাবে আঁখি বলেন, ‘মানুষের জীবনযাত্রার মান নিঃসন্দেহে অনেক বেড়েছে। আগে তো ঢাকার ভেতরে এত স্কুল-কলেজ ছিল না। এই যে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির প্রচলন, এটাও খুব বেশিদিন আগে শুরু হয়নি। এত এত প্রতিষ্ঠান আগে ছিল না। আজ থেকে ২৫ বছর আগে অনেক বেশি সবুজ আর পরিচ্ছন্ন একটা ঢাকা ছিল। ক্রমেই মানুষ বাড়ছে। ঢাকা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ছে। সময় থাকতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই যানজট, জলজটের সমস্যা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারব না। ’ এর থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায়? ‘বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে ঢাকাকে। শুধু ঢাকার মধ্যেই সব মন্ত্রণালয়, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় রাখার কোনো মানেই হয় না। ঢাকার আশপাশেও দরকার বোধে এগুলো হতে পারে। ঢাকার আয়তন তো বাড়ছেই। পাশাপাশি এসব দরকারি প্রতিষ্ঠানকে ছড়িয়ে দিতে পারলে ঢাকার ওপর থেকে চাপ কমবে। ঢাকার পরিবেশ ঠিক থাকবে বলে মনে হয়। আর ঢাকার সৌন্দর্যেরও একটি ব্যাপার আছে। বিশ্বের বড় শহরগুলো যেমন সাজানো-গোছানো ঝকঝকে থাকে; আমাদের ঢাকাকেও সেভাবে রাখার ব্যবস্থা করা উচিত। রাস্তায় বের হলেই ভাঙাচোরা অবস্থা। একই রাস্তা যে কতবার করে করা হয়, এই ভাঙে এই গড়ে—রাজউক, ওয়াসা, ডিসিসির সমন্বয়হীন, মানহীন কর্মকাণ্ডের জন্য এসব ঘটে। ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে হলে এই অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ’


মন্তব্য