kalerkantho

নিউজিল্যান্ডে মুসলিমরা কেমন আছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে হামলার পর প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়। মারাত্মক প্রাণঘাতী এ হামলাকে নিউজিল্যান্ডের অন্ধকারতম দিনগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটির বেশির ভাগ মানুষ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে বিশ্বাসী। এর পরও ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটল। ভুক্তভোগী মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো :

জনসংখ্যা

২০১৩ সালের সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী নিউজিল্যান্ডে প্রায় ৪৬ হাজার মুসলমান বসবাস, যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ। ২০০৬ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে মুসলমান বেড়েছে ২৮ শতাংশ এবং তাদের মাত্র এক-চতুর্থাংশের জন্ম নিউজিল্যান্ডে। এ সময়ে ধর্মান্তরিত হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। অন্য ধর্ম, স্থানীয় বা ইউরোপীয় জাতিগোষ্ঠী থেকে মুসলমান হয়েছে অনেকেই। ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা মুসলমানদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘আমরা ২০০টির বেশি জাতি ১৬০টি ভাষা নিয়ে গর্বিত জাতি। সেই বৈচিত্র্যের মধ্যে আমরা সাধারণ মূল্যবোধগুলো ভাগাভাগি করে থাকি। রেওয়াজ অনুযায়ী, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছি।’

অখণ্ডতা

হামলার পর ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মুস্তফা ফারুক জোর দিয়ে বলেছেন, ‘দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় এ দেশে মুসলিম সম্প্রদায় সব সময় নিরাপদ বোধ করে। আমরা বিশ্বের নিরাপদতম দেশে বাস করি। এমন কিছু ঘটুক, আমরা কখনোই আশা করি না।’

মুস্তফা ফারুক বলেন, মুসলমানরা ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করে আসছে। কিন্তু কখনোই এমন ঘটনা ঘটেনি। সে কারণে নিউজিল্যান্ড সম্পর্কে আমাদের মনোভাব বদলায়নি।

গবেষণা বলছে, মাওরি ও ইউরোপীয় সহকর্মীদের তুলনায় মুসলিম সম্প্রদায়ের তরুণরা নিউজিল্যান্ডের জীবনযাত্রার সঙ্গে নিজেদের বেশি খাপ খাওয়াচ্ছে। ২০১০ সালে ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলিংটনস সেন্টার ফর অ্যাপ্লায়েড ক্রস কালচারাল রিসার্চে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মনোভাব

সামগ্রিকভাবে নিউজিল্যান্ডে মুসলিম সম্প্রদায়কে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই টিকে থাকতে হয় বলে ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে। এতে দেখা যায়, মুসলিম অভিভাসীরা দেশটির আদিবাসীদের কাছে অপেক্ষাকৃত কম আনুকূল্য পেয়ে থাকে। চীন, ফিলিপাইনের মতো এশিয়ান দেশগুলো থেকে আসা অভিভাসীদের তুলনায় পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার মতো মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব বেশি দেখায় স্থানীয়রা। ২০১৫ সালে এক অনুসন্ধানে স্থানীয় পত্রিকা নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড দেখিয়েছে, মুসলমানরা অন্যান্য ধর্মগোষ্ঠীর তুলনায় অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন হলেও তাদের চাকরি পাওয়া বেশ কঠিন।

উত্তেজনা

২০০৬ সালে নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যমে একটি কার্টুন প্রকাশিত হওয়া নিয়ে বেশ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এটিকে ধর্মবিরোধী আখ্যা দিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মুসলিম সম্প্রদায়। শত শত মানুষ বিক্ষোভ করে। এমন পরিস্থিতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের ‘অসুস্থ বিচার’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেন। যদিও তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে সব সময় সরব ছিলেন। ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পর গতকাল হেলেন বলেছেন, ‘এটি একটি জঘন্যতম ঘৃণ্য অপরাধ।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য