kalerkantho

মৃতদেহের দাফন শুরু

বর্ণবাদবিরোধী বৈশ্বিক লড়াই চান আরডার্ন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বর্ণবাদবিরোধী বৈশ্বিক লড়াই চান আরডার্ন

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন

ডানপন্থী বর্ণবাদী আদর্শ নির্মূলের লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে ভয়াবহ হামলার প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসন বৃদ্ধির মাধ্যমে বর্ণবাদ উসকে দেওয়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন। এ ছাড়া গতকাল ক্রাইস্টচার্চ শহর পরিদর্শনে যান এবং আগামী শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডে দুই মিনিটের নীরবতা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানাতে জুমার নামাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে সম্প্রচারের নির্দেশ দেন।

বিবিসির সাক্ষাত্কারে ডানপন্থী জাতীয়তাবাদের উত্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা (হামলাকারী) ছিল অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। কিন্তু বলা যাবে না নিউজিল্যান্ডে আমাদের এমন কোনো আদর্শ আছে, যা নিউজিল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ক্ষতি করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘যেখানেই এই আদর্শ (বর্ণবাদ) রয়েছে, সেখানেই তা দূর করারও দায়িত্ব রয়েছে। এ ধরনের (হামলার) পরিবেশ যাতে তৈরি না হতে পারে তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’ এ সময় তিনি নিউজিল্যান্ডের বর্তমান অভিবাসননীতি অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নেন।

অন্যদিকে গতকাল প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা ক্রাইস্টচার্চ শহর পরিদর্শনে যান। তিনি ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর একটি স্কুল পরিদর্শন করেন এবং নিহত কয়েকজনের স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের আগে দুই মিনিট নীরবতা পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানাতে জুমার নামাজ সরাসরি সম্প্রচারের জন্য রাষ্ট্রীয় রেডিও এনজেড ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিভিএনজেডকে নির্দেশ দেন। তিনি জানান, গত শুক্রবারের ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা বোঝাতে প্রথাগত এক মিনিট নীরবতার স্থলে দুই মিনিট করা হয়েছে।

এই সংবাদ সম্মেলনের আগে তিনি ক্রাইস্টচার্চের ক্যাশমেয়ার হাই স্কুল পরিদর্শনে যান। গত শুক্রবারের সন্ত্রাসী হামলায় স্কুলটি সাইয়েদ মিলনি (১০) ও হামজা মুস্তফা (১২) নামের দুই শিক্ষার্থীকে হারায়। ওই হামলায় হামজার বাবা খালেদও নিহত হয়েছেন। সকালে পরিদর্শনে গিয়ে জেসিন্ডা স্কুলটির অ্যাসেম্বলিতে হাজির হন এবং কয়েকটি শিশু শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় একটি মেয়ে তাঁকে প্রশ্ন করে ‘আপনি কেমন আছেন?’ এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খুব শোকার্ত।’ এ সময় তিনি সামাজিক মাধ্যমে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

দাফন : অন্যদিকে গত শুক্রবার মসজিদে হামলায় নিহতদের দাফনকাজ গতকাল ক্রাইস্টচার্চে শুরু হয়েছে। প্রথমে সিরিয়া থেকে আসা দুই শরণার্থী পিতা-পুত্রের লাশ দাফন করা হয়। এ সময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নিউজিল্যান্ডের পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গতকালের মধ্যেই সব লাশ হস্তান্তরের কাজ শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, গতকাল সকাল পর্যন্ত ৫০টি মৃতদেহের মধ্যে ৩০টি মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়ছে। তবে সব লাশ হস্তান্তর হয়েছে কি না তা জানাতে পারেনি নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যম।

নিহতদের মধ্যে গতকাল প্রথম লিনউড মসজিদে সিরীয় শরণার্থী খালিদ মুস্তফা (৪৫) ও তাঁর ছেলে হামজা মুস্তফার (১৫) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত মুসলিম অংশগ্রহণ ও শোক প্রকাশ করেন। গত বছর এই পরিবারটি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে নিউজিল্যান্ডে এসেছিল। এ বিষয়টি স্পর্শ করে যায় প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নকেও। তিনি শোকাহত মুস্তফা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সান্ত্বনা দিতে পারব না যে একটি পরিবার এখানে নিরাপত্তার জন্য এসেছিল, আশ্রয়ের জন্য এসেছিল এবং তাদের নিরাপদে রাখা উচিত ছিল।’ সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 

মন্তব্য