kalerkantho


সৌদিকে পরমাণু প্রযুক্তি দিতে তাড়াহুড়া!

আরেকটি তদন্তের মুখে ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



আরেকটি তদন্তের মুখে ট্রাম্প

ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক তদন্তের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে আরেকটি তদন্ত শুরু করেছেন দেশটির আইন প্রণেতারা। তাতে দেখা হচ্ছে, সৌদি আরবের কাছে স্পর্শকাতর পরমাণু প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তিনি তাড়াহুড়া করছেন কি না। এ ছাড়া হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তিনি মার্কিন নীতির চেয়ে ব্যবসায়ীদের মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে সে বিষয়টিও।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুল্লি বসানোর পরিকল্পনা করছে—সম্প্রতি এমন একটি খবর নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে এ বিষয়ে তদন্তে নামে মার্কিন পার্লামেন্টের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের (নিম্নকক্ষ) একটি প্যানেল। তদন্তে দেখা যায়, সৌদি আরবে পরমাণু প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সৌদি আরবে পরমাণু স্থাপনা বসানোর কাজ পেতে এবং এ কাজের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার মুনাফা পেতে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করছে।’

মার্কিন আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তখনই কোনো দেশের হাতে পরমাণু প্রযুক্তি তুলে দিতে পারবে, যখন নিশ্চিত হবে যে দেশটি ওই প্রযুক্তি অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করবে না। সৌদি আরব এই নিশ্চয়তা না দেওয়ায় এর আগে একবার একটি চুক্তি বাতিল করে দেয় মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু এবার ট্রাম্প প্রশাসন আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টিকে উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা মনে করেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা চলছে। এ অবস্থায় সৌদি আরবের হাতে পরমাণু প্রযুক্তি তুলে দিলে সেই অস্থিরতা আরো বেড়ে যাবে। সৌদি আরব অবশ্য বলে আসছে, তারা জ্বালানির চাহিদা মেটানোর জন্যই পরমাণু প্রযুক্তি পেতে চায়।

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের তদন্তে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে, যাঁরা বিষয়টির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এর মধ্যে জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী রিক পেরি, ট্রাম্পের জামাতা ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জারেড কুশনার, ট্রাম্পের ‘ইনোগিউরাল’ কমিটির চেয়ারম্যান টম ব্যারাক এবং ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনও আছেন। তদন্তে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে আরেকটি তদন্ত শুরু হয়েছে। তাতে দেখা হবে, পরমাণু প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন কার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে; যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে, নাকি ব্যবসায়ীদের মুনাফাকে।

মহাকাশ বাহিনী গঠনের আদেশে সই

মহাকাশ বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন বিমানবাহিনী দপ্তরের আওতায় নতুন সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা হবে, যার নাম হবে যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ বাহিনী।

ওভাল অফিসে স্বাক্ষরিত এক নথিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ এবং যুদ্ধে সহায়তা—দুই ধরনের কাজই করবে এই বাহিনী। তারা দ্রুত ও টেকসই হামলা চালাতে সক্ষম হবে এবং মহাকাশ অভিযানে প্রতিরক্ষা ও সর্বত্র যৌথ অভিযানে অংশ নেবে। এই নথিতে দেখা যায়, মহাকাশে জাতীয় স্বার্থ এবং শান্তিপূর্ণভাবে মহাকাশ ব্যবহারকারীদের স্বার্থ রক্ষা, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনীতি, ব্যক্তি ও জোটের স্বার্থ রক্ষা এবং আগ্রাসনে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে এই বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।

ট্রাম্প মহাকাশ বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বাহিনী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছি। আমাদের ভালো লাগুক বা না লাগুক মহাকাশের দিকেই যাচ্ছি আমরা। এটাই পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’ সূত্র : বিবিসি, এএফপি।



মন্তব্য