kalerkantho


নগরজীবন

খালের জায়গায় বড় বড় বিল্ডিং উঠছে

মো. বড়মিয়া
ভ্রাম্যমাণ পেয়ারা বিক্রেতা
চানখাঁরপুল, ঢাকা

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



খালের জায়গায় বড় বড় বিল্ডিং উঠছে

ব্যবসা কেমন চলছে?

আগের মতো ব্যবসা নাই। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে।

লোকজন চাল-ডাল কিনব, না ফলমূল কিনব? আগে তো দুই-তিন ঝুড়ি ফল বিক্রি হইতো। এখন টাইনাটুইনা এক ঝুড়ি বিক্রি হয়। ব্যবসায় সুবিধা কইরা উঠতে পারছি না।

 

ব্যবসায় সুবিধা না হলে তো আপনার সমস্যা?

সমস্যা তো আছেই। ইনকাম কম। কোনো কোনো দিন তো চালানের ট্যাকাও উঠে না। এভাবেই দিন যাচ্ছে, যেমন বিক্রি, তেমন খরচ করি।

 

এই ব্যবসা কত দিনের?

চার-পাঁচ বছর ধইরা করি। আগে ভ্যান চালাইছি।

এখন তো বয়স হইছে, ভ্যান চালাইতে পারি না। ভ্যান বিক্রি কইরা চায়ের দোকান দিছিলাম। হেই দোকানও টিকাইতে পারি নাই। ভাবলাম এমন ব্যবসা করা যায়, যাতে বাকি নাই। ফুটপাতে বসে ফল বেচি, যা বিক্রি হয় সব নগদ।

 

ঢাকায় এলেন কবে?

যুবককালে ঢাকায় আইছি। বাড়ি রংপুর। মা-বাবা ছোটবেলায় মারা গেছে। চাচার কাছে মানুষ হইছি। ঢাকায় চাচার পরিচিত লোক আছিল। সেই লোকের কাছে চাচা আমারে রাইখা গেছিল। ওই লোকের চায়ের দোকান আছিল। ওইখানেই চা বানান শিখছিলাম।

 

এরপর চা দোকান থেকে...

ওই দোকানে কাজ কইরা মাসে ১৫০০ ট্যাকা পাইতাম। খাওয়া-থাকা মালিকের আছিল। এরপর সেই দোকানি চাচাই আমারে বিয়া দিছে। কয় বছর হইলো দোকানি চাচা মারা গেছে। এক মেয়ে বিয়া দিছি, এক ছেলে সে হাজারীবাগ চামড়া কম্পানিতে কাজ করে। ছেলে আলাদা, তারও সংসার আছে।

 

সেই সময়ের ঢাকা আর এখনকার ঢাকা কেমন লাগে?

ঢাকা তো তখন অনেক ফাঁকা আছিল। এখন তো মানুষে মানুষে গিজ গিজ করে। বিল্ডিংয়ে বিল্ডিংয়ে ভইরা গেছে। খালের জায়গায় বড় বড় বিল্ডিং উঠছে। এই কারণে অল্প বৃষ্টি হইলেই রাস্তাঘাট ডুইবা যায়।

 

বড় বড় বিল্ডিং মানেই তো ঢাকার উন্নয়ন?

ঢাকার উন্নতি তো হচ্ছে; কিন্তু ঢাকায় কোনো ফাঁকা জায়গা নাই। লোকজনের চলাচলের জায়গা নাই। পা বাড়াইলেই ইট-বালু। শহরটা আগেই ভালো আছিল।

 

কী করলে ঢাকা ভালো থাকবে?

আমি কী অতশত বুঝি। তয় কিছু গাছ-গাছালি থাকলে ঠাণ্ডা বাতাস পাওয়া যাইত। মানুষ চইলা-ফিরা আরাম পাইত। পোলাপানগো খেলার মাঠও নাই। আগে ঢাকার প্রত্যেক এলাকায়ই ছোট-বড় অনেক মাঠ দেখছি। সেই সব মাঠ এখন হারাই গেছে।

 

বাকি জীবন কি ঢাকায়ই থাকবেন?

কই যাব। যাওনের তো যায়গা নাই। গ্রামে এক টুকরা জমিও নাই। গ্রামে ফিরার কোনো উপায় নাই। মরি-বাঁচি এই ঢাকায়ই থাকতে হইবো।

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণে : কবীর আলমগীর

ছবি : জান্নাতুল ফেরদৌস শিপন


মন্তব্য