kalerkantho

অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর থাইল্যান্ডে ভোটগ্রহণ

ফল ঘোষণায় কয়েক দিন লেগে যাবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর থাইল্যান্ডে ভোটগ্রহণ

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি কেন্দ্রে গতকাল ভোট গণনা চলাকালে তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

থাইল্যান্ডে গতকাল রবিবার সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের প্রায় পাঁচ বছর পর এই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো দেশটিতে। বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল দেশটিতে সেনাবাহিনীর আমলে করা নতুন সংবিধানেই ভোট নেওয়া হয়। যে কারণে ফল যা-ই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীরই প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল ৫টায়। এর পরই শুরু হয় গণনা। এবারের নির্বাচনে ভোটার ছিল প্রায় পাঁচ কোটি। নির্বাচন কমিশনের মহাসচিব জারুংভিচ ফুমা জানান, ৯২ হাজার ৩২০টি ভোটকেন্দ্রে ভোট নেওয়া হয়েছে। এবারে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। ফল ঘোষণা করতে কয়েক দিন অথবা কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। তবে এ বিষয়টিতেই অনেকে আবার ফল নিয়ে কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে। 

ভোটের আগে এক বিবৃতিতে থাই রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা’ বজায় রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে রাজা ভোটারদের প্রতি ‘ভালো মানুষদের সমর্থন’ দেওয়ারও অনুরোধ জানান।

গতকাল নেওয়া ভোটে মূলত সামরিক বাহিনী সমর্থিত দল ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার মিত্রদের মধ্যেই লড়াই হবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

দেশটির সেনাসমর্থিত নতুন দল পালাং প্রাচা রাথ পার্টির (পিপিআরপি) হয়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল প্রায়ুথ চান-ওচা একমাত্র প্রার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়ছেন। অন্যদিকে, থাকসিন সিনাওয়াত্রা-সমর্থিত দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পুয়ে থাই পার্টি। এই দলটি এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০০৬ সালে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া থাকসিন ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে আদালত ঘোষিত দণ্ড এড়াতে স্বেচ্ছানির্বাসনে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এর পরও তাঁর জনসমর্থন ব্যাপক, বিশেষ করে গ্রামীণ ও অসচ্ছল ভোটারদের মধ্যে থাকসিন এখনো বেশ প্রভাবশালী।

২০০১ সালের পর থেকে দেশটিতে হওয়া প্রায় সব নির্বাচনেই থাকসিন সমর্থিত দলগুলো বিজয়ী হয়েছে। ক্ষমতা দখলের পর থেকে সেনাবাহিনীও অনানুষ্ঠানিকভাবে তার প্রভাব কমানোর দিকেই বেশি মনোযোগী ছিল, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলোর মধ্যে আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী অভিসিত ভেজাজিভা ও তরুণ টেলিকম ব্যবসায়ী থানাতর্ন জুয়ানগ্রুংরুয়াংকিতের ফিউচার ফরওয়ার্ড পার্টি।

রবিবারের নির্বাচনে ভোটাররা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫০০ সদস্যকে নির্বাচিত করবে। নতুন সংবিধান অনুযায়ী, সেনাবাহিনী উচ্চকক্ষ সিনেটের আড়াই শ সদস্যের মনোনয়ন দেবে। দুই কক্ষের সদস্যদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে নির্বাচিত হবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র : এএফপি।

 

 

মন্তব্য