kalerkantho

লোকসভা নির্বাচন : পশ্চিমবঙ্গ

১৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা বামদের

সমঝোতার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় কংগ্রেসকে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা বামদের

উত্তর প্রদেশের গোপিগঞ্জে কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রচার। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : দ্য হিন্দ

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে বাম দল ও কংগ্রেসের মধ্যে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়। আসন নিয়ে এক রফা হয়। গতকাল মঙ্গলবার কংগ্রেসের জন্য সমঝোতার রাস্তা খোলা রেখেই দ্বিতীয় দফার প্রার্থী ঘোষণা করল বামফ্রন্ট। গতবার কংগ্রেসের জেতা চারটি আসন ফাঁকা রেখেই প্রার্থী ঘোষণা করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। তবে কংগ্রেসকে ২৪ ঘণ্টা সময়ও দিয়েছেন তিনি। বুধবার বিকেল ৪টার মধ্যে কোনো সুরাহা না হলে বাকি চারটি আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ২৫টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বামরা। বাকি ১৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল সোমবার। শেষমেশ তা হয়নি। এদিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে বিমান বসু গতবার কংগ্রেসের জেতা উত্তর মালদহ, দক্ষিণ মালদহ, জঙ্গিপুর এবং বহরমপুর—এই চারটি আসন ছেড়ে বাকি ১৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন।

বিমানবাবু জানান, মুর্শিদাবাদ থেকে এবার তাঁদের প্রার্থী হচ্ছেন মহম্মদ বদরোজ্জা খান। কৃষ্ণনগর থেকে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন শান্তনু ঝা। ব্যারাকপুর থেকে দাঁড় করানো হচ্ছে গার্গী চট্টোপাধ্যায়কে। বসিরহাটে শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী নুসরত জাহানের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে পল্লব সেনগুপ্তকে। তৃণমূলের আরেক তারকা প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে যাদবপুরে দাঁড়াচ্ছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

তবে কংগ্রেসের তরফে এদিনও আসন সমঝোতার ইঙ্গিত মেলেনি। সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তা উড়িয়ে দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। এদিন তিনি বলেন, ‘বামদের প্রস্তাব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় আমাদের পক্ষে। বীরভূমে কাকে দাঁড় করানো উচিত, দার্জিলিংয়ে কাকে দাঁড় করানো উচিত, সব ওরা ঠিক করে দেবে? তা হতে পারে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাস করতে গেলে তিরিশ নম্বরের দরকার হয়। সেটা বোধ হয় ভুলে যাচ্ছেন ওঁরা। তাই আটাশ পেয়েই লাফাচ্ছেন। বাকি দুই নম্বরের জন্য যে আমাদের দরকার, সেটা বেমালুম ভুলে যাচ্ছেন। উল্টো অবাস্তব শর্ত চাপাচ্ছেন।’ সোমেনের কথায়, ‘সমঝোতায় যাব না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলাম আমরা। কোনো সময়সীমার দরকার নেই আমাদের। আমার বাড়িতে কে থাকবেন, আর কে থাকবেন না, তা ওঁরা ঠিক করে দিতে পারেন না।’

সোমেনবাবুর কথার পরিপ্রেক্ষিতে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এদিন বলেন, ‘আসন ভাগাভাগি করতে গিয়ে সম্মান-অসম্মান নিয়ে ভাবার সময় নয় এটা। এই মুহূর্তে দেশে সবচেয়ে বেশি অসম্মানিত সাধারণ মানুষ। বিজেপি ও তৃণমূলকে হটিয়ে তাদের রেহাই দেওয়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই কাউকে অনুরোধ করিনি আমরা। বরং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই চারটি আসন ফাঁকা রেখেছি।’ বুধবার বিকেলের মধ্যে কংগ্রেসের তরফে ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে বাকি চারটি আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করে দেবেন বলেও জানান সুজনবাবু। সূত্র : আনন্দবাজার।

 

মন্তব্য