kalerkantho


‘ইরানবিরোধী’ ওয়ারশ সম্মেলন

ইউরো-মার্কিন বিভাজন আরো স্পষ্ট হলো

এক কাতারে দেখা যাবে নেতানিয়াহু ও আরব নেতাদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ইউরো-মার্কিন বিভাজন আরো স্পষ্ট হলো

‘ইরানবিরোধী’ ৬০ জাতির ওয়ারশ সম্মেলন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রত্যাশা, ইরান ইস্যুতে মার্কিন-ইসরায়েলের অবস্থানে সমর্থন জানাবে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা। কিন্তু দুই দিনের এই সম্মেলনে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ইরানবিষয়ক বিভাজন থেকেই যাচ্ছে। সম্মেলনে নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়ে সে ইঙ্গিতই দিল ইউরোপের শীর্ষ দেশগুলো।

গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় গতকাল রাত) পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশে এই সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাগজে-কলমে একে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সম্মেলন বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আরব রাষ্ট্রগুলো এতে ইরানবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। সম্মেলনে নেতানিয়াহু ও আরব নেতাদের এক কাতারে দেখা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতিকে চেপে ধরার যে আহ্বান জানিয়েছেন, এর প্রতি সমর্থন আদায়েই মূলত এই সম্মেলন আহ্বান করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু ইউরোপের প্রধান রাষ্ট্রগুলো তাতে একমত নয়। কারণ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ছয় জাতির চুক্তি থেকে ওয়াশিংটন বেরিয়ে গেলেও এখনো রয়ে গেছে ইউরোপের দেশগুলো। পোল্যান্ড এ সম্মেলনের সহ-আয়োজক হলেও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকায় পর্যবেক্ষকদের কাছে এটি কৌতূহলোদ্দীপক বিষয়।

ওয়ারশে সম্মেলনের শুরুর দিনেই মাইক পেন্স ও নেতানিয়াহুর যোগ দেওয়ার কথা। আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে সম্মেলনের প্রধান অধিবেশনে তাঁরা দুজন ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ভাষণ দেবেন এবং আরব নেতাদের নিয়ে তাঁরা তাঁদের ‘উদ্বেগের প্রধান ক্ষেত্র’ নিয়ে আলোচনা করবেন। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওয়ারশে পৌঁছে পম্পেও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে দীর্ঘ মেয়াদে ‘ঝুঁকি দূর’ করার জন্য এই বৈশ্বিক জোট একত্রিত হয়েছে। সম্মেলনে নেতানিয়াহু জ্বালাময়ী ভাষণ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাতে তাঁর সঙ্গে অভিন্ন অবস্থানে থাকবেন আরব দেশগুলোর নেতারা। এরই মধ্যে নেতানিয়াহু সিরিয়ায় ইরানি বাহিনীর ওপর হামলা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন এবং এমনকি তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর হামলার খবরও উড়িয়ে দেননি।

তবে সম্মেলনের লক্ষ্য অর্জনে ইউরোপের দেশগুলোকে সেভাবে পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইউরোপের প্রধান দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টই হচ্ছেন শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি। তবে তিনি কেবল উদ্বোধনী পর্বে চতুর্মুখী এক আলোচনায় ইয়েমেনের মানবিক সংকট নিয়ে কথা বলবেন। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও ব্রিটেনের মধ্যে এ আলোচনা হবে। এ ছাড়া অন্য ইউরোপী দেশগুলো তাদের নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠাবে সম্মেলনে। সূত্র : এএফপি।

 

 



মন্তব্য