kalerkantho


চীনে সৌদি যুবরাজ

রিয়াদ-তেহরানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কঠিন পরীক্ষায় চীন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



রিয়াদ-তেহরানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কঠিন পরীক্ষায় চীন

ছবি: ইন্টারনেট

ভাবমূর্তি উদ্ধারে এশিয়া সফরের শেষ পর্যায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার চীনে পৌঁছেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গত বছর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যার পর থেকেই কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছেন এমবিএস নামে পরিচিত বিন সালমান।

যুবরাজের দুই দিনের এই সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তাঁদের মধ্যে জ্বালানি ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক চুক্তি নিয়ে কথা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া হয়ে হর্ন অব আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃতি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

চীন সৌদি আরবের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। গত বছর তাদের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ৩৩০ কোটি ডলার। এর আগের বছর সৌদি বাদশাহ সালমান চীন সফর করেন, সে সময় দুই দেশের মধ্যে ছয় হাজার ৫০০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়। এগুলো ছিল মূলত জ্বালানি ও প্রযুক্তিবিষয়ক চুক্তি।

গবেষণা সংস্থা ইউরেশিয়া গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আয়হাম কামাল বলেন, ‘চীনের নেতাদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান এমবিএস। তিনি দেখাতে চান, পশ্চিমা দেশগুলো ছাড়াও তাঁর হাতে বাণিজ্যের অন্য সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাদশাহ সালমানের পর তাঁর নিজের অবস্থানটিও সুসংহত করতে চান তিনি।’

চীনা প্রেসিডেন্ট শি ছাড়াও এ সফরে যুবরাজ চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংয়ের সঙ্গেও বসবেন। ঝেং চীন-সৌদি উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রধান।

পাকিস্তান ও ভারত সফর শেষে এশিয়া সফরের শেষ ভাগে চীনে পৌঁছেন যুবরাজ। কাশ্মীরের পুলওয়ামায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর ৪০ জোয়ান নিহত হওয়ার পর যুববাজের এই সফরটি অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর সফর চলাকালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। যুববার পুলওয়ামা হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কাজ করার ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

যুবরাজের চীন সফরের আগ দিয়েই দেশটি ঘুরে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক দা-কুমড়ার। আঞ্চলিকভাবে ইরানকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে সৌদি। আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রেক্ষাপটে—সেটা সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে হোক, ইয়েমেনের সংকট বা কাতার পরিস্থিতি—সব ক্ষেত্রে দেশ দুটির অবস্থা দুই বিপরীত মেরুতে। অন্যদিকে চীন-রাশিয়ার যে জোট তার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বাণিজ্য, কূটনীতি বা সামরিক—সব দিক থেকেই এরা একে অন্যের ঢাল হিসেবে কাজ করে।

সেদিক থেকে বিবেচনা করতে গেলে যুবরাজের এই জাঁকজমকপূর্ণ সফর ইরানকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলতেই পারে। এই বিষয়টি নিয়েই সতর্ক থাকতে হবে চীনকে। স্থায়ী মিত্রকে না চটিয়ে বাণিজ্য অংশীদারকেও সন্তুষ্ট রাখতে হবে। এ দুটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই হবে চীনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র : এএফপি, আলজাজিরা।



মন্তব্য