kalerkantho


ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সহায়তা

ত্রাণ না ট্রয়ের ঘোড়া?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনুন্নত একটি শহর এল ভালে। সেখানকার একটি চত্বরে কয়েক শ মানুষ সমাবেশ করার জন্য জড়ো হয়েছে। আয়োজকদের একজন মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়লেন, ‘আমরা সবাই কেন এখানে মিলিত হয়েছি?’ উপস্থিত জনতার উত্তর প্রস্তুত করাই ছিল—‘ভেনিজুয়েলার জন্য’।

এরপর সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত। ভেনিজুয়েলার জাতীয় সংগীতের অর্থ বাংলায় এ রকমটা দাঁড়াবে—সাহসী এ জাতির জয় হোক, যারা একদিন শত্রুদের বিতাড়িত করে শিকল থেকে মুক্ত হয়েছিল।

ভেনিজুয়েলার জাতীয় সংগীত তাদের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সাক্ষী হলেও এর প্রতিটি বাক্য এখনো প্রাসঙ্গিক; বিশেষ করে দেশটির চলমান রাজনীতির ক্ষেত্রে। 

ক্ষমতার লড়াইয়ে লাতিন আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশটি এখন দুই ভাগে বিভক্ত। ক্ষুধা-দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে একটি অংশ প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে উত্খাতের আন্দোলনে নেমেছে। কিন্তু এই পক্ষটিকে মাদুরো সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের ‘তাঁবেদার’ ছাড়া আর কিছুই মনে করে না।

মাদুরোবিরোধীরা বেশ কিছু দিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে, ভেনিজুয়েলায় বিদেশি ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হোক।

এল ভালের গত বৃহস্পতিবারের মাদুরোবিরোধীদের ওই সমাবেশের এক কোনায় দুই সন্তানকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন লিসেত মারিনা নামের এক নারী। দেশে কর্মসংস্থান না থাকায় তাঁর স্বামী পাড়ি জমিয়েছেন পানামায়। ত্রাণসহায়তা প্রবেশের দাবি জানিয়ে ওই নারী গণমাধ্যমকর্মীদের বলছিলেন, ‘গত কয়েক দশকে অনেক কষ্ট সহ্য করেছি; কিছুই পাইনি। এখন পরিবর্তনের সময় হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ ভেনিজুয়েলায় ত্রাণ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সেই ত্রাণসামগ্রী প্রবেশের অনুমতি দিতে নারাজ প্রেসিডেন্ট মাদুরো। তাঁর চোখে, যুক্তরাষ্ট্রের ত্রাণ সহায়তা ‘ট্রয়ের ঘোড়া’ ছাড়া আর কিছুই না। মাদুরোর অভিযোগ, ত্রাণ পাঠানোর নামে যুক্তরাষ্ট্র আসলে ভেনিজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ করতে চায়।

উল্লেখ্য, গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, ট্রয়ের ঘোড়া ছিল কাঠের তৈরি। গ্রিকরা ওই ঘোড়া তৈরি করে তার ভেতরে প্রথমে সৈনিকদের লুকিয়ে রাখে। এরপর ঘোড়াটি ট্রয় নগরের কাছে নিয়ে রেখে দেয়। ট্রয়বাসী ঘোড়াটিকে শহরের ভেতরে নিয়ে রাখলে রাতের বেলায় সৈন্যরা ঘোড়ার পেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে ট্রয় নগরী দখল করে।

এল ভালের স্থানীয় একটি দাতব্য সংস্থার প্রেসিডেন্ট আলবার্তো কাবাবে বলেন, ‘চলমান সংকট যে রাজনৈতিক একটা ব্যাপার, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এ সংকটের দায় মাদুরোকেই নিতে হবে। যাদের কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে, মাদুরো তাদের একজন।’ তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ২০১৬ সালে ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে বলেছে। আমরা ২০১৭ সালে বলেছি, ২০১৮ সালে বলেছি। এখন ২০১৯ চলছে; প্রচুর মানুষ না খেয়ে মরছে।’

সূত্র : বিবিসি।

 



মন্তব্য