kalerkantho


কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত পাকিস্তান

আক্রান্ত হলে পাল্টা জবাব দেব : ইমরান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



আক্রান্ত হলে পাল্টা জবাব দেব : ইমরান

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাকিস্তান আগেই জানিয়েছিল। এতে শোক এবং প্রমাণ সাপেক্ষে সহায়তার প্রস্তাব ছিল। এই দুটি অনুভূতিকে ধরে রেখে আরো দু’কদম এগিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভারতে চাইলে তাঁর দেশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কাশ্মীর সংকটের স্থায়ী সমাধানে আলোচনাতেও রাজি পাকিস্তান। তবে ভারত যদি হামলা চালায় তাহলে ‘চড়া মূল্য শুধতে হবে তাদের। পাকিস্তান পাল্টাহামলার পরিকল্পনা করবে না, হামলা চালাবে।’

পাকিস্তানের জাতীয় টেলিভিশনে গতকাল মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি নয়াদিল্লির কাছে কাশ্মীরে গত ১৪ ফেব্রুয়ারির হামলায় ইসলামাবাদের হাত থাকার অভিযোগের প্রমাণ দাবি করেন। ওই হামলায় ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর ৪১ জোয়ান নিহত হয়। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করে। এর পরপরই ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেন ভারতীয় কর্মকর্তারা।

পাকিস্তান ঘটনার পর থেকেই ভারতের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গতকাল ইমরান ভাষণে বলেন, ‘কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী যদি পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালায় তাহলে তারা আমাদের শত্রু। বিষয়টি আমাদের স্বার্থপরিপন্থী।’ তিনি ভারতের উদ্দেশে বলেন, ‘পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আপনাদের কাছে যদি কোনো কার্যকর তথ্য থাকে, আমাদের দিন। আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আমরা ব্যবস্থা নেব।’ তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু করা খুব সহজ; কিন্তু এর পরিণতি ভালো হবে না।’ তিনি আশা করেন সবার মধ্যেই শুভবুদ্ধির উদয় হবে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সফরের কারণে গত কয়েক দিন বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেননি জানিয়ে ইমরান বলেন, ‘ভারতের নির্বাচনী বছর এটা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারে ভোট কিছুটা বাড়বে’—বিষয়টি তিনি বোঝেন। তবে আফগানিস্তান ইস্যুর মতো কাশ্মীর সংকট মীমাংসারও একমাত্র পথ আলোচন’। তিনি বলেন, ‘কেউ এখান (পাকিস্তান) থেকে সন্ত্রাস করতে যাবে অথবা বাইরে থেকে এসে এখানে সন্ত্রাস করবে—কোনোটিই মেনে নেওয়া হবে না। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, নতুন চিন্তাধারার নতুন পাকিস্তান এটা। সন্ত্রাস এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সংকট এবং আমরা এর নির্মূল চাই।’

তবে ইমরানের চাওয়া বাস্তব ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হবে তা নিশ্চিত নয়। এরই মধ্যে দুই দেশই যার যার হাইকমিশনারকে দেশে ডেকে পাঠিয়েছে আলোচনার জন্য। কাশ্মীরে জঙ্গি দমনে অভিযানে নেমেছে ভারতীয় বাহিনী। গতকাল এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী নিহত হয়েছে বলে জানায় তারা। এর আগের দিন এক অভিযানে চার ভারতীয় সেনাসহ ৯ জন নিহত হয়। এ ছাড়া ভারতের কাশ্মীরের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কে জে এস ধিলন অভিযোগ করেছেন, গত সপ্তাহে কাশ্মীরের পুলওয়ামার হামলায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) হাত ছিল। পুরো ঘটনাটি তাদের নিয়ন্ত্রণেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।

এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি গতকাল সকালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে জাতিসংঘ মহাসচিক আন্তোনিও গুতেরেসের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এক বার্তায় কুরেশি বলেন, উত্তেজনা প্রশমনে জাতিসংঘের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এ ছাড়া এ সপ্তাহেই চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে পাকিস্তানের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি (এসএসসি)। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বে এ সভায় দেশটির সর্বোচ্চ সামরিক-বেসামরিক নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, পিটিআই।

 

 



মন্তব্য