kalerkantho


উইঘুর সুরকারের মৃত্যু

চীনে বন্দিশিবির বন্ধের দাবি তুরস্কের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



চীনে উইঘুর বন্দিশিবিরে আটকাবস্থায় জনপ্রিয় সুরকার আবদুরেহিম হেয়িতের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। চীনের ওই বন্দিশিবিরগুলোয় নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তা বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তুরস্ক। উইঘুরদের প্রতি চীন সরকারের দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে।

তবে চীন সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়ের সুরকার হেয়িতের মৃত্যুর ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। ওই স্থাপনাগুলোকে ‘পুনঃশিক্ষা ক্যাম্প’ বলে দাবি করেছে চীন।

গত শনিবার বন্দিশিবিরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। একটি গানের কারণে চীন সরকারের রোষানলে পড়েন তিনি। ২০১৭ সালে তাঁকে আটক করে জিনজিয়াং প্রদেশে বন্দিশিবিরে রাখা হয়। তাঁকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় বলে ধারণা করা হয়। তবে বন্দি অবস্থায় দ্বিতীয় বছরেই তাঁর মৃত্যু হলো। জিনজিয়াং প্রদেশে কমপক্ষে ১০ লাখ উইঘুর বন্দিশিবিরে রয়েছে বলে অভিযোগ।

গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১০ লাখ উইঘুরকে চীনের ‘সন্ত্রাসবাদ’ কেন্দ্রগুলোয় আটক রাখা হয়েছে। ২০ লাখ মানুষকে ‘রাজনৈতিক ও রাজনৈতিক পুনর্বিবেচনার শিবিরে’ অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়েছে। চীন সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কমিটির প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদও জানায় শি চিনপিংয়ের দেশ।

আবদুরেহিম হেয়িত জনপ্রিয় ‘দোতারা’ বাদক ছিলেন। তিনি বেইজিংয়ে সংগীত বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ‘বাবা’ শিরোনামে একটি গানের জন্য তাঁকে আটক করা হয়। উইঘুর সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে শ্রদ্ধাশীল হতে অনুপ্রেরণামূলক গান ছিল সেটি। ‘উইঘুর’ কবিতা থেকে গানের কথা নেওয়া হয়েছিল। গানের এক জায়গায় ব্যবহৃত ‘যুদ্ধের শহীদরা’ শব্দ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয় চীন কর্তৃপক্ষ। হেয়িত সন্ত্রাসবাদকে এই গানের মাধ্যমে উসকানি দিয়েছেন বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ।

হেয়িতের মৃত্যুর পর গত শনিবার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামি আকসয় এক বিবৃতিতে বলেন, এটা এখন আর গোপন নেই যে ১০ লাখেরও বেশি উইঘুরকে বন্দি রাখা হয়েছে। যারা বাইরে আছে তারা ‘প্রবল চাপের মধ্যে’ আছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন তিনি। উইঘুররা চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলের তুর্কিভাষী মুসলিম জনগোষ্ঠী। আকসয় বলেছেন, ‘একুশ শতাব্দীতে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের পুনঃপ্রবর্তন এবং উইঘুর তুর্কিদের বিরুদ্ধে চীনা কর্তৃপক্ষগুলোর পদ্ধতিগত আত্তীকরণ নীতি মানবতার পক্ষে অত্যন্ত বিব্রতকর।’ সেখানকার ‘শোচনীয় মানবিক পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য’ তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র : বিবিসি।



মন্তব্য