kalerkantho


‘ঘরে’ ফিরতে চান আইএস যোদ্ধাপত্নী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি

লন্ডন প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



চার বছর আগে লন্ডন থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদলে যোগ দেওয়া তিন ব্রিটিশ কিশোরীর একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগম লন্ডনে ফিরে আসতে চান। ১৫ বছর বয়সে পালিয়ে যাওয়া শামীমার বয়স এখন ১৯ এবং তিনি তৃতীয়বারের মতো গর্ভবতী। ব্রিটিশ দৈনিক টাইমসের সাংবাদিক অ্যান্থনি লয়েডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেছেন, আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ার যাওয়ার জন্য তিনি অনুতপ্ত নন। তবে অনাগত সন্তানের জন্য লন্ডনের বেথনাল অ্যান্ড গ্রিন এলাকায় পরিবারের কাছে ফিরতে চান তিনি।

২০১৫ সালের শুরুর দিকে বেথনাল গ্রিন একাডেমির নবম শ্রেণির ছাত্র শামীমা ও তাঁর সহপাঠী আরেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি খাদিজা সুলতানাসহ তিন তরুণী আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। আইএস জঙ্গিদের ওপর বোমা হামলায় খাদিজা নিহত হয়েছেন বলে শামীমা জানিয়েছেন। তবে আমিরা আব্বাসি নামের তাঁদের অন্য সহযাত্রীর ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানা যায়নি।

সিরিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে গিয়ে ধর্মান্তরিত এক ডাচকে বিয়ে করা শামীমা এখন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এর আগেও তাঁর দুটি সন্তান হলেও তারা মারা গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সিরিয়ায় শরণার্থী শিবিরে বসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেছেন, ‘শিরশ্ছেদ করা মস্তক’ ময়লার ঝুড়িতে দেখেছেন তিনি। তবে তাতে ‘খুব একটা খারাপ লাগেনি’ তাঁর।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন যুক্তরাজ্য ছাড়েন তখন শামীমা ও আমিরার বয়স ছিল ১৫ বছর, আর খাদিজা ছিলেন তাঁদের এক বছরের বড়। বাসায় ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আসেন তাঁরা। সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে চলে যান সিরিয়ায়।

আইএসের ‘খিলাফতের’ কথিত রাজধানী রাকায় পৌঁছে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যদের বিয়ে করতে নতুন আসা মেয়েদের সঙ্গে একটি বাড়িতে ছিলেন শামীমা। ‘আমি ২০ থেকে ২৫ বছরের একজন ইংরেজিভাষী যোদ্ধাকে বিয়ে করার আবেদন জানিয়েছিলাম।’ ১০ দিন পর ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণকারী ২৭ বছরের এক ডাচ যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গেই ছিলেন শামীমা। সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে আইএসের সর্বশেষ দখলে থাকা শহর বাঘুজ থেকে দুই সপ্তাহ আগে পালায় এই দম্পতি।

পরে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইরত সিরীয় যোদ্ধাদের একটি গ্রুপের কাছে আত্মসমর্পণ করেন শামীমার স্বামী। আর তাঁর আশ্রয় হয়েছে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের এই ক্যাম্পে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছে ৩৯ হাজার মানুষ।

এখন অনেক পরিণত হয়েছেন দাবি করে এই তরুণী বলেন, ‘চার বছর আগে যে ১৫ বছরের বোকা ছোট স্কুল বালিকা বেথনাল গ্রিন থেকে পালিয়ে এসেছিল, আমি আর এখন তেমনটি নই।’



মন্তব্য